একসময়ের দাপুটে পুলিশ সুপার (এসপি) শেখ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অঢেল সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিজের পদমর্যাদাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দেশের তিনটি ইপিজেডে বেনামে বিশাল শিল্প সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
তিন ইপিজেডে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এসপি রফিকুল তার আত্মীয়স্বজনের নামে তিনটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। এগুলো হলো- নারায়ণগঞ্জ ইপিজেডের মিখাইল প্লাস্টোপ্যাক লিমিটেড, কুমিল্লা ইপিজেডের গ্রিন স্টার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এবং মোংলা ইপিজেডের হানসেং পেপার অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। শেখ রফিকুল ইসলাম ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পটপরিবর্তনের পর তাকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পিরোজপুর জেলায় বদলি করা হয়। জানতে চাইলে শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার এত প্রতিষ্ঠান থাকলে তো চাকরি করা লাগে না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইপিজেডের এসব কারখানা শুল্কমুক্ত সুবিধায় বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করে। নিয়ম অনুযায়ী এসব পণ্য রপ্তানি করার কথা থাকলেও ভুয়া রপ্তানি নথি তৈরি করে কাঁচামালগুলো স্থানীয় খোলা বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ ইপিজেডে অবস্থিত মিখাইল প্লাস্টোপ্যাক লিমিটেড সরকারি আদেশ অমান্য করে নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন করে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এসপি রফিকের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের নেপথ্যে রয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা। কুমিল্লা ইপিজেডের গ্রিন স্টার ইন্টারন্যাশনাল পরিচালনা করছেন তার বেয়াই ও হুন্ডি ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা সোহেল। মিখাইল প্লাস্টোপ্যাক ও হানসেং পেপারের দায়িত্বে রয়েছেন তার খালাতো ভাই মাসুম রহমান বাঁধন এবং মামাতো ভাই আশরাফুল আলম সাধন।
ওই তিন প্রতিষ্ঠানের কিছু ছবি এ প্রতিবেদকের কাছে এসেছে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, এসপি রফিকুল ইসলাম নিজেই তার একটি বিশাল ল্যান্ড প্রজেক্টের ম্যাপ দেখিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক বনভোজন ও বিভিন্ন ট্যুরের ছবিতে মাসুম রহমান বাঁধনসহ এসপির অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন ও কর্মচারীদের উপস্থিতি দেখা যায়। এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, এসপি রফিকুল ইসলাম বিদেশে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং ‘বিপ্লবী তহবিল’ গঠনের নামে বিটকয়েন ও ডিজিটাল কারেন্সির মাধ্যমে বিপুল অর্থ পাচার করছেন। সিগন্যাল, টেলিগ্রাম ও থ্রিমার মতো এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে তিনি এই গোপন নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছেন।
সূত্র জানায়, বিদেশে অর্থ পাচারে বিটকয়েন ব্যবহারের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং গোপনীয়। প্রথমে এসপি রফিকুল ইসলামের মালিকানাধীন মিখাইল প্লাস্টোপ্যাক, গ্রিন স্টার ইন্টারন্যাশনাল ও হানসেং পেপার থেকে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল খোলা বাজারে অবৈধভাবে বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা হয়। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের জন্য প্রচলিত বৈধ ব্যাংকিং ব্যবস্থার পরিবর্তে অবৈধ ‘হুন্ডি’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।