বাগেরহাট জেলার খানজাহান আলী (রহ.) মাজারসংলগ্ন দীঘিতে থাকা কুমিরটি স্থানান্তরের পর পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মাজারের খাদেমরা।
রোববার (৭ জুন) দুপুরে বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে মাজারের প্রধান খাদেমসহ অন্যরা এ সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কুমিরটি মাজারের দীঘিতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা।
এর আগে কুমিরটির হামলায় আট বছর বয়সি ফাতেমা নামের এক শিশু নিহত হয়। ঘটনার পর গত বুধবার (৩ জুন) কুমিরটি বন বিভাগ উদ্ধার করে খুলনার বয়রার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে স্থানান্তর করে।
সংবাদ সম্মেলনে মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তরিকুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা শোক প্রকাশ করছি এবং নিহত শিশুর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। তবে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, এই কুমির শুধু একটি প্রাণী নয়, এটি বাগেরহাটের ঐতিহ্যের প্রতীক, মানুষের আবেগের অংশ এবং ইতিহাসের জীবন্ত স্মারক।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসন চাইলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে, দর্শনার্থীদের জন্য সুরক্ষা বেষ্টনী ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কুমিরটি দীঘিতেই রাখা সম্ভব ছিল; কিন্তু স্থানীয় জনগণ, মাজার কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের মতামত ছাড়াই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি কুমিরটি পুনরায় মাজারের দীঘিতে ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ খালিদ আহমেদ, শেখ রবিউল ইসলাম ও শেখ আব্দুল জলিল।