খুলনা খাদ্য পরিবহন (সড়ক পথ) ঠিকাদার সমিতি দখল নিতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় শেখ হারুনুর রশিদ নামে এক ঠিকাদার গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর ১টার দিকে নগরীর খানজাহান আলী রোড শান্তিধাম মোড় আল হেরা জামে মসজিদের তৃতীয় তলায় অফিস ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ঠিকাদার শেখ হারুনুর রাশিদ খালিশপুর থানার নয়াবাটি এলাকার শেখ আব্দুর রউফের ছেলে। তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় দুজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
খানজাহান আলী সড়কের আল হেরা জামে মসজিদের আশপাশের কয়েকজন ব্যক্তি জানান, দুপুরের কিছুক্ষণ আগে খুলনা খাদ্য পরিবহন (সড়ক পথ) অফিস কার্যালয়ে সভা চলছিল। এ সময় কয়েকজন দুর্বত্ত ওই সভায় গিয়ে বাগবিতাণ্ডা এবং পরে গুলি করে। গুলিটি ওই সমিতির সাবেক সহসভাপতি হারুনুর রশিদের ডান পায়ে লাগে। উপস্থিত অন্য সদস্যরা তাকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
সমিতির বর্তমান আহ্বায়ক এস এম আজিজুর রহমান স্বপন বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির একাধিক সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা চব্বিশের ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে যাওয়ায় সাধারণ সদস্যদের নিয়ে আমরা একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করি। আমরা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় গেলেও আত্মগোপনে থাকা কমিটি মামলা করায় আদালত নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশ দেন।
তিনি বলেন, এই অবস্থার মধ্যে আমার অনুপস্থিতিতে একদল লোক আজ সমিতির অফিস দখল নিতে আসে। আমি এসে দেখি সিসিটভি ক্যামেরা বন্ধ করে তারা সভাপতি-সেক্রেটারির চেয়ারে বসে আছেন। সেখানে প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে আসা বহিরাগতরা আমাদের ওপর আক্রমণ করে। এ সময় তাদের বন্দুকের গুলিতে তাদেরই একজন আহত হন।
সমিতির সদস্য সরদার তকিবুর রহমান বলেন, আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ও সহসভাপতি হারুনসহ কমিটির কয়েকজন ও বহিরাগতরা অফিস দখল করতে এসেছিলেন। তারা সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেন। পাইপগান বের করে সভাপতিকে গুলি করতে যান, এ সময় আমি ধরে ফেলি। ধস্তাধস্তিতে তার গুলি করার সময় বন্ধুক নিচের দিকে চেপে ধরি। তখন তার পায়ে গুলি লাগে।
এদিকে নিজেকে খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক দাবি করে খান মো. রেজাউল আলম বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ হওয়া হারুনুর রাশিদ নির্বাচিত সহসভাপতি। জামায়াত নেতা এস এম আজিজুর রহমান স্বপন নিজেকে আহ্বায়ক দাবি করে মব সৃষ্টি করে জায়াগাটা (অফিস) দখল করে নেয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আমরা হাইকোর্টে মামলা করি। মামলাটি আমাদের পক্ষে।’
তিনি বলেন, ‘সেই মামলার আদেশে আমরা আজ অফিসে গিয়ে আসনগ্রহণ করি। তখন তারা এসে আমাদের আসন ছেড়ে দিতে বলে। তারা কোর্ট বা কোনো কিছু মানে না। ঠিকাদার স্বপন কাকে যেন ফোন করে বলে গোলাগুলি করতে। ওরা আমাকে উদ্দেশ্যে করে গুলি করে। আসলে আমার ছেলে বাঁধা দেওয়াতে গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে হারুনুর রশিদের পায়ে বিদ্ধ হয়। তারা শর্টগান দিয়ে গুলি করে। এ সময় অনেক দুর্বৃত্ত ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।’
খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিজেদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির জেরে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ হারুনুর রশিদকে গুলি করে। কারা গুলির ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় স্বপন এবং তকিবুর রহমান নামে দুজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। মামলা হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।