লিভার জটিলতায় গুরুতর অসুস্থ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাই নেওয়ার পর শুরু হয়েছে নতুন চিকিৎসা কার্যক্রম। বর্তমানে তিনি ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিকিৎসকদের বরাতে পরিবার জানিয়েছে, প্রথমে তাঁর ফুসফুসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। এরপর লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হবে। সোমবার (১২ মে) রাত ১১টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে রওনা হন কারিনা। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন মা ও দুই ভাই।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। মঙ্গলবার তিনি জানান, চেন্নাইয়ের চিকিৎসকেরা দ্রুত চিকিৎসা শুরু করেছেন। বর্তমানে কারিনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং হৃদযন্ত্র ও কিডনির কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কারিনাকে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছিল বলে ভারতীয় চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। এখন ধাপে ধাপে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতির চেষ্টা চলছে এবং ফুসফুসে জমে থাকা পানি অপসারণ করা হচ্ছে।
এদিকে কারিনার লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর দুই ভাইয়ের রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন লিভার ডোনেট করবেন। কায়সার হামিদ জানান, ছোট ছেলে সাদাত হামিদের রক্তের গ্রুপ কারিনার সঙ্গে মিলেছে, তবে দুই ভাইয়েরই নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর কারিনার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরে হেপাটাইটিস এ ও ই জটিলতায় তাঁর লিভার ফেইলিওর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়া কারিনা কায়সার সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজেও সক্রিয় ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থাপনা তরুণদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পায়। পরে নাটক ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে Internship এবং 36-24-36।