Image description

দুইদিনের সফরে ঢাকায় আসছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় পা রাখবেন তিনি। গত মার্চে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের আঙ্কারা সফরের পর হাকান ফিদানের এই সফর বেশ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামপ্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংলাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করে বলে মনে করেন কূটনীতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র বলছে, সফরকালে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। হাকান ফিদানের সফরকে কেন্দ্র করে বিস্তারিত প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা। এক্ষেত্রে ঢাকাস্থ তুরস্কের দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। সফর শেষে দুই দেশের একটি যৌথ সাংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্বিপক্ষীয় সফরে তুরস্কে যান। সেখানে তিনি হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশ কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে তুরস্কের ডিপ্লোম্যাসি একাডেমি এবং বাংলাদেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সেই বৈঠকে বাংলাদেশ তুরস্কের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানায় এবং দক্ষ বাংলাদেশি জনশক্তির জন্য তুরস্কের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে। তুরস্ক বাংলাদেশের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির প্রার্থিতার প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছরের অক্টবরে ঢাকা সফর করেন তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বেরিস একিনসি। পাঁচ বছরের বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-তুরস্ক ফরেন অফিস কনসালটেশনে তিনি তুরস্কের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। সেই বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, নিরাপত্তা, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, অভিবাসন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। দুই দেশ রাজনৈতিক সংলাপ আরও জোরদার এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে।