Image description

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন, বাংলাদেশ শুধু সরকার পরিবর্তনের সুযোগই পায়নি; বরং দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আনুগত্য, তদবির ও ব্যক্তিগত প্রভাবের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা প্রশাসনকে নতুন করে গড়ে তোলার বিরল সুযোগ পেয়েছে।

 

প্রত্যাশা ছিল, জনপ্রশাসনে পদোন্নতি, বদলি ও পদায়নের প্রধান মাপকাঠি হবে মেধা, যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা এবং প্রচলিত বিধিবিধান। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পরও প্রশাসনের ভেতরে সেই প্রত্যাশিত কাঠামোগত পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়নি। বরং অভিযোগ উঠেছে, পুরোনো প্রভাবশালী বলয়ের জায়গায় নতুন বলয় তৈরি হয়েছে; ব্যক্তি ও রাজনৈতিক যোগাযোগের ভিত্তিতে পদায়নের সংস্কৃতিও বহাল রয়েছে।

 

শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রশাসনকে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। প্রশাসনের ভেতরে এমন ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যে, যোগ্যতা বা কর্মদক্ষতার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আনুগত্যই গুরুত্বপূর্ণ পদ ও পদোন্নতি পাওয়ার প্রধান শর্ত।

 

এর ফলে বহু দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত হন। অন্যদিকে একটি ক্ষুদ্র কিন্তু ক্ষমতাবান আমলাতান্ত্রিক গোষ্ঠী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ক্ষমতাসীন দল এবং প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলোকে কেন্দ্র করে নিজেদের প্রভাব সুসংহত করে।

 

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ারকে এই ব্যবস্থার একটি আলোচিত উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি চাকরি শেষে তিনি আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গেও যুক্ত হন। তবে এসব অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি এবং তার পক্ষ থেকে সব অভিযোগের জবাবও প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

 

পরিবর্তনের প্রত্যাশা, সংস্কারের অনুপস্থিতি

 

শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জনপ্রশাসন সংস্কার ছিল অন্যতম বড় প্রত্যাশা। কিন্তু সেই সরকারের সময়ে প্রশাসনের কাঠামোগত দুর্বলতা চিহ্নিত করা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পদায়নব্যবস্থা গড়ে তোলা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি—এমন অভিযোগ রয়েছে।

 

সমালোচকদের মতে, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তার পুরো মেয়াদে খুব কম সময়ই সচিবালয়ে যেতেন। জনপ্রশাসনের ভেতরের সংকট, ক্ষমতার বলয় এবং পদায়নব্যবস্থার অনিয়ম নিয়ে তার সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন বা সংস্কার রূপরেখাও প্রকাশ করা হয়নি।

 

বরং জনপ্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয় মোখলেস নামের এক কর্মকর্তাকে, যার বিরুদ্ধে অতীতে দুর্নীতিসংক্রান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ ছিল। পরবর্তী সময়ে তাকে ঘিরে পাঁচ কোটি টাকার কথিত হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা নিয়েও গণমাধ্যমে আলোচনা হয়। তবু তিনি দায়িত্বে বহাল থাকেন।

 

সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেটিও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে প্রশাসনে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি কার্যত অপূর্ণ থেকে যায়।

 

মাঠ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই

 

বাংলাদেশের স্থানীয় প্রশাসনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা ইউএনও এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নির্বাচন পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে এই দুই কর্মকর্তার প্রভাব ব্যাপক।

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নির্বাচনের আগে নিয়োগ পাওয়া অধিকাংশ ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং জেলা প্রশাসকের পদায়ন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগ—এপিডি উইংয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

 

অভিযোগ রয়েছে, ওই সময়ে এপিডি উইংয়ে প্রভাবশালী কর্মকর্তা আরফানুল হকের অধীনে এমন একটি গোষ্ঠী সক্রিয় ছিল, যাদের জামায়াতপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে এমন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেননি।

 

নির্বাচনের আগে বিএনপির নেতারা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করে মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সালাহউদ্দিন আহমদও এপিডি উইংয়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক বলয়ের প্রভাব নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন।

 

বিএনপির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে জেলা প্রশাসক ও ইউএনওদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর দাবি জানায়। তাদের বক্তব্য ছিল, গুরুত্বপূর্ণ মাঠ প্রশাসনিক পদগুলো নিরপেক্ষ না হলে নির্বাচন পরিচালনায় পক্ষপাতের ঝুঁকি তৈরি হবে। তারা নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা করার প্রস্তাবও দেয়।

 

বাংলাদেশের প্রশাসনিক সংস্কৃতির একটি অস্বস্তিকর বাস্তবতা হলো, অনেক কর্মকর্তা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি স্থায়ীভাবে অনুগত নন। বরং যে রাজনৈতিক শক্তি তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসায়, তারা সাধারণত সেই শক্তির প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও পদায়ননির্ভর প্রশাসন এই সংস্কৃতিকে আরও গভীর করেছে।

 

পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলেও জামায়াতও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোট পায়। কয়েকটি উত্তরাঞ্চলীয় জেলা এবং কিছু নির্বাচনী এলাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পদায়ন করা কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রশাসনিক অবস্থান কোনো কোনো ক্ষেত্রে জামায়াতের নির্বাচনী সুবিধা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।

 

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হয়নি। নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীর ভূমিকা তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ ছিল—এমন মতও প্রশাসনের একাংশ থেকে পাওয়া গেছে।

 

এপিডি উইংয়ে টিকে থাকা বলয়

 

নির্বাচনের আগে আরফানুল হককে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। তার জায়গায় খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ফিরোজ সরকারকে নিয়োগ দেওয়া হলেও অভিযোগ রয়েছে, তিনি কার্যকরভাবে দায়িত্ব নিতে পারেননি।

 

ফলে আরফানুল হকের সময়ে এপিডি উইংয়ে প্রতিষ্ঠিত কর্মকর্তাদের প্রভাব বহাল থাকে। ওই সময়ে তিনজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা—যাদের এখানে ‘এফ’, ‘এম’ ও ‘ইউ’ নামে উল্লেখ করা হচ্ছে—বদলি ও পদায়ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন বলে প্রশাসনের একাধিক মহলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এর মধ্যে ‘এফ’কে ঘিরে প্রশাসনের ভেতরে সবচেয়ে বেশি অসন্তোষ রয়েছে বলে দাবি করা হয়। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক এবং অর্থনৈতিক ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন। পরে অর্থনৈতিক ক্যাডার প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে একীভূত হলে তিনি প্রশাসনে অন্তর্ভুক্ত হন।

 

শেখ হাসিনার আমলে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রজীবনে তার শিবির-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলেও পরবর্তী সময়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান।

 

অভিযোগ রয়েছে, কর্মজীবনে তিনি নিজের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা ও সাবেক অর্থনৈতিক ক্যাডারের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাতে ভূমিকা রেখেছেন। তার প্রভাবেই দুই ডজনের বেশি সাবেক অর্থনৈতিক ক্যাডার কর্মকর্তাকে জেলা প্রশাসক করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়, যাদের অনেকের মাঠ প্রশাসনের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল সীমিত।

 

তার বিরুদ্ধে আত্মীয়কে বাণিজ্যসচিব করার পেছনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য কিংবা কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল প্রকাশিত হয়নি।

 

এ কর্মকর্তাকে ঘিরে প্রশাসনের ভেতরে সংঘাতের ঘটনাও আলোচিত হয়েছে। রূপগঞ্জের বর্তমান ইউএনও, যিনি ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায়, পদায়ন নিয়ে বিরোধের জেরে সচিবালয়ে তার সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গাজীপুরের বর্তমান জেলা প্রশাসকও সচিবালয়ের ভেতরে তার প্রভাবের বিরোধিতা করেছিলেন বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।

 

তার পরও ‘টিম এফ’ নামে পরিচিত বলয়টি টিকে রয়েছে।

 

নতুন এপিডি, পুরোনো পদ্ধতি

 

বর্তমানে এপিডি পদে আকনুর নামের এক কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রভাবশালী আমলা ও রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশ অনুযায়ী বদলি ও পদায়নের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন।

 

সচিবালয় কাভার করা সাংবাদিকদের অভিযোগ, অনেক কর্মকর্তা নিজেদের দপ্তরে নিয়মিত না বসে দিনের একটি বড় সময় এপিডির কক্ষে অবস্থান করেন। দুপুরের বিরতির পর আবার একই তৎপরতা শুরু হয়। বদলি ও পদায়নের অনেক আদেশ অফিস সময়ের পর, এমনকি গভীর রাতেও প্রকাশ করা হয়।

 

প্রশাসনের ভেতরের অভিযোগ অনুযায়ী, দিনের শুরু থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, প্রভাবশালী আমলা এবং ক্ষমতাকেন্দ্র থেকে ফোন ও সুপারিশ আসতে থাকে। যার পক্ষে সবচেয়ে বেশি তদবির আসে, দিনের শেষে তার পছন্দের পদায়ন আদেশ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে।

 

ছাত্রদলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে কারা যেতে পারবেন, কারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাবেন এবং কারা ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকবেন—এসব সিদ্ধান্তেও এখন একটি আমলাতান্ত্রিক বলয় প্রভাব বিস্তার করছে।

 

তার মতে, এর ফলে রাজনৈতিক নেতৃত্বও তৃণমূল, ছাত্র ও যুব নেতৃত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে এমন একটি সুরক্ষিত প্রশাসনিক দেয়াল তৈরি হচ্ছে, যা অতীতে শেখ হাসিনার সময়েও দেখা গিয়েছিল।

 

নীতিমালা আছে, ন্যায়সংগত পদায়ন নেই

 

জনপ্রশাসনের প্রচলিত নীতিমালায় স্বামী-স্ত্রী দুজন সরকারি কর্মকর্তা হলে তাদের কাছাকাছি কর্মস্থলে পদায়নের বিষয়টি বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য পারিবারিক জীবন স্বাভাবিক রাখা এবং কর্মদক্ষতা নিশ্চিত করা।

 

কিন্তু বাস্তবে শত শত কর্মকর্তা স্বামী বা স্ত্রী থেকে দূরে কর্মরত। অন্যদিকে রাজনৈতিক যোগাযোগ, অর্থ, ক্ষমতাবান পৃষ্ঠপোষক কিংবা প্রভাবশালী আমলার সুপারিশ থাকলে পছন্দের কর্মস্থল পাওয়া তুলনামূলক সহজ হয়ে যায়—এমন অভিযোগ প্রশাসনের ভেতরেই ব্যাপক।

 

এ বৈষম্য কর্মকর্তাদের মনোবল দুর্বল করছে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে দায়িত্ব বণ্টনের পথ সংকুচিত করছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কারণ মাঠ প্রশাসনে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বদলে তদবিরের ভিত্তিতে কর্মকর্তা বসানো হলে সেবার মান ও নিরপেক্ষতা দুটোই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

 

নাম বদলেছে, ব্যবস্থা বদলায়নি

 

শেখ হাসিনার আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে কেন্দ্র করে যে আমলাতান্ত্রিক বলয় তৈরি হয়েছিল, সেটি রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ধীরে ধীরে বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছে তথ্য পৌঁছাত বাছাই করে, আর পদায়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাবশালী আমলাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়তে থাকে।

 

বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের কাঠামো নতুন নামে ফিরে আসছে—এমন আশঙ্কা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। ব্যক্তি বদলেছে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব বদলেছে, কিন্তু আনুগত্যের বিনিময়ে পদায়ন, তদবিরের ভিত্তিতে বদলি এবং প্রভাবশালী বলয়ের মাধ্যমে প্রশাসন নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি বদলায়নি।

 

এই ব্যবস্থা সংস্কার না হলে প্রতিটি সরকারই নতুন নতুন কবির বিন আনোয়ার তৈরি করবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যিনিই থাকুন না কেন, প্রশাসনের ভেতরে যদি জবাবদিহি, স্বচ্ছতা, যোগ্যতা এবং বিধিভিত্তিক পদায়ন নিশ্চিত না হয়, তবে সরকার পরিবর্তন হবে—কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার পুরোনো রোগ বহাল থাকবে।