ইরানে নতুন করে বড় হামলার পরিকল্পনা থেকে শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তির সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে শর্ত দিয়েছে ইরান। এসব শর্তে সেনা প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়েছে ইরান। তবে এর মাঝেই ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সেন্টকম কমান্ডার ব্রাড কুপারের মাথার দাম ৫ কোটি ইউরো নির্ধারণ করেছে ইরান। এ নিয়ে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুরোধে ইরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, উপসাগরীয় দেশ কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে মঙ্গলবার ইরানের ওপর পরিকল্পিত একটি সামরিক হামলা স্থগিত করা হয়েছে। এখন সিরিয়াস আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, আমাকে অবহিত করা হয়েছে এমন একটি চুক্তি করা হবে যা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘খুবই গ্রহণযোগ্য’। যার মাধ্যমে ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।
ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, কোনো গ্রহণযোগ্য চুক্তি না হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক মুহূর্তের নোটিসে ইরানের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ, বৃহৎ আকারের আক্রমণ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত থাকবে।
এদিকে ইরানের একজন সিনিয়র সামরিক কমান্ডার যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও কৌশলগত ভুল এবং ভুল হিসাব না করার কথা বলেছেন। অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, আলোচনা মানে আত্মসমর্পণ নয় এবং তেহরান মর্যাদা, কর্তৃত্ব ও জাতির অধিকার রক্ষার মধ্য দিয়ে আলোচনায় প্রবেশ করেছে।
স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। এতে কিছু শর্ত দিয়েছে তেহরান। দেশটির উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে একসঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। ইরানের কাছাকাছি অঞ্চলে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সব সেনাকে প্রত্যাহার করে নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের সময় যে ক্ষয়ক্ষতি করেছে সেগুলো সংস্কার করে দিতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, জব্দ করে রাখা বৈদেশিক মুদ্রা এবং মার্কিন নৌবাহিনীর নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের শর্তও দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধ বন্ধে সিরিয়াস আলোচনার মাঝেই ট্রাম্প, নেতানিয়াহু এবং সেন্টকমের শীর্ষ কমান্ডার ব্রাড কুপারের মাথার দাম নির্ধারণ করেছে ইরান। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক পার্লামেন্টারি কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজির বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, তিনজনের মাথার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ কোটি ইউরো বা ৫ কোটি ৮০ লাখ ৮৩ হাজার ডলার। যে বা যারা এই তিনজনকে ‘নরকে পাঠাতে পারবে’ তারা হবেন এই পুরস্কারের হকদার। তবে এখনো এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়ার পর্যায়ে আসেনি।
তিনি আরও বলেন, পার্লামেন্টে ‘কাউন্টার-অ্যাকশন বাই মিলিটারি অ্যান্ড সিকিউরিটি ফোর্সেস অব দ্য ইসলামিক রিপাবলিক’ নামে একটি বিল তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে সংবিধিবদ্ধভাবে এই পুরস্কারের ব্যাপারটি উল্লেখ করা হয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হলেই এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেই এ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের সদস্য মাহমুদ নাবাভিয়ান জানান, ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুকে নরকে পাঠানো বিষয়ক বিলটির ওপর শিগগিরই পার্লামেন্টে ভোট হবে।
হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত ইরানের কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। শত্রুদের অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ ধ্বংসের কারণে এ বিস্ফোরণ ঘটে। ইরানের তাসনিম নিউজের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার দ্বীপটিতে ছোট ছোট ড্রোন উড়ে আসে। সেগুলো প্রতিহত করতে তখন নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে তেহরান। তবে সেখানকার অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ ধ্বংসের কারণে গতকাল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কেশম দ্বীপ ইরানের বন্দর নগরী বন্দর আব্বাস থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। হরমুজ প্রণালির প্রবেশদ্বারে অবস্থিত হওয়ায় কেশম দ্বীপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।