রাজধানীর দনিয়ায় ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজে এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ঘিরে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটনের অপমানের জেরে ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে- এমন অভিযোগ তুলে তাকে অবরুদ্ধ করে গণপিটুনি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। চেয়ারম্যানের বিচার দাবিতে গতকাল প্রতিষ্ঠানটিতে দিনভর বিক্ষোভ করেছে তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সূত্র মতে, ওই প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিকুন নাহার বুধবার রাতে আত্মহত্যা করেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের করা অপমান সহ্য করতে না পেরে ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করে। দীর্ঘ সময় আন্দোলনের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটনকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় গণপিটুনি দেয় শিক্ষার্থীরা। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
নিহতের সহপাঠীরা অভিযোগ করে জানায়, বুধবার তাদের বাংলা ও অর্থনীতি বিষয়ের মডেল টেস্ট ছিল। সাবিকুন নাহারের অর্থনীতি পরীক্ষার প্রিপারেশন হয়তো ভালো ছিল না, সে পরীক্ষায় চুপচাপ বসে ছিল। এক পর্যায়ে সে খাতায় কিছু একটা আঁকা শুরু করে। সেটা দেখতে পেয়ে ইকোনোমিকসের শিক্ষক ওর খাতা নিয়ে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ হাসান লিটনের কাছে পাঠান। তিনি অনেকটা সময় ধরে সাবিকুনকে বকাঝকা ও তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে নিহত সাবিকুন নাহারের অভিভাবককে ডেকেও দুর্ব্যবহার করা হয়।
সহপাঠীদের দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষের এমন আচরণ মানসিকভাবে মেনে নিতে না পেরে বাসায় ফিরে আত্মহত্যা করে ওই শিক্ষার্থী। আত্মহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে সহপাঠীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সেই ক্ষোভ থেকেই তারা আজ বিক্ষোভ করে। তারা জানায়, এর আগেও প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান লিটন সাবিকুনের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। তার কারণেই সাবিকুন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। তারা চেয়ারম্যানের শাস্তির দাবি তোলে।
কদমতলী থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে, তাদের সহপাঠী সাবিকুন নাহার স্কুলের চাপ ও দুর্ব্যবহারের কারণে আত্মহত্যা করছে। অভিযুক্তকে আমরা হেফাজতে নেয়ার সময় তার ওপর বিক্ষোভকারীরা হামলা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ স্কুল ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছে।
এর আগে বুধবার বিকালে স্কুল থেকে বাসায় ফিরে ঐ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে। নিহত সাবিকুন রাজধানীর ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবার নাম খলিলুর রহমান। গ্রামের বাড়ি নরসিংদীতে।