রীতিমতো ডাকাতি চলছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ব্রিজের টোল আদায়ে। টোল আদায় হলে গাড়ি পারাপারের রেকর্ড সফটওয়্যার থেকে গায়েব করে দেয়া হচ্ছে। ‘রেগনাম রিসোর্সেস লিমিটেড’ তার ‘ইউনিফাইড টোল সিস্টেম সফটওয়্যার’ এ ঢুকে ডাটাবেজ থেকে ট্রানজেকশন গায়েব করছে। প্রাপ্ত প্রমাণাদিতে মিলেছে এসব তথ্য।
প্রশ্ন হচ্ছে, রেগনাম কী করে বছরের পর বছর তার সরবরাহকৃত সফটওয়্যারসমৃদ্ধ টোলপ্লাজা থেকে শত শত কোটি টাকা টোল ডাকাতি করছে ? সড়ক ও সেতুবিভাগের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, রেগনামের ওপর সেতু বিভাগের মনোপলি নির্ভরতা এবং যখন যে সরকার সেই সরকারের কর্তাব্যক্তিদের ‘ম্যানেজ’ করার মাধ্যমে মোহাম্মদ হোসেন জনির প্রতিষ্ঠান বহু বছর ধরে ডাকাতি অব্যাহত রেখেছে। সড়ক ও সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, সারা দেশে ৬৭টির মতো টোল প্লাজা রয়েছে। সবগুলো টোল থেকে রেগনাম রিসোর্সেস লিমিটেড টোলের টাকা চুরি করে না।
কর্ণফুলী, ভৈরব, আত্রাই, নরসিংদীর চরসিন্দুর, নাটোরে বনপাড়া-হাটিকমরুল আত্রাই টোলপ্লাজা, কাচিকাটা টোলপ্লাজাসহ ডজনখানে টোলপ্লাজা থেকে ইউনিফাইড টোল সিস্টেম সফটওয়্যারের মাধ্যমে চুরি করছে টোলের টাকা। বিষয়টি সড়ক ও সেতু বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী থেকে শুরু করে এমআইএস বিভাগে কর্মরত প্রায় সবাই অবহিত। টোল কালেকশনে ‘রেগনাম রিসোর্সেস লিমিটেড’ নামের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সেতু বিভাগের অফিসিয়ালি কোনো চুক্তি নেই। রেগনামের কাছ থেকে সেবা নেয়া হচ্ছে আন-অফিসিয়ালি। রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) পরিচালনার তিনটি সার্ভার স্টেশন রয়েছে। একটি সড়ক ও জনপথ অধিদফতরে। একটি বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) এবং রেগনাম রিসোর্স লিমিটেড’র প্রধান কার্যালয়ে। রেগনাম রিসোর্স একটি বহিরাগত প্রতিষ্ঠান হয়েও হেড অফিসে বসে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সার্ভারে অবাধে প্রবেশ করছে। যা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, জাতীয় রাজস্ব, দেশের সড়ক ও সেতু অবকাঠামোর জন্য মারাত্মক হুমকি। কারণ সার্ভারে টোল প্লাজার টোল কালেকশনের তথ্য ও হিসাব রক্ষিত থাকে। রেগনাম ইউনিফাইড টোল সিস্টেমের ভেতর প্রবেশ করে টোল কালেকশনের তথ্য মুছে দিচ্ছে। এমনভাবে এটি মুছে ফেলছে যে, এটি উচ্চ তথ্য-প্রযুক্তির দক্ষতা ছাড়া ধরার জো নেই। রেগনাম তার হেড অফিসে বসে বিআরটিএ’র সব টোল সিস্টেমে অনুপ্রবেশ এবং মনিটর করছে। ইচ্ছে মতো সফটওয়্যার থেকে তথ্য মুছে ফেলছে।
আইটি বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির পর রেগনামের টোল চুরি হচ্ছে তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর দ্বিতীয় বৃহত্তম আর্থিক কেলেঙ্কারি। টোল চুরির হোতা রেগনামের মালিক মোহাম্মদ হোসেন জনি। তিনি ইউনিফাইড টোল সিস্টেম সফটওয়্যার সরবরাহ, টোল প্লাজা রক্ষণাবেক্ষণ এবং সিস্টেম থেকে তথ্য মুছে দেয়ার মাধ্যমে দুই দশকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। কী পরিমাণ অর্থ তিনি লেনদেন করেছেন সেটি প্রাইম ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করলেই জানা যেতে পারে।
অনুসন্ধানে জানাযায়, হাসিনা সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তি, মির্জা আজম, শামীম ওসমানরাই ছিলেন মোহাম্মদ হোসেন জনির খুঁটির জোর। তাদের সামনে রেখে টোল চুরির মাধ্যমে তিনি এখন শত শত কোটি টাকার মালিক। অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করেছেন চুরিলব্ধ বিপুল অর্থ। রাজধানীর ১৯১/বি, তেজগাঁও-গুলশান লিংক রোডস্থ ১০ তলা ভবনের অফিসটি ছিলো প্রভাবশালী আ’লীগ নেতাদের আড্ডাখানা। মির্জা আজম এবং শামীম ওসমানরা এ অফিসকে ‘কার্যালয়’ হিসেবে ব্যবহার করতেন। তাদের সামনে রেখে মোহাম্মদ হোসেন জনি সড়ক ও সেতু বিভাগের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা, সেতু বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমঝোতা করে গত এক দশক ধরে একচেটিয়া সফটওয়্যার বিক্রি ও সফটওয়্যার সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে টোলের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। সরকার পরিবর্তন হলেও টোল চুরি অব্যাহত রয়েছে।
প্রথমত, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক ও সেতু বিভাগ টোলপ্লাজার জন্য আনুষ্ঠানিক কোনো টেন্ডার ছাড়াই ‘রেগনাম রিসোর্সেস লিমিটেড’র সফটওয়্যার কেনে। পরবর্তীতে টোলপ্লাজা রক্ষণাবেক্ষণ, সফটওয়্যার এবং কারিগরি সেবাও নেয়া হয় রেগনাম থেকে। রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের প্রায় সব টোলপ্লাজা রেগনামের ওপর নির্ভরশীল। সড়কের ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) পরিচালনা করে রেগনাম রিসোর্স লিমিটেড। রোডসের যেসব টোলের ইজারা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর পেয়েছে সেগুলোর অধিকাংশ সফটওয়্যারই রেগনাম থেকে নেয়া। ফলে ইজারাদার হিসেবে যে প্রতিষ্ঠানই থাকুক না কেন-এমআইএস সচল রাখার স্বার্থে সেখানে রেগনাম লিমিটেডের লোকজনের ওপর সড়ক ও সেতু বিভাগের রাখতে হচ্ছে সার্বক্ষণিক নির্ভরতা। টোলপ্লাজাগুলোতে ইজারাদারদের নির্ধারিত পোশাক পরে, কখনো বা সিভিল পোশাকে ‘ডিউটি’ করছেন রেগনাম রিসোর্সেরই কর্মচারী। এমআইএস-এ কর্মরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে অবৈধভাবে রেগনামের লোক টোলপ্লাজাগুলোতে সার্বক্ষণিক রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকিতে যুক্ত। তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু, নাটোরের আত্রাই টোলপ্লাজা, কাচিকাটা টোল প্লাজার ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন সিস্টেম রেগনাম টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা নিয়েছে। বাকিগুলোতে সরবরাহ করা হয়েছে রেগনামের ইউনিফাইড টোল সিস্টেম সফটওয়্যার।
সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, টোল আদায়ের কার্যক্রমটি সরকার কখনো সেতু বিভাগের এখতিয়ারে রাখে না। দুর্নীতি রোধের লক্ষ্যে এটি তৃতীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতেই ছেড়ে দেয়া হয়। শুধুমাত্র চট্টগ্রামের কর্ণফুলী সেতুর টোল কালেকশন করে সড়ক ও সেতু বিভাগ। কিন্তু সেখানে সফটওয়্যার প্রযুক্তি সহায়তা ও রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা দিচ্ছে ‘রেগনাম রিসোর্সেস লিমিটেড’। রেগনাম তার ইউনিফাইড টোল সিস্টেম সফটওয়্যার থেকে গাড়ি পারাপারের তথ্য মুছে দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা লুট করছে কর্ণফুলী ব্রিজের টোল থেকে।
কর্ণফুলী টোলপ্লাজার রেকর্ড বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ৭ মে রাত ১টা থেকে ১টা ১০ মিনিট। অল্প সময়ের মধ্যে ১৩ গাড়ি কর্ণফুলী ব্রিজ অতিক্রম করেছে। গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে, চট্ট মেট্রো-ট-১২-০৭৭৫, ঢাকা মেট্রো-উ-১২-৩১৫৯, ঢাকা মেট্রো-উ-১৪-৩৭৮৫, ঢাকা মেট্রো-ম-১১-০৯৩২, ঢাকা মেট্রো-উ-১১-৭৭৪০, চট্ট মেট্রো-ট-১১-১৪০৫, ঢাকা মেট্রো-ঠ-১৩-১২৬৭। এ ছাড়া আরো ২টি গাড়ি পারাপার হয় রেজিস্ট্রিবিহীন। পারাপার হওয়া গাড়িগুলোর ট্রানজেকশন নম্বর যথাক্রমে : ৫০৫৩২০২৬০৫০৭০১০৯২৫১৭২, ৫০৫৩২০২৬০৫০৭০১০৭২৭৯৯৬, ৫০৫৩২০২৬০৫০৭০১০,৬২৯৪১১, ৫০৫৩২০২৬০৫০৭০১০৬১৪৭৪৮, ৫০৫৩২০২৬০৫০৭০১০৪১১১৫৮১, ৫০৫৩২০২৬০৫০৭০১০৩১৫৮৫১, ৫০৫৩২০২৬০৫০৭০১০২৩৬৮১৯, ৫০৫৩২০২৬০৫০৭০১০১৩৬২২৯, ৫০৫৩২০২৬০৫০৭০০৫৯৫৬০১২। এর মধ্যে ৫০৫৩২০২৬০৫০৭০১০, ৫০৫৩২০২৬০৫০৭০১০৩১৫৮৫১ এবং ৫০৫৩২০২৬০৫০৭০০৫৯৫৬০১২ ট্রানজেকশন নম্বরের গাড়ি থেকে আদায়কৃত টোলের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অর্থাৎ মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ডাটাবেজ থেকে গায়েব করে দেয়া হয়েছে তিনটি গাড়ির টোল। আর পারাপার হওয়া ১৩টি গাড়ির মধ্যে ৪টি গাড়ির ট্রানজেকশন তথ্য ডাটাবেজ থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। এই হিসেবে প্রতি এক ঘণ্টায় কর্ণফুলী টোলপ্লাজা অতিক্রম করা যানবাহনের অন্তত ৩০ শতাংশের তথ্য ডাটাবেজ থেকে গায়েব করে দেয়া হয়েছে। গায়েব করা অর্থ পুরোটাই ঢুকছে রেগনামের পকেটে।
চলতি বছর ১৩ মে। চট্টগ্রাম কর্ণফুলী ব্রিজের টোলপ্লাজা। ১৭ মিনিটের একটি সেকেন্ডারি সার্ভারে রক্ষিত ভিডিওতে দেখা যায়, এ সময়ের মধ্যে ২৯টি যানবাহন টোলপ্লাজা অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে ২০টি গাড়ি থেকে ৩ হাজার ৮৮০ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে। ৯টি গাড়ির টোলের রেকর্ড রেগনাম রিসোর্সেস সার্ভারের মূল রিপোর্ট থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। কিন্তু সেকেন্ডারি সার্ভারে সংরক্ষিত ভিডিওতে টোল লোপাটের প্রমাণ রয়ে গেছে। যদি ভিডিও মুছে ফেলা না হয় তাহলে শুধু ভিডিও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই টোল চুরি ধরা সম্ভব। ১৭ মিনিটের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ৯টি যানবাহনের সমপরিমাণ ২,১৪০ টাকা (মূল টাকার ৩৫%) প্রাইমারি সার্ভারের রিপোর্ট থেকে মুছে ফেলা হয়েছে।
আইটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টোলপ্লাজা পার হওয়া যানবাহনগুলো একটি একটি করে ম্যানুয়ালি গণনা করা সম্ভব নয়। সফটওয়্যার প্রোভাইডার রেগনাম রিসোর্স সড়ক ও সেতু বিভাগের এই সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আরো জানান, টোলপ্লাজায় এখন যানবাহনের ছবি ‘অন-ডিমান্ড’ ভিত্তিতে দেখার জন্য সফটওয়্যারে ‘সেট’ করা হয়েছে। তাই প্রত্যেকটি গাড়ির আলোকচিত্র পৃথকভাবে ক্লিক করে যাচাই করা কার্যকর কোনো পদ্ধতি নয়।
সড়ক ও সেতু বিভাগ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রয়েছে কিছু গুরুতর অভিযোগ। প্রতিষ্ঠানটির এমআইএস কর্তৃপক্ষের রেগনাম সরবরাহকৃত সফটওয়্যারটি রক্ষণাবেক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের নিজস্ব কোনো কারিগরি দক্ষতা কিংবা মেকানিজম নেই। এ জন্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগটি রেগনাম রিসোর্সের ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল। এই সুযোগে রেগনাম নিজস্ব সফটওয়্যারের মাধ্যমে বছরের পর বছর ধরে অব্যাহত রেখেছে টোল লুট।
ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে, রেগনামকে টোলপ্লাজায় ব্যবহৃত ইউনিফাইড সফটওয়্যার পরিবর্তন, অপারেশনাল সাপোর্টের কাজে সরাসরি যুক্ত রয়েছে। ফলে রেগনাম রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের এমআইএস সিস্টেমের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে যখন-তখন অনুপ্রবেশ করছে। এ অবৈধ অনুপ্রবেশ দেশের সড়ক অবকাঠামোর নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।
বছরের পর বছর ধরে রেগনামকে অনৈতিক সুবিধা দিতে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স টেন্ডার কার্যক্রমে অস্বচ্ছতা জিইয়ে রাখা হয়েছে। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল সহায়তা দেয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে। সফটওয়্যার মেইনটেন্যান্সের নামে ভিপিএন ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ রাজস্বের অর্থ হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। কোনোপ্রকার আনুষ্ঠানিক দরপত্র ছাড়াই ‘রেগনাম রিসোর্সেস লিমিটেড’র মতো প্রতিষ্ঠান থেকে অবিশ্বাস্য উচ্চমূল্যে নিম্নমানের হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যার কেনা হচ্ছে। ‘অনলাইন সাপোর্ট’র নামে ‘এডিএন টেলিকম (আইএসপি)’র মাধ্যমে ব্যক্তিগত ভিপিএন সংযোগ দেয়া হয়েছে। হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে টোলের টাকা। টোল আদায় সংক্রান্ত ডাটা মুছে ফেলার কাজে প্রতিটি টোলপ্লাজায় নিযুক্ত রয়েছেন ‘আউট সোর্সিং’র আওতায় রেগনাম সরবরাহকৃত বিশ্বস্ত কিছু কর্মচারী। প্রতিদিন কী পরিমাণ অর্থ সরিয়ে ফেলা হবে সেটি নিয়মিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করে এই কর্মচারীরা। নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার পর সংশ্লিষ্ট মডিউল বন্ধ করে সিস্টেম পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু করে রাখা হয়। যাতে টোলের অর্থ গায়েব সংক্রান্ত তথ্য গোপন করা যায়।
আইটি বিশেষজ্ঞরা জানান, রেগনাম যত নিখুঁতভাবেই জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাত করুক না কেন, সেটি হাতেনাতে ধরার পদ্ধতিও রয়েছে। যেমন- টোলপ্লাজার ইন্টারনেট এবং ভিপিএন বন্ধ করে দেয়া। যাতে বহিরাগত কোনো এক্সেস বা ডাটা ম্যানিপুলেট করা না যায়। সংশ্লিষ্ট তারিখে পুরো দিনের লেন ট্রানজেকশন স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করা। মেইন সার্ভারের রিপোর্টিং মডিউল দেখা। প্রতিটি টোল লেনের পৃথক ভিডিও পর্যবেক্ষণ করা। এর ফলে কোন্ লেনে কত ট্রানজেকশন হয়েছে সেটি সুনির্দিষ্টভাবে জানা সম্ভব হবে। নির্দিষ্ট সময়ের ট্রানজেকশন পরীক্ষা করা। ‘সার্ভার লগ’ বা ‘টিএক্স’ রিপোর্ট সংগ্রহ। হাতেনাতে প্রমাণের জন্য নির্দিষ্ট লেনের ভিডিও পরীক্ষা করে দেখা। তবে এ ক্ষেত্রে সেকেন্ডারি সার্ভার অপারেশনের সময় ক্যামেরা বন্ধ থাকলে ডিভিও নাও থাকতে পারে। লেনের সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার কনফিগারেশন যাচাই। এর মধ্য দিয়ে ডাটা সঠিকভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে কিনা সেটি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। ডাটা সরিয়ে কিংবা মুছে ফেলার আগে সেকেন্ডারি সার্ভারে সংরক্ষিত তথ্য যাচাই। এতে মেইন সার্ভারের ইন্টারনেট ব্যবহৃত হয়েছে কি না নিশ্চিত হওয়া যাবে। টোলপ্লাজার লেনভিত্তিক ক্যামেরা ভিডিও এবং টিএক্স রিপোর্ট মেলালেও জালিয়াতির প্রমাণ নিশ্চিত করা যেতে পারে।
এ বিষয়ে রেগনামের ওয়েবসাইটে দেয়া নম্বরে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোহাম্মদ হোসাইন জনির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। একই বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কল ধরেননি তিনিও। এসএমএস পাঠানো হলেও মেলেনি কোনো সাড়া।