Image description

ইমন আচার্য। র‌্যাব সদস্য। হাঁটছিলেন পথ ধরে। সামনে পুলিশ ধাওয়া করছিল ছিনতাইকারীকে। ইমন যে দিক দিয়ে আসছিলেন ছিনতাইকারী ওদিকেই দৌড়াচ্ছিল। জাপটে ধরলেন ছিনতাইকারীকে। হাতে চাকু ছিনতাইকারীর। ইমনের বুকে আঘাতের পর আঘাত করে। তবুও ইমন অনড়। । এক পর্যায়ে কাহিল হয়ে পড়েন। এ ঘটনাটি ঘটে সিলেটে সুরমা তীরের কিনব্রিজ এলাকায়।

শেষের দৃশ্যটি খুবই করুণ। কাঁদাচ্ছে সবাইকে। ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে মুমূর্ষু অবস্থায় চলে যান ইমন আচার্য। তাৎক্ষণিক তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানেই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন তিনি। টগবগে যুবক ইমন আচার্য। র‌্যাবে কনস্টেবল হিসেবে চাকরি করতেন। বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে। বিয়ে করেছেন গত ফেব্রুয়ারিতে। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় চারদিকে শোকাহত পরিবেশ।

সিলেট নগরের কীনব্রিজ এলাকা। আলী আমজাদের ঘড়ি, চাঁদনীঘাট। পাশেই কোতোয়ালি থানা, সার্কিট হাউস সহ প্রশাসনিক এলাকা। জায়গাটি অপরাধীদের অভয়ারণ্য। মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের আড্ডাস্থল। কাজিরবাজারের পার্শ্ববর্তী মোগলটুলার কুখ্যাত ছিনতাইকারী আসাদুল আলম বাপ্পি। পিতা আবুল হোসেন। বয়স ২২ কিংবা ২৩ বছর। বিশেষ আইন সহ কয়েকটি মামলার আসামি সে। ছিনতাই করে বেড়ায়। মাদকও সেবন করে। শুক্রবার দুপুরে গ্যাংদের নিয়ে আলী আমজাদের ঘড়ির পাশের এলাকায় মাদক ক্রয়, বিক্রয় ও সেবন করছিল। এমন সময় পুলিশের একটি টহল টিম তাদের ধাওয়া দেয়। ছত্রভঙ্গ হয় অপরাধী সবাই।

গ্যাংলিডার বাপ্পি দৌড় দেয় কোতোয়ালি থানার দিকে। থানার অদূরে তার বাসাও। এমন সময় র‌্যাব সদস্য ইমন আচার্য ওই এলাকা দিয়ে আসছিলেন। পেছনে পুলিশ, সামনে অপরাধী। তার কাছে আসতেই ছিনতাইকারী বাপ্পিকে জাপটে ধরে ফেলেন। ধস্তাধস্তির পরও ছাড়ছিলেন না। এক পর্যায়ে ছিনতাইকারী বাপ্পি হাতে থাকা চাকু দিয়ে ইমনের বুক সহ নানা স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে। তবু ইমন অনড়। জাপটে ধরে রাখেন বাপ্পিকে। শরীর থেকে রক্ত ঝরায় তিনি কাহিল হয়ে পড়েন। হাত থেকে ছুটে যায় অপরাধী। তোপখানা এলাকার গলির ভেতরে একটি বাসায় অবস্থান নেয় বাপ্পি। নিজেকে রক্ষা করতে এক শিশুর গলায় চাকু ধরে। বলে, সামনে এগুলেই মেরে ফেলবে। এ সময় তাকে ঘিরে রাখেন কোতোয়ালি থানার এএসআই মাসুক, জামাল এবং কনস্টেবল উজ্জ্বল ও হাকিম। এক পর্যায়ে তারাও বাপ্পির সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেন। আটক করতে সক্ষম হন দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী বাপ্পিকে।

ওদিকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে আহত র‌্যাব সদস্য ইমন আচার্যের শারীরিক অবস্থা ঘটনাস্থলেই গুরুতর হয়ে পড়ে। পুলিশ সদস্যরা তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। জরুরি বিভাগ ঘুরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় আইসিইউতে। সেখানেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনায় শোকাহত র‌্যাব। সঙ্গে পুলিশ সহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। কোতোয়ালি থানার ওসি খান মো. মাইনুল জাকির মানবজমিনকে জানান- ইমন ওই এলাকায় সাদা পোশাকে ছিল। তার সামনে দিয়ে ছিনতাইকারী দৌড়ে পালাতে চাইলে সে জাপটে ধরে। গত ফেব্রুয়ারিতে সে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিল বলে জানান ওসি। এদিকে- ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইমনের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করে পুলিশ। হাসপাতালে ছুটে যান র‌্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

হাসপাতাল এলাকায় মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন- অপরাধী ধরতে গিয়ে র‌্যাব সদস্য ইমন আচার্যের মৃত্যু হয়েছে। ঘাতক বাপ্পিকে আটক করা হয়েছে। এখন থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিকে আইনমত আদালতে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি। এডিসি মিডিয়া কোতোয়ালি থানায় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- বাপ্পিকে ধরতে গিয়ে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। তারাও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।