বরিশালে উদ্বেগজনক হারে তরুণরা জড়িয়ে পড়ছে অনলাইন জুয়ায়। স্মার্টফোনের মাধ্যমে সহজ লেনদেনের সুযোগ থাকায় শহর থেকে গ্রাম-সবখানেই ছড়িয়ে পড়ছে এই প্রবণতা। অল্প সময়ে বেশি অর্থ আয়ের প্রলোভনে অনেক তরুণ জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। আর লোকসানের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে কেউ কেউ জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধে।
আইটি বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ অনলাইন জুয়ার সাইট নিরাপদ নয়। এসব সাইট ব্যবহারের ফলে ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অনেকেই পরে সাইবার ব্ল্যাকমেইলের শিকার হচ্ছেন। সচেতন মহল বলছে, তরুণদের এ আসক্তি থেকে ফিরিয়ে আনতে পরিবারকে আরও কঠোর ও সচেতন ভূমিকা নিতে হবে।
গত দুই বছরে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত প্রায় অর্ধশত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে এসব কার্যক্রম বন্ধে নজরদারি ও অভিযান জোরদারের কথাও জানিয়েছে তারা।
তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে প্রচলিত জুয়ার রূপ বদলে এখন তা অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। হাতে থাকা স্মার্টফোন দিয়েই বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ, বিশেষ করে তরুণরা, জড়িয়ে পড়ছেন এ নেশায়। অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে দ্রুত লাভের আশায় অনেকেই অনলাইন জুয়ার দিকে ঝুঁকছেন।
তরুণদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহজে অর্থ আয়ের নানা লোভনীয় বিজ্ঞাপন তাদের আকৃষ্ট করছে। শুরুতে কেউ কেউ লাভবান হলেও পরে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আবারও জুয়ায় টাকা বিনিয়োগ করছেন অনেকে। অর্থের সংকট দেখা দিলে কেউ কেউ অপরাধের পথেও হাঁটছেন।
নাবিল নামে এক তরুণ বলেন, অল্প পুঁজিতে লাভের আশায় অনেক তরুণ অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে পড়ে। শুরুতে লাভ হলেও পরে অনেককে সব হারাতে দেখেছি। আমরা চাই এ বিষয়ে কঠোর আইন প্রয়োগ হোক।
আরেক তরুণ আরিফ বলেন, যেভাবে বিভিন্ন অশ্লীল ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে, একইভাবে অনলাইন জুয়ার সাইটগুলোও বন্ধ করা উচিত। তাহলে অনেক তরুণ এ পথ থেকে ফিরে আসবে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ জুয়ার সাইটে তথ্য সুরক্ষার যথাযথ ব্যবস্থা থাকে না। ফলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ও ব্যাংকিং তথ্য ঝুঁকিতে পড়ে।
ইঞ্জিনিয়ার বিডি নেটওয়ার্কের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার জিহাদ রানা বলেন, অনলাইন জুয়ার বেশির ভাগ সাইটে নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল। এতে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ব্যাংকিং তথ্যও ঝুঁকিতে পড়ে। ফলে অর্থ হারানোর পাশাপাশি সাইবার ব্ল্যাকমেইলের শিকার হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।
সচেতন মহলের প্রতিনিধি কাজী আল মামুন বলেন, তরুণদের অনলাইন জুয়ার আসক্তি থেকে দূরে রাখতে পরিবারকে কঠোর হতে হবে। সন্তানদের মোবাইল ব্যবহারে নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রয়োজন হলে স্মার্টফোনের পরিবর্তে সাধারণ ফোন ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া যেতে পারে।
এদিকে অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে প্রযুক্তির সহায়তায় নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ। নিয়মিত অভিযানও পরিচালনা করা হচ্ছে।
সবশেষ ২০২৪ সালে ‘টুসকি’ নামে একটি অনলাইন জুয়ার সাইটের বরিশাল বিভাগের প্রধান ইব্রাহিম খান কামরানকে আটক করেছিল বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ।