‘বিনিয়োগ স্থবিরতা’ দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন থেকেই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের নাম। শিল্প স্থাপন, ব্যবসা সম্প্রসারণ কিংবা বড় প্রকল্পে অর্থ লগ্নিÑ সব ক্ষেত্রেই উদ্যোক্তাদের মধ্যে স্পষ্ট অনাগ্রহ। এমনকি মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্তদের নিরাপদ বিনিয়োগের আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগও তলানিতে। এছাড়া ব্যাংক খাতে নানামুখী সংকট এবং ব্যাংক আমানতের সুদ মূল্যস্ফীতির চেয়েও কম থাকায় মানুষ ব্যাংকবিমুখ। পাশাপাশি বিনিয়োগের আরেকটি নাম জমি বা ফ্ল্যাট ক্রয়, সেক্ষেত্রে বড় মূলধন প্রয়োজন। এই ঝুঁকি অনেকের পক্ষেই নেয়া সম্ভব হয় না। আর তাই বিকল্প বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা থাকায় দেশের মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে শেয়ারবাজার এমন একটি জায়গা, যেখানে তুলনামূলক কম অর্থ নিয়েও বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখা যায়। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে দেশের শেয়ারবাজার নানামুখী সংকটে। স্বৈরাচার হাসিনার আমলে শেয়ারবাজারের নানা কেলেঙ্কারিতে বিনিয়োগকারীরা বিপর্যস্ত ছিল। বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিল স্বৈরাচার হাসিনা ভারতে পলায়নের পর বাজার স্বাভাবিক ধারায় ফিরবে। এ ধারাবাহিকতায়ই অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালে ১৮ আগস্ট খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন ব্যাংকার।
পুঁজিবাজার সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিল না। একই সঙ্গে কাজ করেছেন স্বৈরাচার হাসিনার মদদপুষ্ট একাধিক ব্যাংকে। যদিও তার সময়ে ব্যাংক দুটি তলানিতে চলে যায়। রাশেদ মাকসুদ এনআরবিসি ব্যাংকে চাকরিকালীন ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারে জড়িত থাকার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। এরপরও ক্ষমতার ব্যবহার করে শীর্ষপদ দখল করে রেখেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সবার প্রত্যাশা ছিল পুঁজিবাজার দৈন্যদশা থেকে মুক্তি পাবে। তবে কমিশনের খামখেয়ালিপনা, বাজার সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাব, নানা হঠকারী সিদ্ধান্ত, নতুন মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ ও মার্জিন রুলের মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, আইপিও খরা, কমিশনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, পুঁজিবাজারের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অবমূল্যায়ন এবং একটি স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল দ্বারা প্রভাবিত হওয়াসহ নানাবিধ কারণে দেশের পুঁজিবাজার ধবংসের দ্বারপ্রান্তে। এদিকে বিএনপি সরকার ও পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারীদের যেন আস্থার নাম। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সবার প্রত্যাশা ছিল অন্যান্য স্থানের মতো স্বৈরাচার হাসিনার সহচর রাশেদ মাকসুদসহ তার কমিশনকে বাদ দিয়ে নতুন করে সাজানো হবে কমিশনকে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি পুঁজিবাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করে একটি শক্তিশালী ও আধুনিক পুঁজিবাজার তৈরির অঙ্গীকার করেছেন। এছাড়া, বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারকে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। যদিও বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর তিন মাস অতিবাহিত হলেও বিতর্কিত রাশেদ মাকসুদ এখন স্বপদে বহাল রয়েছেন। আর্থিক খাতে নানা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও শেয়ারবাজারের শত্রু হিসেবে পরিচিত এই কমিশনই বহাল রয়েছে। এতে বাড়ছে পুঁজিবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের হতাশা। যদিও সরকারের একাধিক ঊর্ধ্বতন সূত্র জানিয়েছে, পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি থেকে শুরু করে আর্থিক খাতকে দ্রুতই ঢেলে সাজানো হবে। ইতোমধ্যে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো বহাল তবিয়তে রাশেদ মাকসুদ। এমনকি এবার জাতীয় বাজেটে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সরকার কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বড় অর্থায়নের জন্য অর্থমন্ত্রী পুঁজিবাজারকে বেছে নেয়ার পরামর্শও দিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে দুই হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার বদলে উচিত হচ্ছে পুঁজিবাজার থেকে নেয়া। পুঁজিবাজার ধ্বংস হয়ে গেছে, বুঝি। খুব দ্রুত এ বাজারকে কার্যকর করা হবে। পুঁজিবাজার থেকে টাকা নিলে সুদ দিতে হবে না, যতক্ষণ না ওই প্রতিষ্ঠান পয়সা কামায়। পয়সা কামালেই লভ্যাংশ। অন্যদিকে আছে বন্ড বাজার। ব্যাংকের চেয়ে কম সুদে বন্ড বাজার থেকেও ঋণ নেয়া যায়।
বিশেষজ্ঞরা অবশ্য পুঁজিবাজার ইস্যুতে এখন একবারে আলোচনা করতেই রাজি নয়। তাদের মতে, অর্থমন্ত্রী পুঁজিবাজার ধ্বংস হয়ে গেছে উল্লেখ করলেও গত তিন মাসে এখনো অথর্ব রাশেদ মাকসুদকে পরিবর্তন করতে পারেননি। এখনো সক্রিয় বর্তমান কমিশনের অসাধু চক্র। পুঁজিবাজারে সুশাসন ফেরাতে দ্রুত পরিবর্তন এনে এই কমিশনকে আইনের আওতায় আনা দরকার। তাদের মতে, এই সময়ে তো আর হাসিনার লুটেরাদের আধিপত্য নেই। তাহলে কেন এত তলানিতে বা আস্থা ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না। বাজার তলানির জন্য কমিশন দায়ী। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতি কতটা চাঙ্গা তা অনেকটা শেয়ারবাজারের ওপর নির্ভর করে। তাই শেয়ারবাজারে পরিবর্তন না আনতে পারলে আর্থিক খাত স্বাভাবিক ধারায় ফিরবে না। তাই দ্রুত কমিশনে পরিবর্তন এনে সবকিছু ঢেলে সাজানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন থেকে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা কবে আস্থায় আসবে বাজার। তাই নতুন সরকারকে অবশ্যই পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে, যে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা প্রতারিত হবেন না। যে পুঁজিটা বিনিয়োগ করা হবে, তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা দ্বারা নিরাপদ থাকবে। তিনি বলেন, লাভ নাও হতে পারে; কিন্তু বিনিয়োগটা নিরাপদ থাকতে হবে। ধরেন একটি ধোঁকা আইপিও এলো, সেটিতে তো আপনার বিনিয়োগটাই চলে যাবে, লাভ তো দূরের কথা। পুঁজিবাজারে এই স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। এটি করতে না পারলে কখনোই ঘুরে দাঁড়াবে না।
সূত্র মতে, উন্নত দেশগুলোতে বড় ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম শেয়ারবাজার হলেও বাংলাদেশে এখনো এ খাত অনেকটাই পিছিয়ে। অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই খাত মূলধনের জোগান ও মানুষের আয়ের সুযোগ তৈরি করলেও এখনো অস্থিরতা, অসন্তোষ ও বিনিয়োগকারীদের অনাস্থা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। নাম প্রকাশে একাধিক বিনিয়োগকারী বলেন, বর্তমান কমিশনের সময়ে মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ ও মার্জিন রুলের মতো কালো আইন বাস্তবায়নসহ নানাভাবে পুঁজিবাজারকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাশেদ মাকসুদ কমিশনের অথর্বতার উদাহরণ দিয়ে একজন বলেন, ট্রেডিং মূল্য/বাজার মূল্যের সাথে প্রকৃত সম্পদ মূল্যের তুলনার মাধ্যমে মেয়াদি ফান্ডকে অবসায়ন কিংবা বে-মেয়াদি ফান্ডে রূপান্তরের নজির পৃথিবীর শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কোথাও নেই। যেটি এই কমিশন করেছে। এ বিষয়ে একাধিক বিশেষজ্ঞ জানান, ট্রেডিং মূল্য/বাজার মূল্য কখনো সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
সে ক্ষেত্রে সম্পদ ব্যবস্থাপকের প্রকৃত পারফরমেন্স বিবেচিত হয় ফান্ডের ক্রয়মূল্য ও ফেয়ার ভ্যালুতে প্রকাশিত ইউনিট প্রতি নিট সম্পদের মূল্যের ওপর ভিত্তি করে। যদি প্রকৃত সম্পদ মূল্য বা এনএভি এবং ট্রেডিং মূল্য/বাজার মূল্যের তারতম্যের উপর ভিত্তি করে মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডকে অবসায়ন কিংবা বে-মেয়াদি ফান্ডে রূপান্তর করা হয় সে ক্ষেত্রে শেয়ার বাজারের তালিকাভুক্ত সব কোম্পানিকে একইভাবে মূল্যায়ন করা হোক। শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট একাধিক বিশেষজ্ঞ জানান, কমিশনের খামখেয়ালিপনা, বাজার সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাব, নানা হঠকারী সিদ্ধান্ত, পুঁজিবাজারের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদেরকে অবমূল্যায়ন এবং একটি স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নতুন মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ এর মতো কালো আইন বাস্তবায়ন করা হয়, যার ফলে পুঁজিবাজার হাজার হাজার কোটি টাকার মুলধন হারিয়ে বিনোয়াগকারীরা সর্বস্বান্ত হবে।
একই সঙ্গে দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড। মেয়াদি ফান্ড দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে উৎসাহিত করে, পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগের সুযোগ প্রদান করে। ১৬ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত, পুঁজিবাজারে ৩৬টি ক্লোজ অ্যান্ড ফান্ড তালিকাভুক্ত রয়েছে, যার মোট সম্পদ প্রায় চার হাজার ৬৫০ কোটি টাকা।
মাকসুদ কমিশন দ্বারা জারিকৃত নতুন মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫ এর ৬২ (২) অনুযায়ী, ‘এই বিধিমালা সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হইবার পরবর্তী ছয় মাস, কোনো বিদ্যমান মেয়াদি স্কিমের ইউনিট প্রতি গড় ট্রেডিং মূল্য/বাজার মূল্য, যদি উক্ত স্কিমের ক্রয়মূল্য ও ফেয়ার ভ্যালুতে প্রকাশিত ইউনিট প্রতি নিট সম্পদের গড় মূল্যের মধ্যে যাহা বেশি হইবে, ইহার চাইতে ২৫ শতাংশ কম হয়, তাহলে উক্ত মেয়াদি স্কিমের অবলুপ্তির সিদ্ধার গ্রহণ করিতে পারিবে।’ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ দেশের পুঁজিবাজারে হাজার হাজার কোটি টাকার মুলধন হারানোর শঙ্কা তৈরি হবে, যা সামগ্রিক পুঁজিবাজারের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হবে।
একাধিক সম্পদ ব্যবস্থাপক বলেন, বাজার মূল্য কখনো সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে থাকে না। সে ক্ষেত্রে সম্পদ ব্যবস্থাপকের প্রকৃত পারফরমেন্স বিবেচিত হয় ফান্ডের ক্রয়মূল্য ও ফেয়ার ভ্যালুতে প্রকাশিত ইউনিট প্রতি নিট সম্পদের মূল্যের ওপর ভিত্তি করে। এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনা করে প্রকৃত সম্পদ মূল্য বা এনএভির সাথে ওই ফান্ডের ফেস ভেল্যুর তুলনা করে মেয়াদি ফান্ডকে মূল্যায়ন করলে একদিকে খারাপ ফান্ডগুলো অবসায়ন কিংবা বে-মেয়াদি ফান্ডে রূপান্তর হবে, অন্যদিকে ভালো ফান্ডগুলো মেয়াদপূর্তিতে অবসায়ন কিংবা বে-মেয়াদি ফান্ডে রূপান্তর হবে।
এভাবেই রাশেদ মাকসুদ কমিশন বিতর্কিত নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে চলেছে। এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার আইপিও অনুমোদন দিতে পারেনি যা দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সরবরাহের পথকে রুদ্ধ করেছে। এই কমিশনের সময়ে মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে। প্রায় ৬৪ হাজার বিনিয়োগকারী তাদের পোর্টফোলিও বিক্রি করে বাজার ছেড়েছে। শুধু তাই নই; বর্তমান কমিশন বিভিন্ন সময় সংস্কারের নামে যে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা বিনিয়োগকারীদের ধোঁকা দেয়া ছাড়া আর কিছু নয়। এছাড়া এই কমিশন ফ্যাসিস্ট হাসিনার আস্থাভাজন ও সুবিধাভোগী হিসেবে স্বীকৃত শেখ মো. লুৎফুল কবিরের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিকে বিভিন্ন আইন প্রণয়ন ও বিধিবিধান হালনাগাদ কমিটির আহ্বায়ক করেছেন। অথচ শেখ মো. লুৎফুল কবিরের নামে দুর্নীতির মামলা দুদকে চলমান রয়েছে। এই কমিশনের নানা অবিবেচক সিদ্ধান্তের ফলে বিনিয়োগকারীরা সর্বস্বান্ত হলেও, এ যেন দেখার কেউ নেই।
এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিএসইসি থেকে খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে সরিয়ে শিগগিরই নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হতে পারে। তবে নতুন চেয়ারম্যান কে হচ্ছেন তা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ওপর নির্ভর করছে। এক্ষেত্রে অনেকের মুখে নাম এসেছে করপোরেট ব্যক্তিত্ব মাসুদ খানের নাম। তবে মাসুদ খান ও তার পরিবারের সদস্যরাও পুঁজিবাজারের সঙ্গে জড়িত। এইজ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড নামীয় একটি সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানির মালিক তারা। তাই বাজারে প্রশ্ন উঠেছে, কমিশনের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির মালিককে শীর্ষ পদে বসালে তা স্বার্থের সঙ্ঘাত সৃষ্টি করবে।
এছাড়া বর্তমান কমিশনে শুধু অনভিজ্ঞ বা অথর্ব রাশেদ মাকসুদই নয়; পুঁজিবাজারে আরেক বিতর্কিত ব্যক্তি আইডিএলসি সিকিউরিটিজের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফ উদ্দিনও রয়েছে। তাকে বিএসইসির কমিশনার হিসেবে নিয়োগ প্রদানের বিষয়টি পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের হতবাক করছে। মূলত সে একজন ব্যাংকার, পরবর্তীতে কিছু দিন আইডিএলসি সিকিউরিটিজে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তার মতো একজন অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার গুরত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়। মো. সাইফ উদ্দিন কমিশনার হিসেবে যোগদানের পর থেকে একটি কুচক্রী মহল ও কিছু কোম্পানির নানা অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে নীরবে কাজ করে যাচ্ছে। পুঁজিবাজারের তার নামে-বেনামে প্রচুর বিনিয়োগ রয়েছে। এছাড়া আরেক কমিশনার মু. মোহসিন চৌধুরীর বিরুদ্ধেও রয়েছে অবৈধভাবে শেয়ার ব্যবসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে হয়রানি ও সুযোগ নেয়ার অভিযোগ। তাই সাইফ উদ্দিন ও মোহসিন চৌধুরীকেও কমিশন থেকে সরানো বিনিয়োগকারীদের প্রাণের দাবি।