Image description

কেমন হলো বিসিবির এবারের নির্বাচন? তা নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এক পক্ষের দাবি, এবারের বিসিবি নির্বাচন নিয়ে আগের মতো প্রশ্ন ওঠেনি। এক কথায়, আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে যে নির্বাচন হয়েছিল, তার মতো প্রশ্নবিদ্ধ, অনিয়ম-ভরা, বিতর্কিত কিংবা সরকারের অযাচিত হস্তক্ষেপে পরিপূর্ণ নির্বাচন হয়নি এবার। সে অর্থে নির্বাচনি প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক নেই। সমালোচনার ঝড়ও বয়ে যায়নি।

তবে পাল্টা বক্তব্যও রয়েছে। অন্য পক্ষের দাবি, নির্বাচনে শাসক দল বিএনপির নেতাদের সন্তান, পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও আশীর্বাদপুষ্টদের আধিক্য ছিল স্পষ্ট। বেশিরভাগ পদেই বিএনপি নেতাদের আত্মীয়স্বজন কিংবা আশীর্বাদপুষ্টরা মনোনয়ন পেয়েছেন। ওই পক্ষের আরও দাবি, এনএসসির মনোনীত দুজনসহ নির্বাচিত ২৫ পরিচালক পর্ষদে ১২ থেকে ১৪ জন সরাসরি শাসক দলের বিভিন্ন নেতার পরিবারভুক্ত অথবা আশীর্বাদপুষ্ট।

ক্রিকেটপাড়ায় আরও একটি অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। সেটা শুধু সমালোচকদের মুখের কথা নয়। গত দেড় যুগে, অর্থাৎ আওয়ামী লীগ আমলে অবমূল্যায়িত নিবেদিতপ্রাণ তৃণমূল সংগঠকরা এবারের বিসিবি নির্বাচনে সেভাবে মূল্যায়িত হননি। যারা আওয়ামী লীগ আমলে বোর্ডে অবাঞ্ছিত ছিলেন, ক্লাব পর্যায়ের বাইরে বোর্ডে জায়গা পাওয়া তো দূরের কথা, জাতীয় পর্যায়ের কোনো কমিটিতেও জায়গা পাননি- তাদের অনেকেই এবারও বাড়তি সুবিধা কিংবা অগ্রাধিকার পাননি। তাদের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বিএনপি নেতাদের আশীর্বাদপুষ্টদের আধিক্যই বেশি ছিল।

তিন ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত ২৩ জন পরিচালকের (এনএসসির দুইজন বাদে) মধ্যে শাসকদলের শীর্ষ নেতাদের পরিবারভুক্ত ও আশীর্বাদপুষ্টদের সংখ্যা প্রায় ৬০ শতাংশ বলেও দাবি করা হচ্ছে।

 

 

তবে বিসিবির নতুন সভাপতি তামিম ইকবাল মনে করেন না যে নির্বাচন নিয়ে বড় ধরনের কোনো বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তামিমের অনুভব, এবারের নির্বাচন পক্ষপাতদুষ্ট বা অনিয়মে ভরা ছিল না। তার দাবি, তিনি যে ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচন করেছেন, সেই ক্যাটাগরি ‘২’-এ যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে।

এটিকে সুষ্ঠু নির্বাচন দাবি করে তামিম বলেন, ‘আমি যে ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচন করেছি, আমার কাছে মনে হয় এই ক্যাটাগরিতে প্রচণ্ড পরিমাণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। আপনি দেখেন, একজন এক ভোটের কারণে পরিচালক হতে পারেননি।’

এছাড়া তামিম মিডিয়াকে জানিয়েছেন, বড় ধরনের বিতর্ক এড়ানোর জন্যই তারা কোনো প্যানেল ঘোষণা করেননি। তাতে নির্বাচন একতরফা হয়ে যেতে পারত।

 

এ প্রসঙ্গে বিসিবির নতুন সভাপতির ভাষ্য, ‘আমি আবারও একটা জিনিস বলি, আজকে বলতে পারি। আমাকে বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে যে আমরা যেন প্যানেল ঘোষণা করি। কেন আমরা প্যানেল ঘোষণা করছি না? আমি যদি প্যানেলটা ঘোষণা করে দিতাম, তাহলে হয়তো এটা একেবারে ওয়ান-সাইডেড হয়ে যেত। কিন্তু আমি কোনো সময়ই সেটা করতে চাইনি। কারণ এখানে ১৬ জন প্রার্থী ছিল এবং আমি সবাইকে একটি ফেয়ার চান্স দিতে চেয়েছি। এই কারণেই নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠানটাও একসঙ্গে করেছি। উনারাও বিশ্বাস করেন যে সবাই সমান সুযোগ পেয়েছেন। এটাই ছিল প্যানেল ঘোষণা না করার সবচেয়ে বড় কারণ। আপনি বিগত অনেক নির্বাচনে দেখবেন, কখনও প্যানেল হয়েছে, কখনও হয়নি। কিন্তু আমাদের প্যানেল না দেওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ ছিল—এই ১৬ জন মানুষ যেন যথেষ্ট সুযোগ পান।’

জেলা ও বিভাগ থেকে আসা কাউন্সিলর মনোনয়নের দায় নিজের ওপর নিতে চান না তামিম। তার ব্যাখ্যা, ‘জেলা-বিভাগে যখন কাউন্সিলর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তখন হয়তো আমি অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ছিলাম। কিন্তু আমি এসব নিয়ন্ত্রণ করি না। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করে জেলা ক্রীড়া সংস্থা। তারা কাকে কাউন্সিলরশিপ দেবে বা দেবে না, সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। আর পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটাই পরিচালনা করেছে ইসি। আমি এতটুকু বলতে পারি, আমার যতটা নিরপেক্ষ থাকা দরকার ছিল, আমি চেষ্টা করেছি পুরোপুরি তা থাকতে। আর নির্বাচনটা আমার কাছে খুব সুন্দর ও স্মুথলি হয়েছে বলে মনে হয়েছে। একটা নির্বাচনি আবহ ছিল। আমি নিশ্চিত, আপনারা হয়তো অন্য জায়গা থেকে লাইভ দেখেছেন। কিন্তু যদি ঘটনাস্থলে থাকতেন, বুঝতে পারতেন এখানে একটা টানটান উত্তেজনা ছিল—কে জিতবে, কে হারবে। সবাই টেনশনে ছিল। কেউ যদি এক ভোটেও পাস করে, তাহলে নির্বাচন কেমন হয়েছে সেটা আর আলাদা করে বলার দরকার পড়ে না।’

মাঝে তামিম যখন বিসিবির আহ্বায়ক কমিটির প্রধান ছিলেন, তখন সমালোচকরা এই বোর্ডকে ‘বাপের দোয়ার বোর্ড’ বলে অভিহিত করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে বিসিবির নতুন নির্বাচিত সভাপতি তামিম ইকবাল রসিকতা করে বলেন, ‘বাপের দোয়ার ক্রিকেট বোর্ডকে ক্রিকেটের দোয়ার বিসিবিতে পরিণত করতে চাই।’