Image description
বাজেট অধিবেশন বসছে আজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন আজ বেলা ৩টায় শুরু হবে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন বসবে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষ থেকে এই অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হবে। ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট উপস্থাপন করবেন।

গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী বাংলাদেশে নতুন সরকারের এটাই প্রথম বাজেট। তাই নানা কারণে এবারের অধিবেশন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিএনপির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে তাদের দলীয় সংসদ-সদস্যদের বাজেটের ওপর আলোচনায় সুনির্দিষ্ট মতামত দেওয়ার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। একইভাবে বাজেট চুলচেরা বিশ্লেষণ করবেন বিরোধী দলের সদস্যরাও। তারাও সরকারের ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দিতে উন্মুখ হয়ে আছেন।

সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দীর্ঘ বক্তব্যে না গিয়ে বাজেটের উল্লেখযোগ্য দিক পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে সংসদ-সদস্যদের দেখানো হবে। মৌখিক বক্তব্যের পাশাপাশি সংসদে একাধিক ডিজিটাল স্ক্রিন, মালটিমিডিয়া প্রজেক্টর এবং গ্রাফিক্সের মাধ্যমে বাজেটের আয়-ব্যয়ের খাতওয়ারি বরাদ্দ এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের তথ্যবহুল চিত্র তুলে ধরবেন তিনি।

জানা গেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি এ বাজেটকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম উচ্চাভিলাষী বাজেট হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য এবারের বাজেট পরিকল্পনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

সাধারণত বাজেট অধিবেশনটি দীর্ঘ হয়ে থাকে। সংসদ-সদস্যদের আলোচনার পর ৩০ জুন পাশ হবে নতুন অর্থবছরের বাজেট। এর আগে পাশ করা হবে চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট। এবারের অধিবেশন কতদিন চলবে, তা জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে নির্ধারণ করা হবে। রোববার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনে কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজেট পাশ ছাড়াও এবারের অধিবেশনে একাধিক জনগুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপনের কথা রয়েছে। এছাড়া ক্ষমতাসীন বিএনপি অধিবেশনের শুরুতেই তাদের নির্বাচনি ইশতেহার এবং জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠন করতে চায়। আগের অধিবেশনে সরকারি দলের নাম ঘোষণার পাশাপাশি বিরোধী দলের পাঁচজনের নাম চাওয়া হয়। কিন্তু এখনো সাড়া দেয়নি বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী-জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোট।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে জাতীয় সংসদের এবারের অধিবেশন। প্রথম অধিবেশনের মতোই উত্তাপ ছড়াবে দ্বিতীয় অধিবেশনও-এমনটাই মনে করছেন তারা। এই অধিবেশনে বাকি সংসদীয় কমিটিগুলো গঠন করা হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিজয়ী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ-সদস্যরা বাজেট অধিবেশনেই প্রথম যোগ দেবেন। এছাড়াও একজন নারী হুইপ নিয়োগ দেওয়া হবে এই অধিবেশনে।

কবে নাগাদ সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হবে জানতে চাইলে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি যুগান্তরকে বলেন, আগামী অধিবেশনেই কমিটিগুলো গঠন করা হবে।

এদিকে বাজেট অধিবেশন শুরুর আগের দিন শনিবার বিএনপির সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ৩টায় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় দলীয় সংসদ-সদস্যদের বাজেটের ওপর আলোচনা এবং সুনির্দিষ্ট মতামত দেওয়ার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া সংসদ-সদস্যদের জন্য সংবিধান, কার্যপ্রণালি-বিধি ও সংসদীয় রীতিনীতি এবং কার্যক্রম বিষয়ে ২ দিনের ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির আয়োজন করে সংসদ সচিবালয়। নতুন সরকারের প্রথম অধিবেশনে ৯৪টি বিল পাশ হয়। উত্থাপন করা হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের আগে সর্বশেষ সংসদ অধিবেশন শেষ হয় ২০২৪ সালের ৩ জুলাই। সেটি ছিল বাজেট অধিবেশন, যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন ও পাশ করা হয়। ওই বছরের ৩০ জুন বাজেট পাশের পর ৩ জুলাই অধিবেশন শেষ হয়। এরপর ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।

সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ ঘোষণা : সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন উপলক্ষ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, শনিবার রাত ১২টা থেকে নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে সব প্রকার অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, অন্যান্য ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন এবং কোনো সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা, বিক্ষোভ প্রদর্শন ইত্যাদি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হচ্ছে। অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে।