নোয়াখালীর হাতিয়ার সাগুরিয়া রেঞ্জে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন সৃজন প্রকল্প।
আর এই প্রকল্পে বিপুল অর্থ লুটপাট ও অনিয়মের উঠেছে অভিযোগ।
প্রকল্পটির দায়িত্বে থাকা রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে কাগজে-কলমে বন সৃজন দেখিয়ে বাস্তবে কাজ না করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
প্রকল্পের আওতায় উপকূলীয় অঞ্চলে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সামুদ্রিক ঢেউ থেকে জনপদ ও ভাসানচরে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, ঘোষিত বনায়নের বড় অংশই বাস্তবে অনুপস্থিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাগুরিয়া রেঞ্জের অধীনে চর আলীম (লালচর)-এ ১০০ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বন সৃজন করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও সরেজমিনে সেখানে বনের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সমুদ্রতীর ও বুড়িরদোনা খালের আশপাশে অল্প কিছু কেওড়া গাছের কুঁড়ি দেখা গেছে।
স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, শীত মৌসুমে দুই থেকে তিন ধাপে সীমিত সংখ্যক শ্রমিক দিয়ে অল্প জায়গায় চারা রোপণ করা হলেও তা টেকেনি। তাদের দাবি, কাদামাটির পরিবর্তে বালুর ওপর চারা রোপণ করায় অধিকাংশ গাছ নষ্ট হয়ে গেছে।
লালচর এলাকার মৎস্যজীবী দেলোয়ার হোসেন বেচু বললেন, দুই ধাপে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ জন শ্রমিক দিয়ে মাত্র ৫ থেকে ৬ কানি জমিতে কেওড়ার চারা লাগানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, যেভাবে চারা লাগানো হয়েছে, তাতে এগুলো টিকে থাকার কোনো সুযোগই ছিল না।
একই ধরনের বক্তব্য দেন স্থানীয় টানবাজার এলাকার দুলাল মাঝি, জয়নাল আবেদীন ও আউয়ালসহ একাধিক বাসিন্দা। স্থানীয় রাখাল রাকিব জানান, অল্পসংখ্যক শ্রমিক দিয়ে সীমিত জায়গায় চারা রোপণ করা হলেও তা পরবর্তীতে সমুদ্রের ঢেউয়ে ভেসে যায়।
অন্যদিকে নৌকাচালক আবুল হাসেম ও কালু সর্দার দাবি করেন, নির্ধারিত এলাকায় বনায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে, তবে প্রকৃতি অনুকূল না থাকায় বন টিকেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১০০ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বন সৃজনে বিপুল পরিমাণ চারা ও শত শত শ্রমিক প্রয়োজন হলেও বাস্তবে তা প্রয়োগ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। একই প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে চর আলীম, ভাসানচর এবং জাহাজমারা রেঞ্জসহ একাধিক এলাকায় বন সৃজনের পরিকল্পনা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান একই সঙ্গে বিট কর্মকর্তার দায়িত্বে থেকে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তাদের দাবি, উপকূলীয় বনায়ন কার্যক্রমে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে সাগুরিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বললেন, বিভাগীয় নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ চারা রোপণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপকূলীয় বন সংরক্ষক মোল্যা রেজাউল করিম উল্লেখ করেন, তিনি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় উপকূলীয় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।