চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের আওয়ামীপন্থী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহিদ চৌধুরী জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ব্যঙ্গ করে ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন। একই সঙ্গে ফেসবুক পোস্টে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে খারাপ মন্তব্য করেন।
অভিযোগ আছে তিনি সহকারী প্রক্টর থাকাকালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের 'শিবির' আখ্যা দিয়ে ভয়ভীতি ও নির্যাতন করতেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে তার একটি ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। তার পোস্টটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
৩ জুলাই এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, 'জুলাই FDC হতে পারে, জুলাই FDR হতে পারে, জুলাই DPS হতে পারে, জুলাই SWISS হতে পারে, জুলাই 7.62 হতে পারে, জুলাই সিজার হতে পারে। কিন্তু জুলাই CDI কেন হবে ভাই? হুন্ডা CDI একটা ভালো মোটরসাইকেল। সবাইকে আমার জন্ম মাসের শুভেচ্ছা। জুলাই......আস্তাগফিরুল্লাহ (হাই আসছে তো তাই বললাম)।'
এর আগেও গত ২০জুন আরেক পোস্টে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল এবং সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে নিয়ে খারাপ মন্তব্য করেন। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, 'ইদানীং সবাই অন্তর্ঘাতী সরকারকে রাতভর, উপর্যুপরি, পালাক্রমে ঘর্ষণ করছে।'
এ ছাড়া গত ৭ জুন শহীদ ওসমান হাদীকে নিয়েও এক পোস্টে লেখেন, 'সরকার গবেষণা প্রজেক্টের টাকা দিচ্ছে না। হাদী হত্যার বিচার চাই।'
ড. মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহিদ চৌধুরী ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের 'শিবির' আখ্যা দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
২০২২ সালের ২৪ আগস্ট 'সিএনজি সিন্ডিকেট বন্ধ এবং ক্যাম্পাসে চক্রাকারে বাস চালুর দাবিতে' আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে আইন বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী জুবায়ের হোসেন সোহাগ বলেন, আন্দোলনের পর তাকে প্রক্টর কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রক্টোরিয়াল বডির শিক্ষক, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তাকে ঘিরে ধরে মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং 'একটি শিবির পেয়েছি' বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, একপর্যায়ে মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহিদ চৌধুরী আসেন। তিনি আমাকে ধমক দিয়ে গালমন্দ করে বলেন, ‘তুই শিবির করছ? এই হালারপু, চিনস আমারে? তোর বড় ভাইরা আমাকে কত মারছে, জানোস? আমার ইচ্ছা হচ্ছে এখন তরে মেরে হাড্ডি ভাইঙ্গা দিই। কিন্তু শালা, আমার হাত-পা তো এখন বাঁধা। শিক্ষক হয়ে বসে আছি বলে কিছু করতে পারতেছি না। নইলে দেখতি এতক্ষণে তোর কী অবস্থা করে ছাড়তাম। লীগের মাইর খাইছোস কোনোদিন? হ্যাঁ? ’
শনিবার রাত থেকে ড. আবদুল ওয়াহিদ চৌধুরীর বিভিন্ন ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল হক রুবেল তাকে সমর্থন জানিয়ে ফেসবুকে লেখেন, আপনি আমাদের আইকন, স্যার। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় আপনি সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। স্যালুট, স্যার।
এবিষয়ে জানতে ড. মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহিদ চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।