Image description

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। হালদা ও কর্ণফুলী নদীর পানি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন খালের পাড় ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সড়ক, বসতঘর, দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাউজান পৌরসভার ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড, চিকদাইর, ডাবুয়া, কদলপুর, পাহাড়তলি এবং উরকিরচর ইউনিয়ন। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা। একই সঙ্গে চৌমুহনী কাঁচাবাজারও পানির নিচে ডুবে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা তুষার, শ্রাবণ ও মেঘলা জানান, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের পানি দক্ষিণ দাশপাড়ার বসতবাড়িতে ঢুকে পড়েছে। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার কারণে শিক্ষার্থীদের পানি মাড়িয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় যেতে হচ্ছে, যা তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।

বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক, কদলপুর সড়কসহ একাধিক অভ্যন্তরীণ সড়ক ডুবে গেছে। অনেক বাড়িতে খাট পর্যন্ত পানি উঠে এসেছে, কোথাও আবার কোমরসমান বা তারও বেশি পানি জমেছে। কয়েকটি স্থানে সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বন্যার পানিতে পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং কৃষকদের বীজতলা নষ্ট হয়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রাউজান পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানান, ডাবুয়া খালের পাড় ভেঙে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চুলায় আগুন জ্বলছে না। অনেক পরিবার রান্না করতে পারছে না এবং দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছে।

রাউজান পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সমাজসেবক আলী সুমন বলেন, তার এলাকার অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে চলে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুর্গত মানুষের মাঝে শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছেন।

রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রাহাতুল ইসলাম বলেন, “খালের পাড় ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর দ্রুত বাঁধ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পৌরসভার পরিস্থিতিও প্রশাসনের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।”

তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে বলা হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হবে।

শীর্ষনিউজ