Image description
বাসাবাড়িতেও চরম ভোগান্তি

রাজধানী সহ সারা দেশে দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। জ্বলছে না বাসাবাড়ির চুলা। সিএনজি স্টেশনে দিনভর অপেক্ষার পরও মিলছে না গ্যাস। গ্যাসের অভাবে বেশির ভাগ স্টেশনই ছিল বন্ধ। ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই সংকট গত ক’দিন ধরেই চলছে। চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন যানবাহন চালক ও বাসাবাড়ির বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর অন্তত ৫টি সিএনজি স্টেশন ঘুরে ও বাসাবাড়ির নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র পাওয়া গেছে। সরজমিন ঢাকার গ্যাসের পাম্পগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সিএনজিচালিত অটোরিকশা আর ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ লাইন ধরে অপেক্ষা করছে গ্যাস নিতে। একেকটি গাড়ির চালক অন্তত ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা অপেক্ষা করছিলেন। গ্যাস স্টেশন থেকে গ্যাস না থাকার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে জানিয়ে দিলেও চালকরা ভোর থেকেই লাইনে বসে ছিলেন। কেননা, গাড়ি চালানোর মতো গ্যাস নেই।

নিউ ইস্কাটনের অনুদিপ সিএনজি স্টেশনের গিয়ে দেখা যায়, পাম্পটিতে গ্যাস নিতে গাড়ির সিরিয়াল বাংলামোটর সিগন্যালের কাছে গিয়ে পৌঁছেছে। একটি গাড়ি অন্তুত ৫-৬ ঘণ্টা সময় নিয়ে অপেক্ষা করলে গ্যাস নিতে পারছেন। মগবাজার রেলগেটের যমুনা সিএনজি স্টেশনে ভোর বেলায় কিছুক্ষণ কোনোক্রমে গ্যাস বিক্রি করলেও সারা দিনই বন্ধ ছিলো বিক্রি। সাতরাস্তার আকিজ মটরস গত তিনদিন ধরে বন্ধ। সেখানে কিছু গাড়ি ছিল এলপি গ্যাসচালিত। তেজগাঁওয়ের অল ইন অয়ান লিমিটেড স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানেও দীর্ঘলাইন। গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছেন চালকরা। পাম্পটিতে হ্যান্ডমাইকে প্রচার করা হচ্ছে- পাম্পে গ্যাস নেই, আপনারা চলে যান’। একই এলাকার বিআরটিসির পাম্প- সিটি ফিলিং স্টেশনেও দু’দিন ধরে বন্ধ রয়েছে গ্যাস। তবে, ডিজেল ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে সেখানে।

চালকরা জানান, তাদের বেশির ভাগই একাধিক স্টেশন ঘুরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। আগে দীর্ঘ লাইন দেখে গ্যাস স্টেশন বদলালেও, এখন একদমই বন্ধ রয়েছে সরবরাহ। বেশির ভাগই শূন্য গ্যাস নিয়ে লাইনে অপেক্ষা করছেন।
মহাখালী, তিব্বতসহ সাতরাস্তা এলাকা ঘুরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ঠেলে যাচ্ছিলেন আব্দুর রব। ঠেলতে ঠেলতে তিনি বলেন, কোথাও ঘুরে গ্যাস পাইনি। এখন বাসায় নিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। মগবাজার হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালের লাশ নিয়ে বরিশাল যাবেন সুজন। অনুদিপ স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। সুজন বলেন, চার ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি। গাড়িতে লাশ রেখেই এই দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। একই স্টেশনের মিন্টু নামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক বলেন, সাড়ে ৫ ঘণ্টা লাইন ধরে আছি। আমার গাড়িতে সাড়ে ৬শ’ টাকার গ্যাসের চাহিদা থাকলেও পাবো মাত্র ৩শ’ টাকার।

গ্যাস স্টেশন থেকে জানানো হয়, তারাও গ্যাসের সরবরাহ পাচ্ছেন না। ফলে বন্ধই রাখতে হচ্ছে বিক্রি।

বাসাবাড়িতে জ্বলছে না চুলা: ওদিকে, তীব্র গ্যাস সংকটে পড়েছেন রাজধানীতে বসবাস করা নাগরিকরাও। গ্যাসের অভাবে রান্না করতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। বিশেষ করে, পরিবার-পরিজন নিয়ে যারা বাসাবাড়িতে থাকছেন তাদের ভোগান্তি চরমে। তারা বলছেন, গ্যাসের সংকটে সিলিন্ডার কিংবা বাইরের খাবারের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে তাদের। কোথাও গ্যাস থাকলেও চাপ এতই কম যে, তা দিয়ে রান্না করাই কষ্টকর।