Image description

ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে দেশের প্রধান মহাসড়কগুলোতে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনার আওতায় আট মহাসড়কের ১১৩ স্থানকে যানজটপ্রবণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চাপ সামলাতে এসব পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট সবচেয়ে বেশি রয়েছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে। এ সড়কের ৩০ স্থানকে যানজটপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে ২৫টি করে ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ১৪, ঢাকা-ময়মনসিংহে ৯, ঢাকা-বরিশালে ৫, ঢাকা-কক্সবাজারে ৪ এবং যশোর-খুলনা মহাসড়কে ২টি পয়েন্টকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে।

তবে পুলিশের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহাসড়কসংলগ্ন পশুর হাট বসা, চলমান সড়ক ও সেতুর নির্মাণকাজ, অবৈধ পার্কিং, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো, টোল প্লাজায় ধীরগতির টোল আদায় ইত্যাদি কারণে যানজট পরিস্থিতি আরও তীব্র হতে পারে।

এদিকে ঢাকার চন্দ্রা ফ্লাইওভারের পশ্চিম পাশ, বাইপাইল মোড়, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, ভৈরব ও রূপসী বাসস্ট্যান্ড, কুমিল্লার মিয়াবাজার ও পদুয়ার বাজার এলাকাকে সবচেয়ে বেশি যানজটপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া গাজীপুরের বিভিন্ন অংশ এবং মেঘনা-গোমতী সেতু এলাকায়ও বিশেষ নজরদারি রাখা হবে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা বলেন, ‘মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি।’

যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে-ঈদের আগে সার্বক্ষণিক ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন, মহাসড়কসংলগ্ন পশুর হাট নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা, দ্রুত সড়ক সংস্কারকাজ শেষ করা, টোল প্লাজায় সব লেন চালু রাখা এবং মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল সীমিত করা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চিহ্নিত এসব ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এবারের ঈদযাত্রায় ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ৩০ পয়েন্ট : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে রূপসী বাসস্ট্যান্ডে গার্মেন্ট শ্রমিকদের চাপ এবং অত্যধিক যানবাহন চলাচল করে। পাশের বরপা বাসস্ট্যান্ডও যানজটপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ অন্য পয়েন্টগুলো হলো পাকিস্তানি (এসিএস) গার্মেন্টস এলাকা, রবিন টেক্স গার্মেন্টস এলাকা, রূপগঞ্জের ভুলতা মোড়, গোলাকান্দাইল মোড়, আড়াইহাজারের বাটিবাজার, পাঁচরুখী ও ছনপাড়া, পুরিন্দাবাজার, বরাবো বাসস্ট্যান্ড, তারাবো গোলচত্বর, পাঁচদোনা মোড়, ভেলানগর বাসস্ট্যান্ড, ইটাখোলা বাসস্ট্যান্ড, দুর্জয় মোড়, নিউটাউন মোড়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ গোলচত্বর, বিশ্বরোড গোলচত্বর, কোটাপাড়ার মোড়, বাড়িউড়া বাজার ও বাসস্ট্যান্ড, শাহবাজপুর বাজার ও বাসস্ট্যান্ড, রামপুর বাজার ও ব্রিজ, হবিগঞ্জ ও সিলেটের ইসলামপুর বাজার ও বাসস্ট্যান্ড, মাধবপুর বাজার এলাকা, শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুর, শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকা, গোলায়া বাজার, শেরপুর মোড় এবং আউশকান্দি বাজার।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ২৫ পয়েন্ট : নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের চিটাগাং রোড বাসস্ট্যান্ড ও সাইনবোর্ড বাসস্ট্যান্ড, কাঁচপুর ব্রিজের ঢাল, লাঙ্গলবন্দ ব্রিজ, যাত্রামুড়া ব্রিজ, মোগড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড, মেঘনা টোল প্লাজা, এশিয়ান রোড, পাখির মোড়, মানাবে ওয়াটার পার্ক, ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড, কলেজ গেট (অলিক কাছি ইউটার্ন), আনারপুরা ইউটার্ন, ভাটেরচর নতুন রাস্তার মাথা ইউটার্ন, কুমিল্লা ও ফেনী এলাকার হিস পমেন্ট ইউটার্ন, বলদাখাল, চান্দিনা বাজার, নিমসার বাজার, মিয়াবাজার ও চৌদ্দগ্রাম বাজার, বেসিক মোড় ও লালপুল, কসকা বাজার ও সমিতি বাজার, বারৈয়ারহাট ও মিরসরাই, সীতাকুণ্ড ও বড় দারোগারহাট ওজন স্কেল, কুমিরা, ছোট কুমিরা, কেডিএস মোড়।

ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়ক : চন্দ্রা ফ্লাইওভারের পশ্চিম পাশ, স্কয়ার কাটা, চন্দ্রা জেবি টাওয়ার, সিপি কাটা, পল্লী বিদ্যুৎ, মৌচাক বাসস্ট্যান্ড, পল্লী বিদ্যুৎ বাজার, বাইপাইল মোড়, গোড়াই মোড় সার্ভিস লেন, গোড়াই মিল গেট, চরপাড়া বাইপাস মির্জাপুর, দেওহাটা, করনি ইউটার্ন, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, করোটিয়া হাট বাইপাস, যমুনা সেতু টোল প্লাজা এলাকা, মহাস্থানগড় বাজার, টিএমএসএস মেডিকেল হাসপাতালের সামনে, বনানী মোড়, ধুনট মোড়, নয়মাইল বাজার, চান্দাইকোনা বাজার, গোবিন্দগঞ্জ বাজার এবং মিঠাপুকুর শঠিবাড়ী।

পশুর হাটের কারণে যানজটের প্রবল আশঙ্কা : মৌচাক বাসস্ট্যান্ড, পল্লী বিদ্যুৎ বাজার, দেওহাটা, মহাস্থানগড় বাজার, ধুনট মোড়, নয়মাইল বাজার, চান্দাইকোনা বাজার, গোবিন্দগঞ্জ বাজার, শঠিবাড়ী ও মিঠাপুকুর, কাঁচপুর ব্রিজের ঢাল, চান্দিনা, মাধাইয়া ও ইলিয়টগঞ্জ, নিমসার ও পদুয়ার বাজার, মিয়াবাজার ও চৌদ্দগ্রাম, বারৈয়ারহাট ও মিরসরাই, সীতাকুণ্ড, ভাটিয়ারী ও বারবকুণ্ড।