Image description

সারা দেশে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে। সুরমা ও কুশিয়ারা ছাড়া সব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির ক্রমশ উন্নতি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। আগামীকালের মধ্যে আত্রাই নদীর পানি কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নওগাঁ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে (২৬-৩০ জুলাই) উজানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার এবং পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য নদনদীর পানি আবার বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। পানি কমা শুরু হতেই বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সাপ্তাহিক ধারণাগত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী সাত দিনে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মা নদনদীর পানি সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারে। এ সময়ে এসব অববাহিকায় বন্যার ঝুঁকি কম থাকবে। একই সময়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৩ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ ও সংলগ্ন ভারতের মেঘালয়, আসাম, ত্রিপুরা এবং পশ্চিমবঙ্গে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে বৃষ্টিপাত তুলনামূলকভাবে বাড়তে পারে।

এফএফডব্লিউসি জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদনদীর পানি সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল ছিল এবং বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। আগামী তিন দিন এই অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কয়েকটি স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবন দেখা দিতে পারে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি বেড়েছে এবং কুশিয়ারা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর মারকুলী (সুনামগঞ্জ) ও ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া সুরমা নদীর ছাতক, কানাইঘাট ও লরেরগড় এবং কুশিয়ারা নদীর শেওলা ও অমলশীদ স্টেশনে পানি সতর্কসীমায় রয়েছে। আগামী এক দিন নদীগুলোর পানি স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী দুই দিন কমতে পারে। এর ফলে আগামী তিন দিনে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের ধরলা ও দুধকুমারের পানি কমেছে এবং তিস্তার পানি সতর্কসীমায় স্থিতিশীল ছিল। এক দিন পানি বেড়ে পরে তা স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে ২৬ থেকে ৩০ জুলাই উজানে বৃষ্টি বাড়লে এসব নদীর পানিও সামগ্রিকভাবে বাড়তে পারে।

সিলেট থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ভারতের আসামের বন্যার পানি নামতে শুরু করায় সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারায় বেড়েছে পানি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, ভারতের মেঘালয়, আসাম ও বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা না থাকায় বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই।

রংপুর থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। রংপুরের নোহারী, লক্সীপারী ইউনিয়নে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তিন দিন আগে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নোহালী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি বসতভিটা, আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে যায়। গতকালও ভাঙন অব্যাহত ছিল।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধার করতোয়া নদীর পানি বেড়েছে। কমেছে ঘাঘট ও তিস্তার পানি। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। জেলার সবগুলো নদনদীর পানি কখনো বাড়ছে, কখনো কমছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে বন্যাভীতি কাজ করছে।

বর্ষা মৌসুম শুরুর পর থেকেই ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট, তিস্তা ও করতোয়া নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে। নদী তীরবর্তী ৪৫টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিলীন হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, সড়কসহ নানা স্থাপনা।