বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। বিভিন্ন নদনদীর পানি বেড়ে চলেছে। এতে করে তলিয়ে যাচ্ছে জনপদের পর জনপদ। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
লালমনিরহাট : তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই করছে। এতে তিস্তা ও ধরলা তীরবর্তী এলাকার ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করছে। হুমকির মুখে রয়েছে তিস্তার কয়েকটি পয়েন্ট বাঁধ। এ অবস্থায় নদীপারের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। পানি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৪ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জানা গেছে, তিস্তা ও ধরলার নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই করছে। এতে লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরের বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে নদীপারের মানুষ।
পাশাপাশি গবাদিপশু হাঁসমুরগি নিয়ে বিপদে আছেন নদীপারের বাসিন্দারা। পানি বেড়ে যাওয়ায় জেলার পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, নিজ গড্ডিমারী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না, চর সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈইলমারী, নোহালী, চর বৈরাতি, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, কালমাটি, রাজপুর, গোকুণ্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করায় আবারও বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কুড়িগ্রাম : দুই দিন ধরে ফের বাড়ছে তিস্তাসহ সব কটি নদনদীর পানি। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পানির উচ্চতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের চর ও দ্বীপচরের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন করে তৃতীয় দফা বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
গাইবান্ধা : গাইবান্ধায় করতোয়া ও ঘাঘট নদের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কমেছে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি। এসব নদনদীর পানি বৃদ্ধি বা হ্রাস পেলেও তা বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দুপুর ১২টার তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় করতোয়া নদীর পানি ৭৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩৩০ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদের পানি ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৫৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাঙামাটি : পাহাড়ে কখনো ভারী, কখনো মাঝারি, আবার কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। গতকাল ২৪ ঘণ্টায় ২৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।
এ অবস্থায় রাঙামাটির ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৮০০-এর অধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে রাঙামাটি সদর, বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলাবাসী। বান্দরবান : গতকাল দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় বান্দরবানের কিছু নিম্নাঞ্চল থেকে পানি কমতে শুরু করে। তবে জেলা শহরের আর্মিপাড়া, হাফেজঘোনা, বালাঘাটা, কালাঘাটা, ইসলামপুর, ক্যাচিংঘাটা এবং লামা পৌরসভার প্রধান বাজার, চেয়ারম্যান পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনো ৪-৫ ফুট পানি রয়েছে। এসব এলাকায় সড়কপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগীসহ বাসিন্দাদের সীমাহীন কষ্টে পড়তে হয়েছে। লামা বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বুধবার বিকালে হঠাৎ করে বাজারে পানি ঢুকে যাওয়ায় তাঁরা কোনো মালামাল নিরাপদ স্থানে সরাতে পারেননি।
সিলেট : অতিবৃষ্টির কারণে সিলেটের সব কটি নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিলেটে বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢল অব্যাহত থাকলে সিলেটে বন্যা দেখা দিতে পারে। প্লাবিত হতে পারে নিম্নাঞ্চল। এ ছাড়া টানা বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেটে টিলা ধসেরও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি ও টিলাধস মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলাজুড়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র। জেলার ১৬০টি টিলাকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে পাদদেশে বসবাসকারীদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
নোয়াখালী : নোয়াখালীর উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও অস্বাভাবিক জোয়ারে নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানিতে বসতঘর, ফসলের মাঠ, মাছের ঘের ও রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপকূলের বাসিন্দারা। কৃষকরাও চাষাবাদে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জের নদনদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। জেলার খোয়াই নদীর চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২২০ সেন্টিমিটার এবং মাছুলিয়া পয়েন্টে ১১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এদিকে খোয়াই নদীর বিভিন্ন স্থানে বাঁধে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সদর উপজেলার তেঘরিয়া ইউনিয়নের ভাদৈ ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁধ রক্ষায় কাজ করছেন। তাঁরা বাঁশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে বাঁধ টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
সুনামগঞ্জ : টানা বৃষ্টিপাতে বাড়তে শুরু করেছে জেলার সুরমা, কুশিয়ারা, বৌলাইসহ ছোটবড় সব নদনদীর পানি। জেলার কুশিয়ারা নদীর পানি মারকুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাতে সুরমা নদীর পানি শহরের নবীনগর পয়েন্টে গতকাল সকাল পর্যন্ত ৫১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। খুলনা : টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে খুলনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ নিচু এলাকা। বুধবার মধ্যরাত থেকে গতকাল ভোর ৬টা পর্যন্ত খুলনায় ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
বৃষ্টিতে টুটপাড়া, রয়েল মোড়, মিস্ত্রিপাড়া, আহসান আহমেদ রোড, খানজাহান আলী সড়ক, বাস্তুহারা বাইতিপাড়া, চাঁনমারী, লবণচরা, টুটপাড়া রূপসা নতুন বাজারসহ অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। এসব এলাকার বাড়িঘর অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, লবণচরা এলাকার মতিয়াখালী খালপার এলাকায় অসংখ্য বাসাবাড়িতে পানি ঢুকেছে। ড্রেনের নোংরা পানিতে বাড়িঘর সয়লাব হয়ে গেছে। রান্নাবান্নার কাজ বন্ধ রয়েছে। বাসিন্দারা পার করছে বন্দিজীবন। সকালে অফিসগামী মানুষ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হাঁটুপানিতে বিপাকে পড়েন। ইজিবাইকসহ অন্য যানবাহন পানির মধ্যে চলতে গিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। যেসব স্থানে ঘরে পানি উঠেছে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টার পানি সেচে বের করার চেষ্টা করছে।
মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নে বেশ কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অন্তত ১০ হাজার মানুষ। বন্যায় তলিয়ে গেছে আউশ ফসলের মাঠ।
জেলার মনু নদের পানি চাঁদনী ঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। যেকোনো সময় রাজনগর উপজেলার ভাঙ্গারহাট এলাকায় ভাঙন দেখা দিতে পারে। আতঙ্কে রয়েছে মনু নদের পারের মানুষ। উত্তাল অবস্থায় রয়েছে জেলার কুশিয়ারা ও জুরি নদীর পানি। মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ধলাই নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
গাজীপুর : টানা বর্ষণে গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের একাধিক স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সকাল থেকে সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে। এতে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া অবিরাম বৃষ্টির কারণে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোগড়া বাইপাস, বাইপাস ওভারব্রিজ, বাসন সড়ক, টঙ্গী কলেজ গেট, গাজীপুরা, তারগাছ, ছয়দানা, চৌধুরী বাড়ি এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে যায়। ফলে সকাল থেকেই ওই মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলো অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাচল করতে হয় এবং বিভিন্ন স্থানে যানজটের কবলে পড়ে।
কুমিল্লা : কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর চরাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। এতে আগাম জাতের বিভিন্ন সবজি ও কৃষি ফসল তলিয়ে গিয়ে সহস্রাধিক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গতকাল বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া, ভান্তি ও কামারখাড়া এলাকায় দেখা গেছে, চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ সবজিখেত পানিতে তলিয়ে গেছে। পানির ওপর ভেসে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। কৃষকরা কোমরসম পানিতে নেমে যা সম্ভব ফসল তুলে আনার চেষ্টা করছেন।
বন্যায় ডুবছে দেশ, বিপৎসীমার ওপরে ছয় নদনদীর পানি : উজানে টানা ভারী বৃষ্টির ঢল আর দেশের ভিতরে অব্যাহত বর্ষণের কারণে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ছয়টি নদনদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠেছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে আরও ১১ নদনদী বিপৎসীমা অতিক্রমের ঝুঁকিতে রয়েছে। পূর্বাভাস বলছে, অনেক নদনদীই সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এ অবস্থায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের অন্তত ১৪ জেলার নদনদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল নতুন করে বন্যার কবলে পড়তে পারে অথবা বিদ্যমান বন্যার অবনতি হতে পারে। সূত্র বলছেন, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে সিলেট, সুনামগঞ্জ, বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার।
গতকাল বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সাঙ্গু, মাতামুহুরী, মনু, ধলাই, খোয়াই ও কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ১০টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনে পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জের বল্লা স্টেশনে খোয়াই নদীর পানি ২২০, বান্দরবানে সাঙ্গুর পানি ১৪২ এবং লামায় মাতামুহুরীর পানি বিপৎসীমার ১৫৪ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে।
কেন্দ্রের পূর্বাভাস বলছে, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা, ভুগাই-কংস, সুরমা ও তিস্তার বিভিন্ন অংশ বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। একই সময় ধরলা ও দুধকুমার সতর্কসীমায় পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশের ভিতরে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে আগামী দুই দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এসব এলাকার পাহাড়ি ঢল সরাসরি সিলেট, চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলের নদনদীগুলোতে নেমে আসবে। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পানি বিপজ্জনকভাবে বাড়তে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। ফেনী, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী সাময়িক প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যদিকে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহে নদনদীর পানি দ্রুত বাড়ার কারণে নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে। নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুরে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে এবার বন্যার ঝুঁকি কেবল একটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়। একই সময়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, সিলেট অববাহিকা ও তিস্তা অববাহিকায় পানি বৃদ্ধির পূর্বাভাস পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে। এজন্য জনগণের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের আগাম প্রস্তুতি জোরদার করতে হবে বলে তাঁরা মনে করেন।