Image description

গত মে মাসের বেতন এখনও ছাড় না হওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন দেশের এমপিওভুক্ত মাদরাসার ১ লাখ ৯১ হাজার শিক্ষক ও কর্মচারী। বেতন না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বকেয়া বেতন আদায়ের দাবিতে ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না। অভিযোগ উঠেছে, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের চরম গাফিলতির কারণেই এই নজিরবিহীন জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

দেশের মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের একমাত্র পেশাজীবী অরাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি আলহাজ্ব এ এম এম বাহাউদ্দীন ও মহাসচিব প্রিন্সিপাল শাব্বীর আহমদ মোমতাজী এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মাদরাসা শিক্ষক কর্মচারীদের দুঃখ দুর্দশা ও ভোগান্তি লাঘবে প্রতিষ্ঠা হয়েছিলো মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। কিন্তু সেই মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরই আজ শিক্ষকদের ভোগান্তির মূল কারণ। আমরা মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে শিক্ষক কর্মচারীদের মে মাসের বেতন বন্ধের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে চেয়েছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, কোনো কর্মকর্তাই এ বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি। এমনকি অধিদপ্তরে যে সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার কথা, তাও তারা যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। উল্টো নিজেদের দোষ ঢাকতে তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবের কার্যালয় থেকেও এই সংকট নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি

বিবৃতিতে জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের নেতৃবৃন্দ এই সংকটকে কেবল গাফিলতি কিংবা উদাসীনতা হিসেবে দেখছেন না, বরং এর পেছনে গভীর কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন। তারা বলেন, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই অচলাবস্থা তৈরি করে রেখেছে। এর মূল লক্ষ্য, দেশের মাদরাসা শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশাল জনগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষের মাঝে বর্তমান সরকার, বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে নিয়ে একটি বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করা এবং রাষ্ট্রব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।

জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের পক্ষ থেকে অনতিবিলম্বে মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ থাকার মূল কারণ উদঘাটন করার জোর দাবি জানানো হয়। একই সাথে একটি সুষ্ঠু তদন্ত কমিটির মাধ্যমে এই কৃত্রিম জটিলতা সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকারি কর্মকর্তা এমন দুঃসাহস দেখানোর পুনরাবৃত্তি না করতে পারেন।

মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে উল্লেখ করে জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের নেতৃবৃন্দ বকেয়া বেতনসহ তাঁদের সমস্ত ন্যায্য পাওনা অতি দ্রুততার সাথে পরিশোধ করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছেন।