চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) ২ লাখ কোটি টাকার বেশি উন্নয়ন বাজেটের অর্ধেকও খরচ করতে পারেনি সরকার। এ সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৪৮ দশমিক ২৩ শতাংশ। বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে মে পর্যন্ত উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৭৬৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। জুলাই-মে সময়ের হিসাবে এটি গত ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বাস্তবায়ন হার।
চলতি অর্থবছরে এডিপির আকার ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা। সাধারণত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে থাকে। কিন্তু এবার তা ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ফলে অর্থবছরের শেষ মাসে ব্যয় বাড়লেও সামগ্রিক বাস্তবায়নের ঘাটতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পাওয়া স্থানীয় সরকার বিভাগ অবশ্য তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। বিভাগটির ২৪৪টি প্রকল্পে ৩৭ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২৫ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের হার প্রায় ৬৮ শতাংশ। স্থানীয় অবকাঠামো, গ্রামীণ সড়ক, পানি সরবরাহ ও নগর উন্নয়ন প্রকল্পগুলো এই ব্যয়ের বড় অংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক
বিভাগের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দের বিপরীতে বাস্তবায়ন হয়েছে ৪৬ দশমিক ২৩ শতাংশ। দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক, সেতু ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প চলমান থাকলেও প্রত্যাশিত গতিতে ব্যয় হয়নি। অন্যদিকে বড় বরাদ্দ পাওয়া মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। ১২ হাজার ২৮ কোটি টাকার বরাদ্দের বিপরীতে বাস্তবায়ন হয়েছে ৮৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। একইভাবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৬৮ দশমিক ৭২ শতাংশ, কৃষি মন্ত্রণালয় ৬৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ প্রায় ৮০ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছে। শিক্ষা খাতে চিত্র মিশ্র। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৮ হাজার ৫৪ কোটি টাকার বরাদ্দের বিপরীতে বাস্তবায়ন করেছে মাত্র ৩৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বাস্তবায়ন ৪৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ। তবে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ ৮৪ দশমিক ৪২ শতাংশ বাস্তবায়ন করে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতেও ব্যয়ের গতি প্রত্যাশার তুলনায় কম। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বাস্তবায়ন হার ২৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের বাস্তবায়ন ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ। স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরঞ্জাম ক্রয়সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পে ধীরগতির প্রভাব এখানে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রেলপথ মন্ত্রণালয় ৪২ দশমিক ৪৬ শতাংশ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ৪০ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৫০ দশমিক ২৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছে। অন্যদিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন ৭২ দশমিক ৫০ শতাংশ। সবচেয়ে দুর্বল পারফরম্যান্স দেখা গেছে কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে। সংসদবিষয়ক সচিবালয় তাদের বরাদ্দের এক টাকাও ব্যয় করতে পারেনি। এ ছাড়া স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ বরাদ্দের ২৫ শতাংশও বাস্তবায়ন করতে পারেনি।