আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় তারা বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে নির্বাচন করতে পারেনি। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা অংশ নিতেও পারবে না। তবে স্বতন্ত্রভাবে দাঁড়াতে বাধা নেই। অনেক জায়গায় তারা স্বতন্ত্রভাবে দাঁড়িয়েছে এবং পাসও করেছে
অ্যাড. জয়নুল আবেদীন এমপি
ভাইস চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল
কোনো বারের সংবিধানে কোথাও লেখা নেই আওয়ামী দল বা একটা দলের সমর্থক যদি আইনজীবী হন, তাহলে তারা ইলেকশনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ, এর সঙ্গে বার সমিতির ইলেকশনের সম্পর্ক নেই। তার পরও নির্বাচন থেকে আমাদের দূরে রাখতে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে
অ্যাড. মোতাহার হোসেন সাজু
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতা
আমাদের পেশাজীবী সংগঠনগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধি ও মান উন্নয়নের প্রধান বাধা রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি। পেশাজীবীদের যেটা মূল দায়িত্ব পেশার মান উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যাপারে তাদের নজর নেই বললে চলে। রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি আমাদের বিচারব্যবস্থার উন্নয়নে বড় বাধাও হয়ে দাঁড়াচ্ছে
ড. শাহদীন মালিক
আইন বিশেষজ্ঞ
চলতি বছর সারা দেশের ৮৩টি বার অ্যাসোসিয়েশনের (সমিতির) মধ্যে অর্ধশত বার সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী সমর্থক আইনজীবীরা অন্তত ৩০টি বার সমিতির নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। তাদের কোনো প্যানেল অথবা স্বতন্ত্রভাবেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা বলছেন, কিছু কিছু বার সমিতির নির্বাচনে আংশিক অংশ নিতে পারলেও তারা অধিকাংশ বার সমিতিতে অংশ নিতে পারেননি। কারও কারও মনোনয়নপত্র জমাদানে বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। আবার কারও কারও মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তাদের দাবি, এসব বার সমিতির নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা বলছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আর আগের অবস্থা নেই। আগের মতো প্যানেল করে আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে তাদের নির্বাচন করার সুযোগ নেই। কারণ, দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ মূলত আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন। এ কারণে তারা প্যানেলে নির্বাচন করতে পারেনি। তবে অনেক জায়গায় তারা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং পাসও করেছেন। আবার কোনো কোনো বার সমিতির নির্বাচনে তাদের কেউই অংশ নেননি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ৫১টি বার সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে মাত্র ১৭টিতে আওয়ামী সমর্থক আইনজীবীরা স্বাভাবিকভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। আটটিতে আংশিকভাবে বা সীমিত সংখ্যক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পেরেছেন। বাকি ২৬টিতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাধা, প্রার্থিতা বাতিল অথবা এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে তারা নির্বাচন বর্জনে বাধ্য হয়েছেন।
জানা যায়, আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রণকারী এসব সমিতিতে কখনই সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় না। সবসময় অলিখিতভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থনকারী আইনজীবীরা প্যানেল আকারে নির্বাচনে অংশ নিয়ে থাকেন। অদৃশ্যভাবে প্যানেল থাকলেও বাস্তবে কোনো প্যানেল ছাড়াই প্রতিবার ভোট অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী সমর্থক আইনজীবীরা সাধারণত বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিয়ে থাকেন। তবে চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী সমর্থক আইনজীবীরা স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করলেও অনেক জায়গায় বাধা দেওয়া হয়েছে। ফলে অনেকটা একতরফাভাবে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টসহ অধিকাংশ আইনজীবী সমিতির নেতৃত্বে রয়েছেন বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা। তবে কিছু কিছু সমিতির দু-একটি পদে জামায়াত সমর্থক, যেসব বার সমিতিতে অংশ নিতে পেরেছেন, সেগুলোয় আওয়ামী সমর্থকরাও বিজয়ী হয়েছেন।
আইনজীবীরা বলছেন, এর আগে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও বার সমিতিগুলোর একই চিত্র ছিল। পর পর দুই বছর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে একতরফা নির্বাচনের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে সরকার সমর্থকদের একতরফা ভোট হয়। এ ছাড়া ঢাকা বার, নারায়ণগঞ্জ বারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বারে আওয়ামী সমর্থকদের একতরফা নির্বাচনে জয়লাভ করতে দেখা গেছে। এখন আবার সেই আগের চিত্র ফিরে এসেছে বার সমিতিগুলোয়। পেশাজীবী সংগঠনে এগুলো বন্ধ হওয়া দরকার।
একতরফা নির্বাচনের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয় বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের কাছে। বার কাউন্সিল সারা দেশের আইনজীবী সমিতিগুলোর নিয়ন্ত্রক ও তদারকি সংস্থা। অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এ ব্যাপারে কালবেলাকে বলেন, যেহেতু আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে, সে কারণে তারা বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে নির্বাচন করতে পারেনি। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা অংশ নিতেও পারবে না। তবে স্বতন্ত্রভাবে তাদের দাঁড়াতে বাধা নেই। অনেক জায়গায় তারা স্বতন্ত্রভাবে দাঁড়িয়েছে এবং পাসও করেছে। আবার অনেক জায়গায় তারা নিজেরাই দাঁড়াচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, তারা যেভাবে প্যানেল করে নির্বাচনে অংশ নিতে চায়, সে অবস্থা আর নেই। তা ছাড়া এখন ভোট দেওয়ার পরিবেশ আছে। আগে তো তাও ছিল না।
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতা ও গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সম্পাদক পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু কালবেলাকে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের যারা আইনজীবী তাদের সমন্বয় গঠিত প্যানেলের প্রার্থীদের যেসব জায়গায় ইলেকশন করতে দিয়েছে, তারা কিন্তু জয়লাভ করছে। এক-দুটি বার ছাড়া। সুপ্রিম কোর্টেও তাই ঘটত। টোটালি রাজনৈতিক কারণে আমাদের নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই যে তকমাটা লাগানো হয়েছে—অর্থাৎ, এরা আওয়ামী দল অথবা আওয়ামী লীগের অন্যান্য সহযোগী সংগঠন আছে, তাদের সমর্থক এসব বলে। কিন্তু কোনো বারের সংবিধানে কোথাও লেখা নেই, আওয়ামী দল বা একটি দলের সমর্থক যদি আইনজীবী হন, তাহলে তারা ইলেকশন অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ এর সঙ্গে বার সমিতির ইলেকশনের কোনো সম্পর্ক নেই। আমি কি দলের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করছি? আমরা স্বতন্ত্রভাবে মনোনয়ন দাখিল করেছি। তার পরও নির্লজ্জভাবে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে আমাদের সবার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে।’
এর আগে দুবার পরপর সুপ্রিম কোর্টে একতরফা নির্বাচনের ব্যাপারে মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, ২০২৩ সালের যে ঘটনা, এটার তীব্র নিন্দা সে সময় আমি করেছি। এখনো করি। কারণ কী, এই আঙিনা সাধারণ আইনজীবীদের। সাধারণ ভোটারদের। সেই আঙিনায় কখনো পুলিশ যদি থাকে নিরাপত্তার জন্য, সেটা থাকবে আঙিনার বাইরে। কিন্তু ওই ঘটনার বিপরীতে যদি কাউকে ইলেকশনে অংশগ্রহণ করতেই দেব না, এটা কী? এটা কি গণতান্ত্রিক চর্চা? এটা স্বচ্ছ-গ্রহণযোগ্য একটা ইলেকশন করার জন্য কখনোই না।
আইন বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘আমাদের পেশাজীবী সংগঠনগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধি ও মান উন্নয়নের প্রধান বাধা রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি। অন্যান্য দেশে শ্রমিক আন্দোলনে জড়িত শ্রমিকদের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে ট্রেড ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পৃক্ততা অল্প। উল্টোদিকে পেশাজীবী সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকতে অভ্যস্ত এবং স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। ফলে পেশাজীবীদের যেটা মূল দায়িত্ব—পেশার মান উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যাপারে তাদের নজর নেই বললে চলে। পেশাজীবীদের রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি আমাদের বিচারব্যবস্থার উন্নয়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্ট বার: গত ১৩ ও ১৪ মে অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতির নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে ১৩টিতে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী এবং একটি সদস্য পদে জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হন। এ নির্বাচনে আওয়ামী সমর্থক আইনজীবীরা অংশ নিতে পারেননি। ওই নির্বাচনে সভাপতি পদে আওয়ামী লীগ সমর্থক বলে পরিচিত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মনসুরুল হক চৌধুরী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। পরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রার্থীরা সবাই স্বতন্ত্রভাবে সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কেউ কোনো দলের বা সংগঠনের পক্ষ থেকে দলবদ্ধ হয়ে কোনো মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। সমিতির সংবিধান ও নিয়ম ভঙ্গ করে অ্যাডহক কমিটি যাচাই-বাছাই না করে ৪০ জনের বেশি প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখছে। যা অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক ও ন্যায়বিচার পরিপন্থি।
এদিকে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম বদরুদ্দোজা বাদল জানান, জুলাই যোদ্ধা ও বেশ কয়েকজন সাধারণ আইনজীবী সমিতিতে লিখিত দরখাস্ত দেন। তারা মানববন্ধন করেন। তাদের দাবি ছিল, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ। এর আগে যারা আওয়ামী লীগের প্যানেলে বা ব্যানারে নির্বাচন করেছেন বা সমর্থন করেছেন, তাদের যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া না হয়। দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি সিদ্ধান্ত নেয়। সমিতির বিশেষ সাধারণ সভার মাধ্যমে ওই সিদ্ধান্ত হয়। এ কারণে অনেকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২২ ও ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পর দুটি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তখন একতরফা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা বেশিরভাগ পদে বিজয়ী হন।
ঢাকা বার গত ২৯-৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩টি পদে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বিজয়ী হয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত ঢাকা আইনজীবী সমিতির অ্যাডহক কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, বারের সভাপতির অনুমতি ছাড়া কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। নির্বাচনের ঠিক আগে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আওয়ামীপন্থি ১৬ জন আইনজীবীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ফলে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা আর নির্বাচন করতে পারেননি। ফলে ২৪টি পদের মধ্যে ২৩টিতে বিএনপি এবং একটি পদে জামায়াতের প্রার্থী জয়লাভ করেন। অন্যদিকে ঢাকা বার সমিতির নির্বাচন নিয়ে ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে প্রশ্ন ওঠে। সে সময় বেশিরভাগ পদেই আওয়ামী সমর্থকরা বিজয়ী হন।
নারায়ণগঞ্জ বার: জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সরকার হুমায়ূন কবির ও এইচএম আনোয়ার প্রধান পরিষদ ১৭টি পদের মধ্যে ১৬টিতে বিজয়ী হন। অথচ ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ওই বার সমিতির নির্বাচনে কেউই অংশ নেননি। সব পদেই আওয়ামী সমর্থকরা বিজয়ী হন।
উত্তরাঞ্চলের চিত্র: পঞ্চগড়, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, জয়পুরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি বারে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা বাধার অভিযোগ তুলেছেন। পঞ্চগড়ে আংশিক অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেও ১১টি পদের মধ্যে ৯টিতে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হন। দিনাজপুরে ১৫টি পদের মধ্যে আওয়ামী সমর্থকরা মাত্র দুটি পদে জয় পান। রাজশাহীতে ২১টির মধ্যে ২০টি পদ বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের দখলে যায়। পাবনা, নাটোর, নওগাঁ ও জয়পুরহাটে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের অংশগ্রহণ সীমিত বা বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নাটোরে ১১টি পদের মধ্যে ১০টিতে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বগুড়ায় ১৩টি পদের ১০টিতে বিএনপি এবং তিনটিতে জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হন।
তবে ব্যতিক্রমও রয়েছে। ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা অংশগ্রহণ করেন এবং ১২টি পদের মধ্যে পাঁচটিতে জয় পান। সভাপতিসহ সাতটিতে জয়ী হয়েছেন বিএনপিপন্থিরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৩টি পদের ছয়টিতে আওয়ামী সমর্থকরা বিজয়ী হন।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মিশ্র পরিস্থিতি: নড়াইল, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা ও খুলনার নির্বাচনে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। নড়াইল, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও মাদারীপুরে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পেরেছেন। এর মধ্যে মাদারীপুরে ১৫টি পদের ১৩টিতেই তারা জয়ী হয়েছেন, যা তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটি। অন্যদিকে যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও খুলনায় অংশগ্রহণে বাধা বা আংশিক অংশগ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। খুলনা ও মাগুরায় আংশিক অংশগ্রহণের সুযোগ মিললেও অধিকাংশ পদ বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের দখলে যায়।
বরিশাল বিভাগের চিত্র: বরিশাল, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগ-সমর্থক আইনজীবীরা বাধার অভিযোগ তুলেছেন। তবে পিরোজপুরে তারা অংশগ্রহণ করে ১৩টি পদের মধ্যে সাতটিতে জয়ী হয়েছেন।
ময়মনসিংহ অঞ্চলে অভিযোগ বেশি: ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা, শেরপুর, টাঙ্গাইল, মুন্সীগঞ্জ ও মানিকগঞ্জের কয়েকটি নির্বাচনে প্রার্থিতা বাতিল, বাধা প্রদান কিংবা নির্বাচন বর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ময়মনসিংহ ও মুন্সীগঞ্জে প্রার্থিতা বাতিলের অভিযোগ রয়েছে। নেত্রকোনায় নির্বাচন বর্জনের ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে। শেরপুরে আংশিক অংশগ্রহণের সুযোগ মিললেও অধিকাংশ পদে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হন। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও রাজবাড়ীতে আওয়ামীপন্থি প্রার্থীরা কিছু পদে জয় পেয়েছেন।
সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগ: সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার ও বান্দরবানে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পেরেছেন। সিলেটে ২৪টি পদের মধ্যে ১০টিতে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৫টির মধ্যে সাতটিতে, নোয়াখালীতে ১৫টির মধ্যে নয়টিতে এবং লক্ষ্মীপুরে ১৫টির মধ্যে আটটিতে আওয়ামীপন্থি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে সুনামগঞ্জে আংশিক অংশগ্রহণ, মৌলভীবাজারে বর্জন, ফেনী ও চাঁদপুরে বাধা এবং চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতিতে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।