আট বছরের ফুটফুটে শিশু রামিসা। মায়াবী চেহারার এই শিশুটিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে ঘাতক। লোমহর্ষক এই ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর পল্লবীতে। মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের তৃতীয় তলার পাশের ফ্ল্যাট থেকে রামিসার দুই টুকরো দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহ পাওয়া যায় খাটের নিচে আর বিচ্ছিন্ন মাথা বাসার শৌচাগারে। এ ঘটনায় ঘাতক সোহেল রানা (৩৪)কে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া সোহেল রানার স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। ঘাতক সোহেল পেশায় রিকশার মেকানিক।
পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, এখনো আসামিকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে। পুলিশ জানায়, সোহেল রানা ওই কক্ষে দুই মাস আগে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস শুরু করে। ঘটনার পর সে শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যায়। তবে ওই বাসা থেকে তার স্ত্রীকে তখনই আটক করা হয়।
পুলিশ ও পরিবার জানায়, রামিসা আক্তার স্থানীয় একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো। তার বাবার নাম আবদুল হান্নান মোল্লা। তিনি একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে চাকরি করেন। মায়ের নাম পারভীন আক্তার। তাদের দুই মেয়ের মধ্যে রামিসা ছোট। বড় মেয়ে রাইসা আক্তার স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়ে। পরিবারটি প্রায় ১৭ বছর ধরে পল্লবীর মিরপুর-১১ নম্বরের সেকশনের বি ব্লকের সাত নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তিনতলার ফ্ল্যাটে বসবাস করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল (৩২) শিশুটিকে হত্যা করে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পরপরই বিষয়টি ৯৯৯-এ কল করে জানানো হলে পল্লবী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে সিআইডি ও অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একই ভবনের পাশের বাসায় সোহেল রানা বসবাস করতো। সে একটি রিকশা গ্যারেজে কাজ করে। প্রতিবেশী হওয়ায় রামিসার সঙ্গে সোহেলদের পরিবারের পরিচয় ছিল। সকালে শিশুটিকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে সোহেলদের বাসা থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই সোহেল রানা পালিয়ে যায়। এ সময় স্ত্রীকে আটক করে পুলিশ।
রামিসার চাচা এ কে এম নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বড় বোন রাইসার সঙ্গে রামিসার স্কুলে যাওয়ার কথা। হঠাৎ করেই রামিসাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। তার মা পারভীন ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে দেখেন, রামিসার পায়ের একটি জুতা পড়ে আছে। তখন পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় নক করেন। ভেতর থেকে বন্ধ দরজাটি তখন খোলা হচ্ছিল না। অনেক সময় ধরে নক করা হলেও দরজা খোলা হয়নি। এতে সন্দেহ আরও বাড়ে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে রামিসার লাশ পায়।
এর আগে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে।
পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক বলেন, ঘটনাটি সকালে ঘটেছে। আমরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সোহেল নামে এক ব্যক্তি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত নয়। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।