Image description

প্রায় সাড়ে সাত মাস আগে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগের জন্য ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। কিন্তু সবেমাত্র গতকাল বুধবার থেকে ভেরিফিকেশনের কাগজপত্র জেলায় যাওয়া শুরু হয়েছে; নিয়োগের প্রজ্ঞাপন তো দূরের ব্যাপার।

অথচ ৪৫ ও ৪৬তম বিসিএসের ফল পরে প্রকাশিত হলেও তাদের ভেরিফিকেশন শেষের পথে। এই পরিস্থিতিতে নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতায় উৎকণ্ঠা বাড়ছে ৪৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের।

সূত্র জানায়, কোনো কারণ ছাড়া সাড়ে সাত মাস ভেরিফিকেশন আটকে থাকার কথা নয়। সমস্যা থাকলে ভেরিফিকেশন করেই তা সমাধান করা সম্ভব।

কিন্তু সেটা দীর্ঘায়িত করে সুপারিশ পাওয়া মেধাবী প্রার্থীদের চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো কারণও জানানো হয়নি।

পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পিএসসির কাজ পরীক্ষা নেওয়া এবং উত্তীর্ণ প্রার্থীদের চাকরির জন্য সুপারিশ করা। ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের ক্ষেত্রেও আমরা সেই কাজ করেছি।

এর পরের কাজ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের। ৪৯তম বিসিএসের ভেরিফিকেশন কেন দেরি হচ্ছে, তা এখনো তারা আমাদের জানায়নি।’

পিএসসি সূত্র জানায়, ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল ২০২৫ সালের ২১ জুলাই। ৬৮৩টি পদের বিপরীতে মোট তিন লাখ ১২ হাজারের বেশি প্রার্থী আবেদন করেন। প্রতি পদের বিপরীতে আবেদনকারী ছিলেন ৪৫৬ জনেরও বেশি।

২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছরের ১৯ অক্টোবর লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে এক হাজার ২১৯ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ হন। এরপর মৌখিক পরীক্ষা শেষে গত বছরের ১১ নভেম্বর ৬৬৮ জন প্রার্থীকে সুপারিশ করে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়।

চাকরিপ্রার্থীরা বলছেন, ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের (স্বাস্থ্য ক্যাডার) ফল প্রকাশিত হয় গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর। ভেরিফিকেশন শেষে তাদের গেজেট প্রকাশিত হয় চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি। অর্থাৎ ফল প্রকাশের মাত্র সাড়ে চার মাসের মাথায় তাদের গেজেট প্রকাশ করা হয়। অথচ ৪৯তম বিশেষ বিসিএস (শিক্ষা ক্যাডার) হওয়ার পরও সাড়ে সাত মাস পর তাদের ভেরিফিকেশন শুরু হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব আবুল হায়াত মো. রফিক কালের কণ্ঠকে বলেন, একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি বিসিএসের কাজ আমরা করছি। আপনি শাখায় যোগাযোগ করলে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাবেন। একই অনুবিভাগের নবনিয়োগ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব সাবিহা-ফাতেমাতুজ জোহরার কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, খুব বেশি প্রয়োজন বা সংকট হলেই বিশেষ বিসিএসের আয়োজন করা হয়। স্বাস্থ্য ক্যাডারে ডাক্তার সংকট হওয়ায় ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের আয়োজন করা হয়েছিল। অন্যদিকে সরকারি কলেজগুলোতে আগে থেকেই চরম শিক্ষক সংকট। এ ছাড়া তিন শতাধিক কলেজ জাতীয়করণ হওয়ায় শিক্ষকদের সেই সংকট আরো প্রকট হয়েছে। ফলে শিক্ষা ক্যাডারের জন্য ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের আয়োজন করা হয়।

সূত্র জানায়, ৪৫তম বিসিএসের ফল প্রকাশিত হয় গত বছরের ২৭ নভেম্বর, অর্থাৎ ৪৯তম বিসিএসের ফল প্রকাশের ১৬ দিন পর। ৪৬তম বিসিএসের ফল প্রকাশিত হয় চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি, যা ৪৯তম বিসিএসের ৯০ দিন পরে। অথচ এ দুই বিসিএসের ভেরিফিকেশন শেষের পথে।

জানা যায়, ৪৯তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর দ্রুত নিয়োগের আশ্বাস পেয়ে অন্য কোনো চাকরিতে যোগদান করেননি অনেক প্রার্থী। তাঁদের একজন নাম প্রকাশ না করে জানান, এই দীর্ঘ অপেক্ষা আমার ও আমার পরিবারের জন্য খুবই কষ্টের। আমার একটি দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদার সরকারি চাকরি হয়েছিল। যেহেতু বিসিএস হয়েছে, তাই সেখানে আমি স্বাভাবিকভাবেই যোগদান করিনি। এখন আমি চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আশা করছি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আমাদের নিয়োগের জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি করবেন।

আরেকজন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী বলেছেন, এভাবে দীর্ঘ অপেক্ষার ফলে আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েন বেড়েছে। পরিবার ও আশপাশের লোকজন আমাদের নানা ধরনের কটুকথা বলছেন। অনেকে বাঁকা চোখে দেখছেন। অথচ আমার কোনো পলিটিক্যাল আইডেন্টিটি নেই। ছাত্রজীবনে আমি কোনো রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত ছিলাম না। এখন যদি কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে আমাদের খোলামেলাভাবে জানানো উচিত।

নাম প্রকাশ না করে আরেকজন উত্তীর্ণ প্রার্থী বলেন, আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতাম। বিসিএস হয়েছে বলে অনেক আনন্দ-উৎসব করলাম। দ্রুতই গেজেট হয়ে যাবে বলে জানতে পারলাম। তাই ওই বেসরকারি চাকরিটা ছেড়ে দিই। কিন্তু এখন পাঁচ মাস ধরে আমি বেকার অবস্থায় রয়েছি। অথচ আমার উপার্জনের ওপরই আমার পরিবার নির্ভরশীল। ফলে পুরো পরিবার নিয়ে এখন হাবুডুবু খাচ্ছি।