Image description

নারী শিক্ষার্থীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় বুলিং ও হেনস্তার দায়ে অভিযুক্ত আলী আহসান মুজাহিদের সঙ্গে ইসলামী ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সকল স্তরের জনশক্তিকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকতে বলেছে শাখা সংগঠনটি। রোববার (২৪ মে) রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান সোহান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে ওই শিবিরকর্মীর বিচার দাবি করা হয়েছে। 

শাখা সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন রনি ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আলী আহসান মুজাহিদ একজন নারী শিক্ষার্থীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অশ্রাব্য ও অশালীন ভাষায় যে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন তার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও যথাযথ বিচারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একজন নারী শিক্ষার্থী আলী আহসান মুজাহিদের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের বিষয়টি প্রকশ্যে আনেন। উক্ত পোস্টে প্রদত্ত স্ক্রিনশটগুলোতে দেখা যায় আলী আহসান মুজাহিদ খুবই কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও অশ্রাব্য ভাষায় মন্তব্য করেন। যা সভ্য সমাজে অগ্রহণযোগ্য ও অত্যন্ত নিন্দনীয়।

ইসলামী ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীদের নৈতিক মানোন্নয়ন, সৎ, মানবিক ও উত্তম চরিত্রের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু আলী আহসান মুজাহিদ যে শব্দচয়নে মন্তব্য করেছেন তা ছাত্রশিবিরের আদর্শ ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। এমন হীন কর্মকাণ্ডের কারণে আলী আহসান মুজাহিদের সঙ্গে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সকল স্তরের জনশক্তির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হলো।

সংগঠনটির নেতারা আরো বলেন, আলী আহসান মুজাহিদের এহেন অপরাধের যথাযথ বিচার নিশ্চিতে ইসলামী ছাত্রশিবির সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে। উক্ত ঘটনার যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

জানা গেছে, শামসুন নাহার হল ও হল সংসদকে কেন্দ্র করে ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ গ্রুপে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে এক নারী শিক্ষার্থী মন্তব্য করলে, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের পরিচয় আড়াল করে ‘ScenicLizard7729’ নামের একটি বেনামি আইডি থেকে তাকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত অশালীন ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। 

ওই মন্তব্যে শিক্ষার্থীকে ‘আইছে বাম ব্যাশা (....)’ বলে কটূক্তি করা হয়। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনুসন্ধান করে জানতে পারেন, বেনামি আইডিটির পেছনে ছিলেন অভিযুক্ত মোজাহিদ। বিষয়টি নিশ্চিত হতে রুমি তাকে মেসেঞ্জারে সরাসরি মেসেজ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, তাকে এ কাজ করার জন্য ‘লেলিয়ে’ দেওয়া হয়েছে। এমন ঘটনার জন্য নারী শিক্ষার্থীর কাছে ক্ষমাও চান তিনি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ‘একটি পোস্টে মন্তব্য করার পর একটি বেনামি আইডি থেকে তাকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল ও আপত্তিকর ভাষায় মন্তব্য করা হয়। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, ওই আইডিটি তার পরিচিত একজনের।’ 

তার ভাষ্য, অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে তিনি বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছেন এবং তাকে ছোট ভাই হিসেবেই চিনতেন। এছাড়া ওই ব্যক্তি নিজেই একাধিকবার ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা বলেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।