সিলেটে সাত শ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে ভক্ত-অনুরাগীদের দানের টাকার হিসাব প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন সদ্য প্রত্যাহারকৃত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ সারওয়ার আলম। এ সময় দানবাক্সে টাকার পাশাপাশি কিছু স্বর্ণালংকার ও কয়েকটি চিরকুট পাওয়া গেছে, যার একটি ছিল খোদ ডিসি সারওয়ার আলমের উদ্দেশে লেখা।
সোমবার (২২ জুন) বিকেলে মাজার প্রাঙ্গণে চার দিনের জমা পড়া দানের টাকা গণনা করা হয়।
জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) তানভীর হোসাইন সজীব জানান, মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনাকালে বেশ কয়েকটি চিঠি ও কিছু স্বর্ণালংকার পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি চিঠি ছিল সদ্য প্রত্যাহারকৃত জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে লেখা। ওই চিঠিতে মাজারের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা এবং এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে মাজারের জায়গা দখল করে দোকানপাট ও বাড়ি নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

দানবাক্সে পাওয়া চিঠিতে ওই শুভাকাঙ্ক্ষী উল্লেখ করেন, ‘ডিসি সাহেব, আসসালামু আলাইকুম। শাহজালাল মাজারের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপনার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেটসহ সারা দেশে, এমনকি বিদেশে অবস্থানরত লোকজন আপনার শুধু প্রশংসাই করছেন না; শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ আপনার পক্ষেই আছেন। সবচেয়ে বড় লুটপাটকারী হচ্ছে দরগার কেরানি শামুন মাহমুদ খান। অর্ধেক টাকাই সে মেরে দেয়। সে কেরানি হয়েও বড়াই করে বলে সে নাকি খাদেম। এ সবই মিথ্যা। পড়াশোনা করেছে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত, এখন লম্বা লম্বা কথা বলে। দরগার জায়গায় বাড়ি করেছে, দোকানপাট করেছে। এ সমস্ত জায়গা উদ্ধার করা একান্ত প্রয়োজন। দয়া করে দেখবেন, তাকে নিয়ে এখন আলোচনা হচ্ছে। সেই মূলহোতা।’
প্রসঙ্গত, মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাবে স্বচ্ছতা আনতে গত ১৮ জুন নতুন দানবাক্স স্থাপন ও পুরাতন তিনটি ডেগ সিলগালা করে প্রশাসন। এরপর গত রোববার (২১ জুন) ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এই প্রত্যাহার আদেশ বাতিল করে তাঁকে সিলেটে পুনর্বহালের দাবিতে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত একাধিক কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
এরই মধ্যে সোমবার বিকেলে সিলগালা করা দানবাক্সগুলো খুলে দেওয়া হয়। চার দিনের দানের টাকা হিসাব করে সন্ধ্যা ৬টায় জানানো হয়, মাজারের দানবাক্সে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা জমা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ঘিরে মাজার প্রাঙ্গণে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা গেছে।