বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার (১০০০ বিলিয়ন বা এক লাখ কোটি ডলারের মালিক) হিসাবে ইতিহাস গড়েছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও ধনকুবের ইলন মাস্ক। শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারবাজারে স্পেসএক্সের অভিষেক ঘটায় তিনি এ রেকর্ড গড়েন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ১২৩ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২৩ লাখ কোটি টাকা! ইলন মাস্ক মোট সম্পদের পরিমাণ বাংলাদেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের ১৩ গুণেরও বেশি।
স্পেসএক্স তাদের আইপিওতে প্রতি শেয়ারের মূল্য ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে ৫৫ কোটি ৫৬ লাখ ক্লাস-এ শেয়ার বিক্রি করে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। এই মূল্যায়নে স্পেসএক্সের মোট বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার। নাসডাকে ‘ঝচঈঢ’ টিকার নামে লেনদেন শুরু হলে এটি বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে পরিণত হবে।
আইপিও-পরবর্তী হিসাব অনুযায়ী, ইলন মাস্কের কাছে থাকবে প্রায় ৮৪৯.৫ মিলিয়ন ক্লাস-এ শেয়ার এবং ৫.৫৭ বিলিয়ন ক্লাস-বি শেয়ার। এতে কোম্পানির ভোটাধিকার নিয়ন্ত্রণের প্রায় ৮৪.৪ শতাংশ তার হাতে থাকবে।
শুধু স্পেসএক্সে মাস্কের মালিকানার কাগুজে মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৮৬৬.৫ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলায় তার প্রায় ৭১৭.১ মিলিয়ন শেয়ারের মূল্য বর্তমান বাজারদরে প্রায় ২৮৬.২ বিলিয়ন ডলার। দুই কোম্পানিতে তার মোট শেয়ারমূল্য যোগ করলে সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১.১ ট্রিলিয়ন ডলার, যা তাকে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
মাস্কের সম্পদের সিংহভাগ এখন স্পেসএক্সের অধীনে। কোম্পানি নথিপত্রের ওপর ভিত্তি করে রয়টার্সের হিসাবে, টেসলা এবং তার অন্যান্য সম্পদসহ, শুক্রবার স্টক লেনদেন শুরুর পর তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১.১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ায় মাস্কের সম্পদের পরিমাণ মানুষের কল্পনাশক্তিরও বাইরে। যুক্তরাজ্যের দাতব্য সংস্থা অক্সফাম বলছে, মাস্ক প্রতিদিন ১০ লাখ ডলার খরচ করলেও তার সম্পদ শেষ করতে প্রায় দুই হাজার ৭৪০ বছর লাগবে। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্স বলছে, স্পেসএক্সের রেকর্ড গড়া আইপিও ঘোষণার আগেই মাস্কের সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৯৬ বিলিয়ন ডলার। এ পরিমাণ সম্পদ নিয়ে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির রেকর্ড ধরে রেখেছেন।
অন্য ধনকুবেরদের সঙ্গে তুলনা করলে মাস্কের সম্পদ হবে গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের সম্পদের তিন গুণেরও বেশি। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্স বলছে, ল্যারি পেজ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি। তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় প্রায় ৩০৪ বিলিয়ন ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কোটিপতি ছিলেন জন জ্যাকব অ্যাস্টর। তিনি ১৮৪৮ সালে মৃত্যুর সময় ২ থেকে ৩ কোটি ডলারের মালিক ছিলেন। এটি তৎকালীন জিডিপির প্রায় এক শতাংশের সমান। ট্রিলিয়নিয়ার মাস্কের সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান জিডিপির প্রায় ৩ শতাংশের সমান।