Image description

বাংলাদেশের রুগ্ণ ও বন্ধ তৈরি পোশাক কারখানা অধিগ্রহণ এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছেন চীনা ব্যবসায়ীরা।

গতকাল শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের (ওকাইব) মধ্যে এক মতবিনিময় সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। আজ রোববার (১২ জুলাই) বিজিএমইএর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এসময় চীনা ব্যবসায়ীরা কার্বন ট্রেডিং, গ্রিন প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতিতে বিনিয়োগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে চান তারা।

সভায় পোশাক ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতে সরাসরি চীনা বিনিয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় কারখানার সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্বে ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে আলোচনা হয়। রুগ্ণ বা বন্ধ কারখানার শতভাগ মালিকানা কিংবা শেয়ার অধিগ্রহণের মাধ্যমে নতুন মূলধন বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়।

ওকাইবের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে কার্বন ট্রেডিং নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সোয়েটার শিল্পের আধুনিকায়নে পুরোনো জ্যাকর্ড মেশিন ফেরত নিয়ে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মেশিন সরবরাহে বিশেষ ‘বিনিময় নীতি’ চালুর প্রস্তাবও দেন তারা।

তবে কাস্টমস ও বন্ড-সংক্রান্ত জটিলতা এবং প্রশাসনিক ধীরগতিকে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন চীনা ব্যবসায়ীরা। যন্ত্রপাতির দ্রুত শুল্কায়ন ও পণ্য খালাসের সময় কমানোর পাশাপাশি কার্যকর ‘ওয়ান-স্টপ’ সেবা নিশ্চিত করতে বিজিএমইএর সহযোগিতা চান তারা।

জবাবে বিজিএমইএ নেতারা রেগুলেটরি জটিলতা নিরসনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেন। তারা জানান, স্থানীয় উদ্যোক্তারাও বন্ধ ও সচল কারখানায় চীনা অংশীদারত্বে আগ্রহী। দুই পক্ষের উদ্যোক্তাদের মধ্যে সংযোগ তৈরিতে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বৈঠকে সার্কুলার ফ্যাশন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে চীনের গ্রিন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়। একই সঙ্গে কারখানার উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এআই-চালিত ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি সংযোজনে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিজিএমইএ নেতারা বলেন, বাংলাদেশ এখন উচ্চমূল্যের ও টেকসই পোশাক উৎপাদনে জোর দিচ্ছে। ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ও প্রযুক্তি খাতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে দেশের পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বাড়বে।

ওকাইবের সভাপতি ফেলিক্স চ্যাং বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রশংসা করে নতুন বিনিয়োগ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খানের সভাপতিত্বে সভায় সংগঠনটির সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, ভিদিয়া অমৃত খান ও মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী এবং পরিচালক ফয়সাল সামাদ, শাহ রাঈদ চৌধুরী, নাফিস-উদ-দৌলা ও রুমানা রশীদ অংশ নেন।

ওকাইবের সভাপতি ফেলিক্স চ্যাং ওয়াই সি-এর নেতৃত্বে সংগঠনটির ১৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল সভায় অংশ নেয়।