Image description

বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ করতে বিভিন্ন দপ্তরের লাইসেন্স এবং ছাড়পত্রের জট কমানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। পাশাপাশি ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তাদের কর ও ভ্যাটসংক্রান্ত হয়রানি কমাতে একটি ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর প্রণয়নের বিষয়েও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

গতকাল বিকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব পরিকল্পনার বিষয়ে আলোচনা উঠে আসে বলে সভা সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশে নতুন ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে খাতভেদে ২৩টি বা তার বেশি দপ্তর থেকে ১৫০টির মতো অনাপত্তি, লাইসেন্স বা ছাড়পত্র নিতে হয়। বিভিন্ন দপ্তর থেকে এসব লাইসেন্স ও ছাড়পত্র নিতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। বিনিয়োগ প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় লাগে। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সভা হয়। বাণিজ্য, শিল্প ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্র জানায়, সভায় কোম্পানি নিবন্ধন আইন, আয়কর ও ভ্যাট নিবন্ধন সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, শিল্প নিবন্ধন, ফায়ার লাইসেন্স, ফায়ার লে আউট প্ল্যান, পরিবেশ ছাড়পত্র, পরিবেশ সনদ, চেম্বার/অ্যাসোসিয়েশন সদস্যপ্রাপ্তি, নির্মাণ অনুমোদন, শিল্প আইআরসি প্রদান ও নবায়নের বিদ্যমান প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন এক কর্মকর্তা জানান, ব্যবসা-বিনিয়োগের বিভিন্ন সেবাগুলো ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ বা একই ছাতার নিচে নিয়ে আসার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন আছে। এ ছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন দপ্তর থেকে বিভিন্ন ধরনের লাইসেন্স ও ছাড়পত্র নিতে হয়। ব্যবসা-বিনিয়োগ সহজ করতে বিভিন্ন দপ্তরের লাইসেন্স ও ছাড়পত্রের সংখ্যা কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সূত্র জানায়, ব্যবসার ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয়। এ ছাড়া কোম্পানি করার জন্য নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি) থেকে কোম্পানি নিবন্ধন করতে হয়। কোম্পানির নামের জন্য নিতে হয় পৃথক ছাড়পত্র। এ ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, রাজউকসহ বিভিন্ন দপ্তরের ছাড়পত্র অনুমোদনের বিষয় রয়েছে। এর মধ্যে অত্যাবশকীয় ছাড়া বাকি সব দপ্তরের লাইসেন্স ও ছাড়পত্র প্রত্যাহার করা হতে পারে। বৈঠকে উপস্থিত আরেক কর্মকর্তা জানান, ব্যবসায়ীদের কর ও ভ্যাট হয়রানি কমানোর বিষয়টিও পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। 

বাংলাদেশে আয়কর ও ভ্যাটের জন্য একই ইউনিক বা অভিন্ন নম্বর ব্যবহারের কোনো ব্যবস্থা নেই। আয়কর এবং ভ্যাট দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের কর, তাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এগুলো পরিচালনার জন্য দুটি আলাদা নিবন্ধন নম্বর প্রদান করে। এ ক্ষেত্রে পৃথক নম্বরের পরিবর্তে যাতে একই ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বরের মাধ্যমে ট্যাক্স-ভ্যাট পরিশোধ করা যায়, সে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় ব্যবসা-বিনিয়োগের কিছু সেবা ডিজিটালাইজেশন করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বলা হয়, ঘরে বসেই অনেকে বিভিন্ন সেবার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারছেন। তবে এসব আবেদনের বিপরীতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ম্যানুয়ালি জমা দিতে হয়, যা জটিলতা তৈরি করে। এ ছাড়া অনলাইনে সরবরাহকৃত নথিপত্রে সরকারি সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর না থাকায়- সেগুলো জাতীয় আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয় না বলেও আলোচনায় উঠে আসে। এসব বাধা মোকাবিলায় ডিজিটাল স্বাক্ষরের বিষয়টি উঠে আসে।