রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও দ্রুত বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যা থেকে মিরপুর-১০ থেকে ১২ নম্বর পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এতে ওই সড়কে দীর্ঘসময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
অনাকাঙ্ক্ষিত কোনও ঘটনা রোধে সেখানে অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে রাত দেড়টার দিকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুরোধে সকালে আবার জমায়েতের ঘোষণা দিয়ে সড়ক ছেড়ে দেন বিক্ষোভকারীরা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত পৌনে ১০টায় রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের বাসায় রামিসার বাসায় গিয়ে তার বাবা-মাকে সান্ত্বনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তাকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামসহ বিএনপির স্থানীয় নেতারা।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের খবরে রাত সাড়ে ৮টার পর থেকে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ জড়ো হন। এসময় তারা খুনিদের বিচারের দাবিতে নানা স্লোগান দেন। এক পর্যায়ে লোকজন মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর অবরোধ করেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া লোকজন ‘জাস্টিস ফর রামিসা’, ‘ফাঁসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। অনেকের হাতে ছিল প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড। ক্ষুব্ধ জনতার কণ্ঠে উঠে আসে, ‘আমার বোন খুন হলো কেন’, ‘অপরাধীদের ফাঁসি চাই’, ‘অপরাধীর আস্তানা ভেঙে দাও’—এমন নানা স্লোগান।
আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, শিশু রামিসার হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই বারবার এমন নৃশংস ঘটনা ঘটছে।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া সামিউল হক বলেন, ‘বিচার দীর্ঘসূত্রতায় পড়লে অপরাধীরা আরও উৎসাহ পায়। আমরা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘শিশুরা আজ নিরাপদ নয়। অপরাধীরা যেন কোনোভাবেই পার না পায়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় দাবি।’
এর আগে সকালে পল্লবী থানার সামনেও বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। সেখানে তারা রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে পুলিশের কাছে স্মারকলিপি দেন এবং দ্রুত তদন্ত শেষ করার আহ্বান জানান। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেয়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুর-১১ নম্বরের বি ব্লকের একটি ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, শিশুটিকে ধর্ষণ শেষে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যার পর মরদেহ গুম করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাটের ভেতর থেকেই দেহের অংশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনাটি পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

