ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলে দোকানে পা তুলে বসাকে কেন্দ্র করে এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে পেটানোর ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনের মধ্যে তিনজনই ছাত্রদলের পদধারী নেতা। এ জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারা। আজ সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এবং হল প্রাধ্যক্ষের সাথে ডাকসু নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ শেষে অক্টোবর স্মৃতি ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।
এ সময় ডাকসু সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মুহাম্মদ বলেন, যাদের নেতৃত্বে এই হামলাটি হয়েছে—ঝলক দাস, চন্দন, রিপন এবং সাগর; চারজনই সরাসরি ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত। চারজনই ভিকটিমের জুনিয়র। একজন জুনিয়র হয়ে সিনিয়রের গায়ে হাত দেবে, এটি রাজনৈতিক ব্যাকআপ ছাড়া কখনোই সম্ভব হতে পারে না।
তিনি বলেন, ছাত্রদল তাদেরকে অব্যাহতি দিয়েছে—আমরা এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখতে চাই। কিন্তু আমরা অতীতে দেখেছি, যখনই ছাত্রদলের বিভিন্ন নেতাকর্মী এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল, তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি কন্ট্রোলের জন্য তাদেরকে অব্যাহতি দিয়েছে এবং কিছুদিন পরে তাদের নেতৃত্বেই আবার দলে টেনে নেওয়া হয়েছে। এই ধরনের ঘটনার এখানে পুনরাবৃত্তি ঘটবে কিনা, সেটি নিয়ে আমরা যথেষ্ট শঙ্কায় আছি।
মুসাদ্দিক বলেন, এই বিষয়গুলো আমরা হল প্রাধ্যক্ষকে জানিয়েছি। হল প্রাধ্যক্ষ এবং এই ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা আমাদের জানিয়েছেন আশা করা যায় যে, একদিন বা আজকের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন চলে আসতে পারে। আমরা খুব দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছি প্রশাসনকে। হল প্রাধ্যক্ষ খুব শক্তভাবে বলেছেন তিনি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চান এবং তার হল সম্পর্কে যাতে কোনো কালিমা লিপ্ত না হয় সে ব্যাপারে তিনি পদক্ষেপ দিবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রত্যেকটা ঘটনা একেকটা অ্যাসিড টেস্ট। সেই জায়গা থেকে দৃঢ়ভাবে বলছি, আমরা এটার শেষ দেখে ছাড়ব। যতক্ষণ পর্যন্ত ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হবে, ডাকসু ততক্ষণ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে এবং এই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেই ছাড়বে।
এসময় ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য মো মিফতাহুল হোসাইন মারুফ বলেন, আমরা দেখেছি শাহবাগ থানায় সাংবাদিক, ডাকসু নেতৃবৃন্দের উপর ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ হামলা করেছে যার কোনো বিচার না হওয়াতে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।