যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার প্রত্যন্ত এক গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান সাইফুল্লাহ মুনছুর। পড়াশোনা ও বেড়ে উঠা সেখানেই। ভেবেছিলেন খুুব সহজে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাবেন। কিন্তু ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেল পেলেন জিপিএ-৪.৮৮। সাইফুল্লাহ জিপিএ-৫ না পাওয়ায় কোনোভাবেই আর পড়ালেখা করাবে না বাবা। পরে শ্রমিক ভিসায় তাকে মালয়েশিয়া পাঠানোর জন্য সিদ্ধান্ত নেন। তবে প্রচণ্ড পরিশ্রম ও মেধায় ঘুরে দাঁড়িয়েন তিনি।
সাইফুল্লাহ মুনছুর আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। এই দীর্ঘ পথচলা এ তরুণের অধ্যবসায়, পরিবর্তন ও আত্মবিশ্বাসের গল্প। শৈশবে মাঠে বাবার সঙ্গে কাজ করা, এসএসসিতে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় মালয়েশিয়ায় শ্রমিক ভিসায় যাওয়ার অনিশ্চিত সিদ্ধান্ত, আবার সেই জায়গা থেকে শিক্ষা জীবনে ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় পৌঁছানো, সব মিলিয়ে তাঁর জীবন একটি অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, গবেষণায় আগ্রহ, সাংগঠনিক নেতৃত্ব এবং পিএইচডি পর্যায়ের অগ্রযাত্রা তাঁকে ধীরে ধীরে একজন শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। চলতি মাসের শুরুতে তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেছেন। উত্তরণের এই গল্প ও তাঁর জীবনসংগ্রামের নানান দিক নিয়ে মুখোমুখি হয়েছিল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস। আলাপকালে সাইফুল্লাহ মুনছুরের জীবনের ফেলে আসা দিনগুলোর গল্প উঠে এসেছে।
শৈশব জীবন কেমন কেটেছে এবং সেই দিনগুলোর কথা জানতে চাইলে সাইফুল্লাহ মুনছুর বলেন, আমার ছেলেবেলা কেটেছে ছবির মত সাজানো ছায়াঘেরা প্রত্যন্ত এক গ্রামে। যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ ইউনিয়নের আমিনী রামচন্দ্রপুর গ্রামে আমার বেড়ে ওঠা। পড়ালেখা শুরু করেছি গ্রামের মাদ্রাসায়। শৈশবে পড়ালেখায় খুব বেশি আগ্রহ ছিল না, কিন্তু পরীক্ষায় বরাবরই ভালো করতাম। সবসময় দেখা যেত আমি এক বা দুইয়ের মধ্যেই আছি। কিন্তু পড়ালেখার প্রতি প্রবল আগ্রহ বা ভালোবাসা তখনো তৈরি হয়নি। বরং আমার শৈশবের বড় একটা অংশ কেটেছে বাবার সঙ্গে মাঠে কাজ করে। আমি খুব গর্ব করে বলি আমার বাবা একজন কৃষক। বাবার সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই মাঠে যেতাম, মাঠের প্রায় সব কাজ আমি শিখেছিলাম। আমাদের নিজের একটা পাওয়ার টিলার ছিল, যেটা দিয়ে আমি জমি চাষ করতাম। বাবা আমার সঙ্গে থাকতেন, আমরা একসঙ্গে কাজ করতাম। এর পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি আমার প্রবল আগ্রহ ছিল। গ্রামের মাদ্রাসার মাঠে খেলা করেই আমার শৈশবের বিকাল কাটতো। খেলাধুলার এই আগ্রহ থেকেই ছিল, এখনও আছে।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস প্রতিনিধি তাঁর কৈশোরকাল ও পরিবারের ত্যাগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরবর্তীতে যখন আমি ক্লাস এইটে পড়ি, তখন পরিবারের সিদ্ধান্তে আমাকে গ্রামের বাইরে স্কুলে ভর্তি করানো হয়। আমাদের পাশের উপজেলার বুরুজ বাগান হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু গ্রাম থেকে দূরে গিয়ে পড়তে আমার ভালো লাগত না। প্রায় ১০ দিন মতো আমি সেখানে গিয়েছিলাম, তারপর আবার মাদ্রাসায় ফিরে আসি এবং সেখানেই পড়ালেখা চালিয়ে যাই। আমাদের পরিবার ছিল একেবারে নিম্নবিত্ত। বড় ভাই ও পড়ালেখা করতেন, তিনি সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত। এই কারণে পরিবারের ওপর অনেক চাপ ছিল। আমার বাবা আমাদের দুই ভাইকে পড়ানোর জন্য উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির একটা বড় অংশ বিক্রি করে দেন। শুধু আমাদের পড়ালেখার খরচ চালানোর জন্য বাবা এই ত্যাগ করেছিলেন।
এসএসসি পরীক্ষা, ফলাফল ও সেসময়ের পারিবারিক অনিশ্চয়তার দিনগুলো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সাইফুল্লাহ মুনছুর বলেন, এসএসসি পরীক্ষার আগে আমার পড়ালেখার প্রতি খুব বেশি মনোযোগ ছিল না। তবে পরীক্ষার সময় এসে মনে হয়েছিল আমি ভালো কিছু করতে পারব। ভেতরে একটা আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল। পরীক্ষা দেওয়ার পর ফল আসে ৪.৮৮। জিপিএ-৫ পাইনি। এটা আমার জন্য একটা ধাক্কা ছিল। কারণ আমার নিজেরও আশা ছিল, পরিবারেরও আশা ছিল যে আমি আরও ভালো করব। ফলাফল আশানুরূপ না হওয়া এবং পরিবারের আর্থিক দিক বিবেচনা করে বাবা এই সময় একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আমার মালয়েশিয়ায় শ্রমিক ভিসায় যাওয়ার বিষয়টা প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। পারিবারিক আর্থিক অবস্থার কারণে বাবা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তখন এজেন্সির মাধ্যমে ভিসা প্রসেসিং পর্যন্ত এগিয়েছিল। এই অবস্থায় আমার পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে মা খুব শক্ত অবস্থায় নিয়েছিলেন এবং তিনি বাবাকে বোঝাতে সক্ষম হন। আমার আজকের অবস্থানে আসার পিছনে আর সবচেয়ে বেশি অবদান আমার মায়ের, এছাড়া বড় মামা এবং আমার মামাতো ভাইয়েরা যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের পক্ষ থেকে তাঁর এইচএসসি, জীবনের টার্নিং পয়েন্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজে ভর্তি হই। এই জায়গাটা আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। গ্রাম থেকে বের হয়ে এসে আমার চিন্তাভাবনা বদলাতে শুরু করে। আমি নিজে থেকেই পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে শুরু করি এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিই। এইচএসসি পরীক্ষায় আমি জিপিএ-৫ পাই এবং ভালো ফলাফলের জন্য সাধারণ বিভাগে বৃত্তিও পাই। ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব অল্প ব্যবধানে আমার সুযোগ হয় না। বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত আমি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ডিসিপ্লিনে ভর্তি হই। এই সময় থেকেই আমার লক্ষ্য স্পষ্ট হতে শুরু করে। ধীরে ধীরে আমার ভেতরে তৈরি হয় জীবনের একটা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটানো সময় এবং আপনার শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নের শুরুটা কীভাবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর প্রথমদিকে কখনো মনে হয়নি যে আমাকে শিক্ষক হতে হবে বা খুব ভালো ফলাফল করতে হবে। বরং ক্যাম্পাসের যে সংস্কৃতি, সেটাই আমাকে বেশি টানত। সিনিয়রদের সঙ্গে প্রচুর সময় কাটাতাম। অনেক রাত করে হলে ফিরতাম। পুরো ছাত্রজীবনেই আমি ক্যাম্পাসে, মাঠে-ঘাটে, বন্ধুদের সঙ্গে অনেক বেশি সময় দিয়েছি। খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ তো ছোটবেলা থেকেই ছিল, এখানে এসেও সেটা কমেনি। সকালে বের হয়ে কখনো কখনো রাত দুই-তিনটায় রুমে ফিরেছি। এটা এক-দুই দিনের ঘটনা না, নিয়মিতই এমন হতো। এর প্রভাব আমার ফলাফলেও পড়েছিল। প্রথম কয়েকটি সেমিস্টারে ফলাফল খুব একটা ভালো হয়নি। পরে ধীরে ধীরে মনে হলো, না, নিজেকে একটু গুছিয়ে নেওয়া দরকার। বড় ভাই বারবার বলত চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। তখন মনে হলো, আমি যে পরিবার থেকে উঠে এসেছি, আমার কাছে তাদের প্রত্যাশা আছে। শুধু আড্ডা দেওয়া বা ক্যাম্পাস জীবন উপভোগ করার জন্য তো এখানে আসিনি। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করাটাও আমার দায়িত্ব। এই সময় থেকেই আমি পড়াশোনার প্রতি আরও মনোযোগী হতে শুরু করি। বড় ভাইয়া আমাকে বলত, যদি ডিপার্টমেন্টে ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারি, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে ভাবতে পারি। তখন থেকেই আমার মাথার মধ্যে শিক্ষক হওয়ার চিন্তা কাজ করতে শুরু করে। পরে আর কখনো অন্য কোনো পেশা নিয়ে আমি ভাবিনি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে শুধু একাডেমিক শিক্ষা দেয়নি, একজন মানুষ হিসেবেও গড়ে তুলেছে। আমার সিনিয়ররা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। আমার কমিউনিকেশন স্কিল, মানুষের সঙ্গে মেশা, নিজের ভেতরের জড়তা কাটিয়ে ওঠা এসব জায়গায় তাদের অবদান অনেক। পাশাপাশি “বায়স্কোপ” নাট্যসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়াটা আমার জীবনের বড় অভিজ্ঞতা। আমি দুই বছর সাধারণ সম্পাদক এবং এক মেয়াদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। সংগঠন আমাকে সময়ের মূল্য, দায়িত্ববোধ এবং জীবনকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার শিক্ষা দিয়েছে।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের পক্ষ থেকে শিক্ষক হওয়ার চূড়ান্ত যাত্রা এবং পিএইচডি’র বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যখন শিক্ষক হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম, তখন থেকে আমার লক্ষ্য ছিল একটাই। আমি জীবনে আর কখনো ভাবিনি যে অন্য কোনো পেশায় যাব। আমার মনে হতো, যে-কোনো মূল্যে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে হবে। এই লক্ষ্য নিয়ে আমি পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হই। মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করি। এরপর খুব দ্রুতই আমার পরিশ্রমের ফল পাওয়া শুরু হয়। মাস্টার্সের ফল প্রকাশের মাত্র সাত দিন পর নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাই। সেখানে এক সেমিস্টারও শেষ হয়নি, এর মধ্যেই উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের সুযোগ আসে। উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। খুলনা ছাড়তে আমার কষ্ট হয়েছিল। তবে আমার মনে হয়েছিল, যদি ভবিষ্যতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে চাই, তাহলে একটি পূর্ণাঙ্গ বিভাগে কাজ করার অভিজ্ঞতা দরকার। সেখানে আমি নিজের বিষয় পড়ানোর সুযোগ পাব, নিজের জ্ঞান আরও সমৃদ্ধ করতে পারব। এর মধ্যেই আমার জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। আমি শিক্ষার্থী অবস্থাতেই পিএইচডিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাই। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটা খুব সাধারণ ঘটনা নয়। শিক্ষকদের উৎসাহ, মামাতো ভাই ইকরামুল ইসলাম ভাইয়ের সমর্থন এবং পরিবারের সহযোগিতায় আমি পিএইচডিতে ভর্তি হই। আমার মনে হয়, এটিই ছিল আমার জীবনের অন্যতম বড় টার্নিং পয়েন্ট। পরে যখন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ভাইভা দিতে আসি, তখন আমার মধ্যে আলাদা আত্মবিশ্বাস কাজ করছিল। আমার গবেষণা, প্রকাশনা, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা সব মিলিয়ে মনে হয়েছিল আমি প্রস্তুত। আল্লাহর ইচ্ছা, মা-বাবার দোয়া এবং শিক্ষকদের আশীর্বাদে শেষ পর্যন্ত নিজের বিভাগেই শিক্ষক হিসেবে ফিরে আসতে পেরেছি।
আপনার গবেষণা ও লেখালেখির কাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, গবেষণার প্রতি আমার আগ্রহ ছাত্রজীবন থেকেই ছিল। অনার্সে আমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’ উপন্যাস নিয়ে কাজ করেছিলাম। সেই গবেষণা পরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের জার্নালে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশের উপন্যাসে মুসলিম সাহিত্য সমাজের প্রভাব নিয়ে কাজ করেছি। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শওকত ওসমান ও আহমদ ছফার উপন্যাস নিয়েও গবেষণা করেছি। বর্তমানে বাংলাদেশের উপন্যাসে মিথ ও কিংবদন্তির রূপায়ণ বিষয়ে আমার পিএইচডি গবেষণা চলছে। এর বাইরে আরও কয়েকটি গবেষণাপত্র বিভিন্ন জার্নালে জমা দেওয়া আছে। কিছু রিভিউ পর্যায়ে রয়েছে, কিছু প্রকাশের অপেক্ষায়। ২০২৬ সালের অমর একুশে বইমেলায় ‘দাঁড়িকমা’ প্রকাশনী থেকে আমার কবিতার বই ‘তোমার শহরে কারফিউ’ প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি মাস্টার্সে করা গবেষণাকে গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করার চেষ্টাও করছি।
তাঁর ব্যক্তিগত জীবনদর্শন সম্পর্কে জানতে চাইলে সাইফুল্লাহ মুনছুর বলেন, জীবন সম্পর্কে আমার ধারণা খুবই সাধারণ। আমি খুব বেশি প্রত্যাশা নিয়ে চলি না। জীবনের কাছে খুব বেশি কিছু চাওয়ারও নেই। আমার মনে হয়, আমরা সুন্দরভাবে জীবন কাটানোর জন্য এসেছি। যতটুকু পাই, সেটুকুই ভালো। না পেলেও খুব বেশি আক্ষেপ করার কিছু নেই। আমি সবসময় বিশ্বাস করি, নিজের পরিশ্রমটা করে যেতে হবে। চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। বাকিটা সময় বলে দেবে। কখনো হতাশ হয় না বরং পজেটিভ ধারণা রাখার চেষ্টা করি। আমি সবসময় ফলাফলের চেয়ে চেষ্টাকে বেশি গুরুত্ব দিই। এই চিন্তাধারাই আমাকে কঠিন সময়গুলোতে স্থির থাকতে সাহায্য করেছে। আমার মনে হয় বিনয় এবং ভালোবাসা দিয়ে সকল কিছু জয় করার মনোভাব আমাকে অন্য সকলের থেকে আলাদা করেছে।
সবশেষে তরুণদের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তরুণদের প্রতি আমার সবচেয়ে বড় বার্তা হলো, শুধু বইয়ের জ্ঞানই যথেষ্ট নয়। জীবনকে জানতে হবে, মানুষকে জানতে হবে। মানুষের সঙ্গে মিশে যে শিক্ষা পাওয়া যায়, শুধু বই পড়ে সেই শিক্ষা সবসময় পাওয়া সম্ভব নয়। আমার মনে হয়, আমরা অনেক সময় নিজেদের খুব সংকীর্ণ পরিসরে আটকে ফেলি। কিন্তু বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা মানুষকে অন্যভাবে সমৃদ্ধ করে। জীবন থেকে যে জ্ঞান পাওয়া যায়, সেটা আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে অনেক বেশি সাহায্য করে। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে প্রথমদিকে ফলাফল খারাপ করে ফেলেছ, তাদের জন্যও আমি বলতে চাই হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আমিও শুরুতে খুব ভালো ফল করিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে বুঝতে সময় লাগে। সিনিয়রদের সঙ্গে মেশা, শিক্ষকদের বোঝা, নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এসবও গুরুত্বপূর্ণ। তবে একটা বিষয় খুব জরুরি। প্রতিদিন অন্তত এক থেকে দেড় ঘণ্টা নিয়মিত পড়ার অভ্যাস থাকতে হবে। পরীক্ষার আগে একসঙ্গে অনেক কিছু পড়ার চেয়ে প্রতিদিন অল্প অল্প করে পড়া অনেক বেশি কার্যকর। যদি নিয়মতান্ত্রিকভাবে চেষ্টা করা যায়, তবে ঘুরে দাঁড়ানো অবশ্যই সম্ভব।
এই জীবনকথা আসলে ব্যর্থতা ও সাফল্যের সরল বিভাজন নয় বরং ধারাবাহিক শিক্ষা, ধৈর্য এবং আত্মবিশ্বাসের এক বাস্তব চিত্র। এখানে প্রতিটি ধাপে দেখা যায় পরিবেশ, পরিবার এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত কীভাবে একজন মানুষের ভবিষ্যৎ গড়ে দেয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি হলো, বড় স্বপ্ন একদিনে পূরণ হয় না; তা গড়ে ওঠে ছোট ছোট চেষ্টা, নিয়মিত পরিশ্রম এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। এই গল্প তাই শুধু একজন শিক্ষকের নয় বরং প্রতিটি তরুণের জন্য এক বাস্তব জীবনের পাঠ।