বোর্ডের প্রস্তুতি যথাযথ মনে হচ্ছে না। তাদের কার্যক্রমগুলোর লক্ষণ দেখে মনে হয় না তারা সময়মতো বই ছাপার কাজ শেষ করতে পারবে
শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপার কাজে দীর্ঘসূত্রতা থেকে বেরই হতে পারছে না জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। নানা জটিলতায় এবারও ঈশানে মেঘ (সংকটের পূর্বাভাস) দেখা দিয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে বাকি মাত্র পাঁচ মাস। অথচ বই ছাপার অধিকাংশ টেন্ডার প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি। ওই শিক্ষাবর্ষে নতুন চারটি বই যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হলেও বইগুলো লেখায় হাত দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি বিদ্যমান বইগুলোর পরিমার্জনও চূড়ান্ত হয়নি। এর মধ্যে প্রাথমিকের গত বছরের প্রায় ২০ শতাংশ বইয়ের বিল বকেয়া থাকায় ছাপাখানাগুলোও ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না। ফলে তাদের নতুন ঋণ পাওয়া নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। যার প্রভাব পড়বে আগামী বছরের বই ছাপায়।
এ ছাড়া একসঙ্গে সব টেন্ডার হওয়ার চাপ পড়বে কাগজ মিলগুলোর ওপর। এতে কাগজের কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবার দরপত্রে লটের সংখ্যা কমায় বড় প্রেসগুলোর নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে বই ছাপার কাজ। সব মিলিয়ে আগামী বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে শতভাগ বই পৌঁছে দেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের শঙ্কা। যদিও এনসিটিবি বলছে, রোডম্যাপ অনুযায়ী, নভেম্বরের মধ্যেই সব বই ছাপার কাজ শেষ হবে। জানুয়ারি প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিতে কোনো সমস্যা হবে না।
এনসিটিবি সূত্র জানায়, আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সারা দেশের প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০ কোটি ৬১ লাখের বেশি বই ছাপানো হবে। ৫৮৭ লটে এসব বই ছাপাতে খরচ হবে এক হাজার ৭০০ কোটি টাকার বেশি। এবার প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৮ কোটি ৫১ লাখ ৫৫ হাজার ১৭৮ কপি বই ছাপানো হবে। প্রাক-প্রাথমিকে ৩০ লটে ছাপানো হবে ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০ কপি বই। আর প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য ছাপা হবে ৭ কোটি ৯৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৩৮ কপি বই। এই বই ছাপানোর জন্য লট হচ্ছে ১১০টি। আর ষষ্ঠ থেকে নবম-দশম শ্রেণির জন্য এবার বই ছাপানো হবে ২২ কোটি ১০ লাখ ৪১ হাজার ৪৯৩ কপি। এর মধ্যে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ৭৫ লট করে মোট ২২৫ লটে বই ছাপানো হবে। আর নবম-দশম শ্রেণির বই ছাপানো হবে ১৮০ লট। এ ছাড়া ইবতেদায়ি শ্রেণিতে ৩৬ এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ৩৬ লট ব্রেইল বই ছাপানো হবে।
এদিকে গত বছরের তুলনায় এবার বই ছাপতে লটের সংখ্যা কমেছে ২৩৮টি। গতবার মোট লট ছিল ৮২৫টি, যা এবার কমে দাঁড়িয়েছে ৫৮৭টিতে। দরপত্রে লটের সংখ্যা কমায় বড় প্রেসগুলোর কাছে বই ছাপার কাজ নিয়ন্ত্রিত হতে পারে বলে আশঙ্কা অনেকের।
টেন্ডার বাকি অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির বইয়ের: এনসিটিবি সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার পর্যন্ত অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণি ছাড়া বাকি বইগুলোর টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এই তিন শ্রেণির বইয়ের লট তৈরির কাজ এখনো চলছে। লট তৈরি শেষে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে এই তিন শ্রেণির বইয়ের টেন্ডার হতে পারে। সূত্র জানায়, এই তিন শ্রেণিতেই মোট বইয়ের অর্ধেক ছাপা হবে। মোট ৫৮৭ লটের মধ্যে এই তিন শ্রেণিতেই ২৫৫ লট। আবার বইয়ের সংখ্যাও বেশি। যদি দেরি করে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়, তার প্রভাব পড়বে ছাপার ওপর।
প্রেস মালিকরা বলছেন, টেন্ডার বাছাই, নোহা (নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড) ও ওয়ার্ক অর্ডার পেতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এরপর কাজ শুরু হলে ডিসেম্বরের আগে কোনোভাবেই বই দেওয়া সম্ভব হবে না। ফলে অনেক জায়গায় জানুয়ারির প্রথমদিন সব বই পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া আগে ভাগ ভাগ করে হলেও এবার সব টেন্ডার একসঙ্গে হচ্ছে। একসঙ্গে টেন্ডার হওয়ার ফলে কাগজের মিলগুলোর ওপর চাপ পড়বে। ঋণ জটিলতাসহ নানা কারণে কাগজ কিনতে বেগ পেতে হবে। ফলে অতীতের মতো কাগজের কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া টেন্ডারসহ নানা জটিলতায় দেরিতে কাজ শুরু হলে শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে নিম্নমানের কাগজে বই ছাপার সুযোগ তৈরি হবে। এ সুযোগ কাজে লাগাবেন কিছু অসাধু প্রেস মালিক। আবার সব বইয়ের কাজ একসঙ্গে শুরু হলে ঠিকমতো মনিটরিংও করতে পারবে না এনসিটিবি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট আনোয়ার হোসেন পত্তনদার বলেন, ‘টেন্ডারে দেরি করছে এনসিটিবি। শেষে এসে আমাদের দ্রুত বই দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করবে। এতে আমাদের হিমশিম খেতে হবে কাজ শেষ করতে।’
শেষ হয়নি পুরোনো বইয়ের পরিমার্জন, নতুন চার বইয়ের লেখাই শুরু হয়নি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৬ সালের পাঠ্যবইয়ে ব্যাপক পরিমার্জন করা হয়। চলতি বছর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেও অনেক পরিবর্তন আনছে। এ ছাড়া আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে যুক্ত হচ্ছে চারটি নতুন বইও। এ ছাড়া আইসিটি বইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিকস এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো যুগোপযোগী বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর বাইরেও সব বইয়ে তথ্য, শব্দ ও ভাষাগত নানা পরিমার্জন আনা হবে। পাঠ্যবইয়ের প্রচ্ছদ, ছবি, মানচিত্র ও অলংকরণেও নান্দনিকতা আনা হবে।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যপুস্তক পর্যালোচনা ও পরিমার্জন করতে গত ৪ মে থেকে ৭ মে পর্যন্ত বগুড়ার পল্লি উন্নয়ন একাডেমিতে টানা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়। তথ্যমতে, আগামী বছরের বইয়ে ইতিহাস এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব শ্রেণির এসব বইয়ে জাতীয় বিপ্লব সংহতি দিবস ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বীরত্ব নিয়ে নতুন অধ্যায় যোগ করা হচ্ছে। এ তিনটি বিষয়কে আওয়ামী লীগ আমলে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধসহ আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া অন্যান্য জাতীয় নেতার যার যে অবদান, তা তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নব্বইয়ের গণআন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা অস্পষ্ট ছিল। এবার পাঠ্যবইয়ে তার অবদানের কথা তুলে ধরা হচ্ছে। এ ছাড়া আগামী বছর ষষ্ঠ শ্রেণিতে বাংলা বইয়ে ‘তৃতীয় ভাষার গুরুত্ব’ নামে নতুন এক অধ্যায় পড়ানো হবে। ২০২৮ সাল থেকে পুরোদমে তৃতীয় ভাষায় পাঠ নিতে হবে শিক্ষার্থীদের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব বইয়ে পরিমার্জন কাজ অনেকটা শেষের পথে। ছবি ও প্রচ্ছদের কাজ চলছে। পরিমার্জন শেষে চলতি মাসেই বিদ্যমান বইগুলো সম্পাদনা শেষ হবে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ন্যাশনাল কারিকুলাম কো-অর্ডিনেশনের (এনসিসি) মিটিংয়ে উঠবে। সেখানে চূড়ান্ত হবে।
তবে নতুন বইগুলো লেখার কাজ এখনো শুরু হয়নি। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকের দুটি বই আগামী বছরে যোগ হবে। এগুলো হলো—ক্রীড়া এবং শিল্প ও সংস্কৃতি। তবে বইগুলোর নাম এখনো ঠিক হয়নি। ক্রীড়া বইয়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, কারাতে অথবা দাবা নিয়ে আলাদা অধ্যায় থাকবে। আর শিল্প ও সংস্কৃতি বইয়ে দেশীয় সংস্কৃতির নানা চিত্র উঠে আসবে। এর দুটি বইয়ের জন্য জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে (বিদ্যালয়) আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটি শিগগির সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বই লেখার কাজ শুরু করবে।
এনসিটিবির সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল হায়দার বলেন, ‘এই কমিটি বইগুলোর নাম চূড়ান্তের পাশাপাশি বই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে বই লেখার কাজ করবে। আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে তারা বই লেখার কাজ শেষ করবে।’
অন্যদিকে আগামী বছর মাধ্যমিকের ষষ্ঠ শ্রেণিতে কারিগরি শিক্ষা ও লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস বা আনন্দময় শিক্ষা নামে পৃথক দুটি বিষয় যোগ হচ্ছে। এই বইগুলো এখনো লেখার কাজ শুরু হয়নি। এনসিটিবির সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদুল হক বলেন, ‘এই দুটি বইয়ে কনটেন্ট (আধেয়) কী হবে, তা নিয়ে কাজ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের একটি দল। আগামী মাস থেকেই বইগুলো লেখা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর দুই মাসের মধ্যেই এই কাজ শেষ হবে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব ঠিকঠাক থাকলে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে লেখা শেষ হবে। তারপর সম্পাদনা, ছবি, প্রচ্ছদসহ চূড়ান্ত করতে আরও মাসখানেক সময় লাগতে পারে। ফলে এই বই দেরির প্রভাব পড়বে ছাপার ওপর।
বই ছাপায় জটিলতা বাড়াচ্ছে ২০ শতাংশ বকেয়া বিল: চলতি বছরের প্রাথমিকের বই ছাপার ২০ শতাংশ বকেয়া টাকা এখনো পাননি প্রেস মালিকরা। বই ছাপার সব কার্যক্রম এনসিটিবি পরিচালনা করলেও প্রাথমিকের বইয়ের বিল পরিশোধ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। চলতি শিক্ষাবর্ষে কিছু বইয়ের ফর্মা দুই থেকে চারটি পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় ৬৪টি প্রেসে প্রায় ২২ কোটি টাকার বিল বকেয়া রয়েছে। বিল না পাওয়ায় তারা ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না। বাড়ছে সুদের পরিমাণও। অন্যদিকে এই মাসের মধ্যে ঋণের টাকা পরিশোধ না করলে নতুন করে ঋণ দিতে আপত্তি জানিয়েছে ব্যাংকগুলো।
জানা যায়, বই ছাপার কাজ চলাকালে কাজের ৮০ শতাংশ বিল পান প্রেস মালিকরা। বাকি ২০ শতাংশ বিল পায় পোস্ট ল্যান্ডিং ইন্সপেকশন (পিএলই) এজেন্টের প্রতিবেদন দেওয়ার পর। এই ২০ শতাংশ বিলের সঙ্গে ফর্মা কম-বেশি মিলিয়ে বিল জমা দেওয়া তা আটকে দিয়েছে ডিপিই।
ডিপিইর বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রাথমিকের বই ছাপার জন্য যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, সেখানে বর্ধিত ফর্মার অতিরিক্ত ২২ কোটি টাকা অন্তর্ভুক্ত ছিল না। অন্যদিকে এ বিষয়ে অর্থ সংস্থানের জন্য মন্ত্রণালয়ের ভূতাপেক্ষ অনুমোদন নেওয়া হয়নি। তাই এই জটিলতায় আটকে আছে প্রেসগুলোর ২০ শতাংশ বকেয়া বিল। তা পরিশোধ করতে নারাজ ডিপিই। যদিও এ বিষয় নিয়ে এখনো দেনদরবার চলছে।
প্রাথমিকের কাজ করা ব্রাইট প্রিন্টিং প্রেসের স্বত্বাধিকারী এস এম মহসিন বলেন, ‘প্রতিবছরই ফর্মা কমবেশি হয়। পরে এই বিল সমন্বয় করে দেওয়া হয়। কিন্তু এবার তা দেওয়া হচ্ছে না। এতে ব্যাংকগুলোর লোন পরিশোধ করতে পারছি না। তাই ব্যাংকগুলো জানিয়ে দিয়েছে, লোন পরিশোধ করতে না পারলে তারা আর লোন দেবে না। এতে আগামী বছর কাজ পেলেও তা তুলে আনা কষ্টকর হবে। আবার ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী আমরা কাজ করেছি। এখন বিল পেতে এত ভোগান্তি হলে এনসিটিবির প্রতি আমাদের আস্থার সংকট দেখা দেবে।’
সার্বিক বিষয়ে মুদ্রণ শিল্প সমিতির উপদেষ্টা তোফায়েল খান বলেন, ‘বোর্ডের প্রস্তুতি যথাযথ মনে হচ্ছে না। বোর্ডের কার্যক্রমগুলোর লক্ষণ দেখে মনে হয় না তারা সময় মতো বই ছাপার কাজ শেষ করতে পারবে।’
তবে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, ‘যথাসময়ে সব বই তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। যে সংকটগুলো আছে, তা সমাধানের চেষ্টা চলছে।’