ভারত থেকে সম্ভাব্য অবৈধ পুশইন ঠেকাতে মেহেরপুর সীমান্তে নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করেছে চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। সীমান্তজুড়ে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা, স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ চেকপোস্ট এবং সন্দেহজনক চলাচলের ওপর রাখা হচ্ছে সার্বক্ষণিক নজরদারি।
মঙ্গলবার (২ জুন) দিবাগত রাতে মেহেরপুর সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যরা অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সীমান্তবর্তী কয়েকটি পয়েন্টে ভারতীয় ভূখণ্ডে কিছু মানুষের সমাগমের তথ্য পাওয়া গেছে। বিজিবির দাবি, যেসব এলাকায় পুশইনের আশঙ্কা থাকে, সেখানে ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতার সংলগ্ন আলোগুলো অনেক সময় নিভিয়ে রাখা হয়। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত টহল ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের আওতাধীন মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার মোট ১৯টি বিওপি ও একটি আইসিপির মাধ্যমে প্রতিদিন ৮১টি টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, আনসার ও ভিডিপির সঙ্গে সমন্বয় করে সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
মুজিবনগর বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আশরাফুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, সীমান্তের ওপারে অস্বাভাবিক জনসমাগম কিংবা আলোকসজ্জা বন্ধ থাকার মতো পরিস্থিতি দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ওই এলাকায় অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়। একই সঙ্গে মাইকিং ও আলো ফেলে সতর্ক করা হয়, যাতে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশের সুযোগ না থাকে।
একই ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান বুড়িপোতা বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আবুল বাশার এবং শোলমারি বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার হারুনুর রশিদ। হারুনুর রশিদ বলেন, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে। কোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে গ্রামবাসীরা দ্রুত বিজিবিকে সহযোগিতা করছেন।
চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান এশিয়া পোস্টকে বলেন, সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন, বিশেষ টহল বৃদ্ধি এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। দেশের সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনোভাবেই অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন না ঘটে, সে বিষয়ে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অবৈধ অভিবাসী ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণের জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে মৌখিকভাবে এবং পতাকা বৈঠকের মাধ্যমেও জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ধরনের পুশইন গ্রহণযোগ্য নয় বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।