Image description
২৪ ঘণ্টায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত

সকাল থেকে টানা ভারী বৃষ্টি। এ বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম সড়কসহ অলিগলি। সবখানেই দেখা গেছে জলাবদ্ধতার চিত্র। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে ভেঙে পড়ে নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। স্থবির হয়ে পড়ে সড়কে যানবাহন চলাচল। এমনকি স্বল্প দূরত্বে চলাচলের জন্য মেলেনি রিকশাও। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে কর্মজীবী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাসহ জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষ। অফিসগামী মানুষের দুর্ভোগের শেষ ছিল না। অনেকেই নির্ধারিত সময়ে অফিসে পৌঁছাতে পারেননি।

গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের তথ্য দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করা হয়। বৃষ্টিতে মোহাম্মদপুর, মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকা, ইসিবি, মালিবাগ, শান্তিনগর, সায়েদাবাদ, আগারগাঁও থেকে জাহাঙ্গীর গেটমুখী নতুন সড়ক, খামারবাড়ি থেকে ফার্মগেট, ফার্মগেট-তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড-সংলগ্ন এলাকা, শনির আখড়া, পুরান ঢাকার বংশাল ও নাজিমউদ্দিন রোড, ধানমন্ডি, মিরপুর ১৩, কালশী, হাতিরঝিলের একাংশ, বনানী, গুলশান লেকপাড়, কালাচাঁদপুর এবং বারিধারার সংযোগ সড়কসহ নগরীর অসংখ্য সড়ক ও অলিগলিতে দেখা দেয় তীব্র জলাবদ্ধতা। কোথাও কোথাও নর্দমার পানি উপচে সড়কে মিশে যাওয়ায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

জলাবদ্ধতার পানিতে অনেক বাস, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল বিকল হয়ে পড়ে রাস্তায়। কয়েকটি এলাকায় সিএনজি ও গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চালকদের ঠেলে নিয়ে যেতে দেখা যায়। রিকশা ও ভ্যানচালকরা বাড়তি ভাড়া হাঁকলেও পানি বেশি থাকায় অনেক রাস্তায় তারাও চলাচল করতে পারেননি। দোকানপাটে পানি ঢুকে মালপত্র নষ্টের শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা তড়িঘড়ি করে জিনিসপত্র উঁচু জায়গায় সরিয়ে রাখেন। গুলশান লেকপাড়ে একটি সড়কে কিছু অংশ ধসে পড়ে। কোথাও কোথাও হাঁটু সমান পানি থাকায় যানচলাচল ধীর হয়ে পড়ে। এতে তৈরি হয় তীব্র যানজট। সড়কে পানি থাকায় পথচারীদের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। ফুটপাত তলিয়ে যাওয়ায় তারা প্রধান সড়ক দিয়ে হাঁটতে বাধ্য হন। তবে দুপুরের পর বৃষ্টি কমে যাওয়ায় সন্ধ্যায় অনেক এলাকার রাস্তার পানি নেমে যায়।

শেওড়াপাড়ায় প্রধান সড়কের পাশাপাশি পাশের গলিগুলোও পানির নিচে তলিয়ে যায়। ধানমন্ডি ২৭ ও ৩২ নম্বরের পেছনের রাস্তা ও মোহাম্মদপুরের বেশ কিছু আবাসিক এলাকায় হাঁটু সমান পানি জমে। এ ছাড়া গ্রিন রোড, পান্থপথ ও কলাবাগানের ভেতরের রাস্তাগুলোতেও কয়েক ঘণ্টা ধরে পানি জমে আছে। মিরপুরের কাজীপাড়ার বাসিন্দারা জানান, অনেক জায়গায় পানির উচ্চতা হাঁটুর ওপরে উঠে যাওয়ায় মানুষ কার্যত ঘরে বন্দি হয়ে পড়েছে। সরু গলি থেকে প্রধান সড়কে আসা বাসিন্দাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, সড়কে গাড়ি চলার ফলে যে ঢেউ তৈরি হচ্ছে, তাতে হাঁটা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। যেহেতু ফুটপাত পানির নিচে, তাই আমরা মূল রাস্তা দিয়ে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছি। শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ রুবেল হোসেন বলেন, প্রতিবার বৃষ্টি হলেই এই একই অবস্থা হয়। সকাল থেকেই রাস্তায় হাঁটু পানি জমে থাকে, বাসা থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। মনে হচ্ছে এখানে কোনো কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই।

জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও। বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পূর্বনির্ধারিত অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী র্যাম্পের নিচের অংশসহ বনানী, খিলক্ষেত, ঢাকা গেট এবং মহানগরের বিভিন্ন নিচু এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোয় যানবাহনের চলাচলে গতি ধীর হয়। এ ছাড়া কয়েক জায়গায় যানজট তৈরি হয় বলে জানায় ট্রাফিক গুলশান বিভাগ।

বিশেষ করে কাকলী মোড়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নেমে আসা যানবাহন এবং নিচের সড়কে চলাচলকারী যানবাহনকে অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হয়। ধানমন্ডি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন ভবনের নিচতলায় পানি ঢুকেছে। অনেক ভবনের নিচতলায় থাকা গ্যারেজও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই ধানমন্ডির ৬/এ এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তবে এবার টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অনেক জায়গায় হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় রিকশা, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মেজবাহ উল সীমান্ত জানান, বাবার জন্য জরুরি ওষুধ কিনতে বাইরে বের হয়ে দেখেন, সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে আছে। এ অবস্থায় জরুরি প্রয়োজনে চলাচল করাও অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ধানমন্ডি এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও অবকাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বর্ষা মৌসুমে এ এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যা এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি। নয়াপল্টনের লম্বা সড়কে কোমরসমান পানি দেখা গেছে। এ সড়কে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়। কার্যালয়ের নিচতলায় পানি ঢুকেছে। সরেজমিন দেখা গেছে, ফুটপাতের ওপর দিয়ে পানি বিএনপির অফিসের নিচের তলার সিঁড়ির কাছে থইথই করছে। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সকালে অফিসে যান, দুপুরে যখন তিনি কার্যালয় থেকে বের হন, তখন ভেতরে একটি রিকশা নিয়ে তারপর তাকে বাইরে আনা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের কর্মী সোহেল মাহমুদ বলেন, নয়াপল্টনের সড়কে পানি এত বেশি আটকে আছে যে, পুরো সড়কটাই ডুবে গেছে। যান্ত্রিক যানও চলতে পারছে না পানি কারণে। কারণ ইঞ্জিনে পানি ঢুকলে বন্ধ হয়ে যায়। বিএনপির অফিস কর্মী শামীম বলেন, সকাল থেকে পল্টনের সড়কের পানি জমতে শুরু করে। সকাল ৯টার আগে ফকিরের পুল মোড় থেকে কাকরাইল পর্যন্ত লম্বা সড়ক যেন কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতের মতো পানির ঢেউ এসে কার্যালয়ের ভেতরে আছড়ে পড়ছে। আমি অফিসে ছিলাম। আমাদের কয়েকজন সহকর্মীকে পানি ডিঙিয়ে অফিসে আসতে হয়েছে।

গ্রিন রোড এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক সড়ক সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানি আটকে থাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশা চলাচল করতে সমস্যা হচ্ছে। অনেক স্থানে কোনো যান চলাচল করতে পারছে না। এ পরিস্থিতির সুযোগে গ্রিন রোড এলাকায় স্থানীয় কয়েকজন ভ্যানচালক জলাবদ্ধ সড়ক পারাপারের জন্য অস্থায়ী ভ্যানসেবা চালু করেছেন। যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ভ্যানে করে পানি পার হতে দেখা গেছে। গ্রিন রোড এলাকার অনেক দোকান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নিচতলার বিভিন্ন দোকানে পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়ীরা দ্রুত মালপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেক দোকানে ব্যবসা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন মালিকরা।

মঞ্জুর আহমেদ নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, এত পানির মধ্যে চলাচল করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। গন্তব্যে পৌঁছাতে দুইবার গাড়ি পরিবর্তন করতে হয়েছে। প্রথমে ব্যাটারিচালিত রিকশায় কিছুটা পথ এসেছি, এরপর কোমরসমান পানি থাকায় ভ্যানগাড়িতে করে জলাবদ্ধ অংশ পার হতে হয়েছে। যাত্রাবাড়ী, কুতুবখালী, শনির আখড়া ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বেলা সাড়ে ১১টার দিকেও পানির নিচে তলিয়ে ছিল। দৈনিক বাংলা মোড় থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত সড়কে পানি দেখা গেছে। পুরানা পল্টন কালভার্ট রোড হাঁটু পানি জমে আছে। ওই এলাকার ছোট ছোট দোকানে রাস্তার পানি ঢুকেছে।

শাপলা চত্বর থেকে টিকাটুলি মোড় পর্যন্ত সড়কেও পানি আছে। আরামবাগ ও ফকিরাপুল এলাকার অলিগলি তলিয়েছে পানিতে। দিলকুশা ও মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় রাস্তায় যানজট ছিল। এতে অফিসমুখী যাত্রীদের কর্মস্থলে পৌঁছাতে বিপাকে পড়তে হয়। শান্তিনগর, রাজারবাগ, নয়পল্টনের মূল সড়ক ঘুরে প্রায় হাঁটুপানি দেখা গেছে। কাকরাইলের অলিগলিতেও পানি জমে আছে। পানি জমে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের ভেতরেও।

একই পরিস্থিতি দেখা গেছে মিরপুরের বিভিন্ন সড়কে। হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে ডুবে গেছে মিরপুর ১৪, ভাসানটেক সড়ক। জলাবদ্ধতায় থমকে গেছে মিরপুর ১০ হয়ে ১১, ১২ নম্বরের সড়কের যান চলাচল। এমনকি মেট্রোরেলের নিচের ফুটপাতও ডুবে গেছে। টানা বৃষ্টির কবলে জলাবদ্ধতায় নাকাল রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত কারওয়ান বাজার। প্রতিদিন ভোর থেকে বাজার ব্যবসায়ীদের পদচারণায় মুখর বাজারও বৃষ্টিতে স্থবির হয়ে পড়েছে। সামনের সড়কে জমেছে হাঁটু পানি। দূরদূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা কাঁচাবাজার পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত যান না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকের অভিযোগ, এ বৃষ্টিতে রিকশা, সিএনজি কিংবা মিনিট্রাকগুলো দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া চাইছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, নিউমার্কেট ও আজিমপুর এলাকার সড়কগুলোতেও হাঁটুসমান পানি জমেছে। এতে পথচারী ও যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। জলাবদ্ধতায় যাত্রীরা রিকশাচালকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলেও অভিযোগ করেন অনেকে। নীলক্ষেত বই মার্কেটে আসা কবির মিয়া বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে হাঁটা যাচ্ছে না। রিকশা ভাড়া দ্বিগুণ-তিনগুণ করে আদায় করছে। হেঁটে যাব, সে উপায়ও নেই।’

এদিকে বৃষ্টির কারণে সড়কে দুর্ভোগ থাকলেও রাজধানীর খোলা জায়গায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বৃষ্টির পানিতে ভেজা মাঠে তরুণদের ফুটবল খেলায় মেতে উঠতে দেখা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মুহসিন হলের মাঠে খেলতে আসা রেদোয়ান আহমদ বলেন, ‘বৃষ্টির দিনে ক্লাস ক্যান্সেল। তাই বন্ধুদের নিয়ে ফুটবল খেলছি, মজা করছি।’

নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়েছে ২ সিটি করপোরেশন: জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঠে কাজ শুরুর পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জানায়, মানুষের ভোগান্তি কমাতে রোববার ভোর থেকেই তাদের ‘ইমারজেন্সি রেসপন্স টিম’ কাজ করছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনে কমলাপুরের দুটি এবং ধোলাইখালের একটি পানির পাম্প চালু করা হয়েছে।

ওয়াসা, ডিপিডিসি ও তিতাসসহ বিভিন্ন সংস্থার রাস্তা খননের ফলে সৃষ্ট গর্ত এবং ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগগুলো সতর্কতার সঙ্গে এড়িয়ে চলতে নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে ডিএসসিসি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) জানিয়েছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পানি জমে থাকা এলাকায় দ্রুত পানি অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, যন্ত্রপাতি ও ওয়াটার পাম্প সচল রাখা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।

জলাবদ্ধতার কারণ উল্লেখ করে ডিএনসিসি জানায়, স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, নগরায়ণের ফলে পানি ধারণক্ষমতা কমে যাওয়া, অনেক জায়গায় ড্রেন ও খাল ভরাট বা সংকুচিত হওয়া, অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলার কারণে পানি চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং দীর্ঘদিনের পুরোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ।

ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বিভিন্ন স্থানে চলমান পানি নিষ্কাশন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততম সময়ে পানি অপসারণ এবং নাগরিক ভোগান্তি কমাতে সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, ‘নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে বৃষ্টিজনিত জলাবদ্ধতা নিরসনে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট টিমগুলো মাঠে থেকে নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাবে।’

আজিমপুরে ইডেন মহিলা কলেজের ২ নম্বর গেটের বিপরীত পাশে একটি বড় গাছ উপড়ে পড়ে সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যান। তিনি হাঁটুসমান পানিতে দাঁড়িয়ে কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন এবং গাছ অপসারণের কাজ সরেজমিন তদারকি করেন। দুপুর ১টার দিকে গাছটি সরিয়ে নেওয়ার পর ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, ‘টানা ভারী বর্ষণে সাময়িক জলজট তৈরি হলেও আমাদের কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভোর থেকে মাঠে রয়েছেন। জলাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতা দূর করে নগরজীবন স্বাভাবিক রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’