Image description

রাজধানীতে বেশির ভাগ মানুষ কোরবানির পশু কেনেন শেষ মুহূর্তে। তার ওপর গতকাল দুপুর থেকেই রাজধানীতে ছিল ঝুম বৃষ্টি। কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে রাজধানীর পশুর হাটসহ বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে হাটে ক্রেতার সংখ্যা ছিল খুবই কম। যদিও বিকালের পর থেকে ক্রেতার সংখ্যা বাড়তে থাকে। তবুও আশানুরূপ না বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন হাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। গাবতলী পশুর হাটে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক গরু আনা হয়েছে। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক ছাগলও এনেছেন ব্যাপারিরা।

এ ছাড়াও বেশ কিছু মহিষ ও ভেড়া দেখা গেছে। হাট কর্তৃপক্ষ জানায়, হাটে গরু রাখার জন্য ত্রিপলে মোড়ানো বিশেষ শেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি গরমে গরুর কষ্ট লাঘবে বৈদ্যুতিক ফ্যানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া হাটে টাকার বিনিময়ে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থাও রয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। হাটে নগদ টাকা লেনদেন হওয়ায় হাট কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাসেবক, পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এদিকে সোমবার দিনব্যাপী ছিল মেঘলা আকাশ। দিনভর বেশ ভারী বৃষ্টিও হয়েছে। এদিন থেকে সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। বিক্রেতারা পশু বিক্রি বৃদ্ধির আশা করেছিলেন। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় তা হয়নি। গাবতলী পশুর হাটে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল কম। যারা গিয়েছেন তাদের অনেকেই পশু না কিনেই ফিরে গেছেন।

বিক্রেতারা জানান, এখনো তাদের গরু বিক্রি ভালোভাবে শুরু হয়নি। মাঝে মধ্যে দু’-একটি বিক্রি হচ্ছে। সোমবার মেঘলা আকাশ ও ভারী বৃষ্টির কারণে ক্রেতারা বাজারে আসেননি বলে ধারণা তাদের। ঈদের দিন ঘনিয়ে আসছে। মঙ্গলবার থেকে বিক্রি বাড়ার আশা করছেন তারা। এদিকে ক্রেতারা জানান, গতবারের থেকে এবার গরুর দাম অনেক বেশি। দাম কমাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না বিক্রেতারা। শেষ মুহূর্তে দাম কমে যাবে বলে ধারণা করছেন তারা।

সিরাজগঞ্জ থেকে ১৫টি গরু নিয়ে এসেছেন ব্যাপারী ফয়জুল হক। এর মধ্যে মাত্র দু’টি গরু বিক্রি করতে পেরেছেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম। এজন্য বিক্রিও কম। বড় গরুর গ্রাহক নেই বললেই চলে। তবে পূর্ব অভিজ্ঞতা বলছে, বড় গরু শেষ মুহূর্তেই বিক্রি হয়। আর ঢাকার মানুষ শেষ মুহূর্তেই বেশি গরু কেনে। তাই এখনো আশা নিয়ে বসে আছি। ব্যাপারী খায়রুল হক বলেন, হাটে মাঝারি গরুর চাহিদা সবসময় বেশি থাকে। বর্তমানে মাঝারি আকারের গরু দেড় থেকে ২ লাখ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল আমরা বিক্রি বাড়ার আশা করেছিলাম। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিক্রি তুলনামূলক কম।

এদিকে ক্রেতা সোলায়মান কবির বলেন, কোরবানির জন্য দু’টি গরু কিনতে চাই। আমার চাহিদা মাঝারি আকারের গরু। এবার বাজেটের মধ্যে গরু পাওয়া যাচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত দেখবো। যদি দাম না কমে তাহলে বাজেটের মধ্যে একটি গরু কিনবো। তবে এবার গাবতলী হাট শৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সবমিলিয়ে হাটের পরিবেশ স্বস্তিদায়ক। রাইসুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, চারটি পশুর হাট ঘুরেছি। এবার দাম তুলনামূলক বেশি। ৩টি গরু কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। আজ একটি কিনতে চেয়েছিলাম। বৃষ্টির কারণে কেনা হয়নি।