Image description

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অজ্ঞানপার্টির মূলহোতাকে গ্রেফতার করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। গ্রেফতার ব্যক্তির নাম তাজুল ইসলাম (৪৮)।

এসময় তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৫৫টি মোবাইল ফোন, নগদ টাকাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১৭ মে) এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশনস্) অনিতা রানী সূত্রধর এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

অনিতা রানী সূত্রধর বলেন, গতকাল শনিবার ভুক্তভোগী আরাফাত হোসেন (১৮) তার খালাতো ভাইকে বিদায় জানাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন। বিদায় শেষে ডিপারচার এলাকায় অবস্থানকালে ভুক্তভোগী আরাফাত হোসেন সরল বিশ্বাসে আসামি মো. তাজুল ইসলামের দেওয়া কফি পান করেন এবং পরবর্তীতে অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

 

এসময় ঘটনাস্থলে থাকা এপিবিএন সদস্যদের সন্দেহ হলে তাজুল ইসলামের দেহ ও ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। তল্লাশি করে ভুক্তভোগী আরাফাত হোসেনের দুটি মোবাইল ফোন ও কিছু নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও তার ব্যাগ থেকে ১৫ পিস চেতনানাশক ট্যাবলেট পাওয়া যায়।

তাজুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে অনিতা রানী সূত্রধর বলেন, আসমিরা বাস বা রেলস্টেশনে গিয়ে টার্গেট করা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথাবার্তার মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। পরবর্তীতে চা, কফি বা সফট ড্রিংকের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে তাদের অজ্ঞান করে মালামাল হাতিয়ে নেন। নিজেদের সন্দেহমুক্ত রাখতে মাঝেমধ্যে শারীরিকভাবে অক্ষম বা অসুস্থ ব্যক্তির অভিনয়ও করেন, যাতে ভিকটিম সন্দেহ না করেন।

 

তিনি জানান, এই চক্রে আরও ৪/৫ জন ব্যক্তির সমন্বয়ে একটি অজ্ঞানপার্টির গ্যাং গড়ে তুলেছেন এবং চুরি করা মালামাল মিরপুরের দারুস সালাম এলাকার এক আবাসিক হোটেলের কক্ষে সংরক্ষণ করে রাখতেন। তথ্যের ভিত্তিতে দারুস সালাম এলাকার হোটেল রয়েলে অভিযান চালিয়ে ৫৫টি বিভিন্ন মডেলের মোবাইল ফোন, ১০টি বিভিন্ন মডেলের এয়ারবাড, ১৫টি হাতঘড়ি, ৪ পিস চেতনানাশক ট্যাবলেট, ২টি চেতনানাশক পুরিয়া, নগদ ২ লাখ ২৩ হাজার টাকা, সৌদি আরবের ৫৩.৫০ রিয়াল, তুরস্কের এক লিরা এবং বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়।

তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী আরাফাত হোসেন বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানান অনিতা রানী সূত্রধর।

তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় অজ্ঞানপার্টি প্রতিরোধ, চোরাচালান রোধ এবং অন্যান্য অপরাধ দমনে এয়ারপোর্ট এপিবিএন বরাবরের মতোই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এ ধরনের অপতৎপরতা রোধে এয়ারপোর্ট এপিবিএন বদ্ধপরিকর। বিমানবন্দর এলাকায় অজ্ঞানপার্টি প্রতিরোধ ও অন্যান্য অপরাধ দমনে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।