ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ-কোলা সড়কে বৃষ্টির পানিতে কাদাযুক্ত পিচ্ছিল অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ১৫টি যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে প্রায় ২৫-৩০ জন আহত হয়েছেন।
তবে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুরের দিকে কোলা সড়কের খ্রিষ্টান মিশনের সামনে প্রায় ৫০০ মিটার এলাকাজুড়ে সড়কের ওপর জমে থাকা মাটি বৃষ্টির পানিতে পিচ্ছিল কাদায় পরিণত হয়। ফলে ওই পথে চলাচলকারী মোটরসাইকেল, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে থাকে।
খবর পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা জানান, দুপুর ২টার দিকে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, একের পর এক যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ছে এবং চালক ও যাত্রীরা আহত হচ্ছেন। এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ১৫টি যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হয়।
দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে উপজেলার গোপালপুর গ্রামের জনি জানান, তার বাড়িতে ঢাকা থেকে আসা অতিথি জীবন চৌধুরী ও সজিব বিশ্বাস মোটরসাইকেলে বাসস্ট্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হলে ওই স্থানে দুর্ঘটনার শিকার হন। তারা আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। একইভাবে আরও বহু যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে বলে তিনি জানান।
স্থানী সূত্র জানায়, আগের রাতে পাশের একটি মাঠ থেকে ট্রাকে করে মাটি পরিবহনের সময় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাটি সড়কের ওপর পড়ে থাকে। পরে শনিবার দুপুরে বৃষ্টির কারণে সেই মাটি কাদায় পরিণত হলে দুর্ঘটনার সূত্রপাত ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসকে সড়কের কাদা অপসারণের জন্য অনুরোধ করা হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, যিনি সড়কে মাটি ফেলে এই অবস্থার সৃষ্টি করেছেন, তাকেই কাদা পরিষ্কার করতে হবে। তার পরিচয় বা মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
পরে কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন, এমন অজুহাত দেখিয়ে কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই ফিরে যায় বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।
এদিকে প্রশাসনিক সহায়তা না পেলেও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা মানবিক কারণে সড়কে অবস্থান নিয়ে পথচারী ও যানবাহন চালকদের সতর্ক করেন এবং দুর্ঘটনা এড়াতে স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করেন। তাদের এ উদ্যোগ সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।