বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে ভিসা জটিলতা নিয়ে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের ১৫ জন কর্মকর্তা এখনও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা না পাওয়ায় ফিফার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান।
ইরান জাতীয় দলের প্রধান এবং ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মাহদি মোহাম্মদ নবি অভিযোগ করেছেন, বিশ্বকাপ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট সব সদস্যের জন্য পূর্ণ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার কথা থাকলেও তা কার্যকর হয়নি। তিনি নিজেও ভিসা না পাওয়া সদস্যদের তালিকায় রয়েছেন।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো টুর্নামেন্ট শুরুর আগে রাজনৈতিক জটিলতার মধ্যেও ইরানের অংশগ্রহণকে ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তবে পরবর্তীতে নাবি বলেন, ফিফার দেওয়া আশ্বাস বাস্তবে প্রতিফলিত হয়নি এবং আয়োজক দেশসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানান।
এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলেও ফিফার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে যুকত্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিসা দেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করে কেউ যাতে অবৈধভাবে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্যই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মেক্সিকো ও কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে এই আসরে।
রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এর আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। তবে দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত তারা বিশ্বকাপে অংশ নেয়।
ভিসা অনিশ্চয়তার কারণে ইরান তাদের বেইস ক্যাম্প আরিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর টিজুয়ানাতে স্থানান্তর করে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, ম্যাচের আগের দিনগুলোতে সীমিত সময়ের জন্য দলকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
‘জি’ গ্রুপে ইরান তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর বেলজিয়াম ও মিশরের সঙ্গে ম্যাচ রয়েছে।
এই পরিস্থিতি বিশ্বকাপ আয়োজন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।