দেশে শিশু ধর্ষণের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে—এই পাঁচ মাসে পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি হয়েছে। জানুয়ারিতে যেখানে ধর্ষণের ভুক্তভোগী ছিল ১৭ শিশু, সেখানে মে মাসে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পেয়েছে এশিয়া পোস্ট।
গত ছয় মাসে ১৫৬টি ঘটনায় ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে ১৬৪টি শিশু। কোনো কোনো ঘটনার ভুক্তভোগী একাধিক শিশু। ২৪টি ঘটনায় ধর্ষণের পর শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতি সাতটির মধ্যে একটিতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
মাসভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের ডিসেম্বরে ধর্ষণের ভুক্তভোগী ছিল ১৯টি শিশু। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এ সংখ্যা ছিল ১৭। ফেব্রুয়ারিতে তা কিছুটা কমে হয় ১৩। মার্চে এই সংখ্যা ছিল ১৮। এপ্রিলে এটি ৪২-এ পৌঁছায়। আর মে-তে সব রেকর্ড ছাড়িয়ে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৫-তে।
ডিসেম্বর থেকে মার্চ—এই চার মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৬৭টি শিশু। আর শুধু মে মাসেই ভুক্তভোগীর সংখ্যা ৫৫। অর্থাৎ এই এক মাসেই চার মাসের কাছাকাছি ঘটনা ঘটেছে।
সর্বোচ্চ ঢাকা বিভাগে
বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে—৪৯টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৭টি। রাজশাহী বিভাগে ঘটেছে ২০টি ঘটনা। আর ময়মনসিংহ বিভাগে ঘটেছে ১৬টি।

ছবি : সংগৃহীত
খুলনা বিভাগে ১১টি এবং রংপুর বিভাগে ১০টি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। তুলনামূলকভাবে কম ঘটেছে বরিশাল ও সিলেট বিভাগে, যথাক্রমে আটটি ও পাঁচটি।
জেলাভিত্তিক বিচারে শীর্ষ দুই জেলাই চট্টগ্রাম বিভাগের। জেলা দুটি হচ্ছে চট্টগ্রাম (১২) ও কুমিল্লা (৮)।
বিচারহীনতাকে দুষছেন বিশেষজ্ঞরা
ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ার পেছনে বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘একটা অপরাধের শাস্তি না হলে আরও অপরাধের ক্ষেত্র তৈরি হয়। প্রতিদিন যে ঘটনাগুলো ঘটছে, একটারও সুষ্ঠু বিচার হচ্ছে না। বরং অপরাধীরা ক্ষমতার কাছাকাছি থেকে পার পেয়ে যাচ্ছে। আন্দোলনের চাপে বিচার শুরু হলেও শাস্তি কার্যকর হওয়ায় পর্যন্ত পৌঁছায় না। ফলে অপরাধীরা অপরাধ করেই যাচ্ছে।’
মাদক, জুয়া ও বেকারত্বকেও এই সমস্যার পেছনে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি। সীমা দত্ত বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় কাঠামো, পুলিশ প্রশাসন, বিচার বিভাগ তাদের কাজগুলো স্বাধীনভাবে করতে পারলে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারলে এসব কমে যেত। তারা সেটা করতে পারে না।’
বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার তাগিদ দেন সীমা দত্ত।
তিনি বলেন, ‘যে সংগঠনগুলো আছে, তাদের মাধ্যমে এই বার্তাটা সবার কাছে দেওয়া দরকার যে অপরাধী যে-ই হোক, তাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। সে জন্য একটা সামাজিক গণ-আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’