কুমিল্লা বার্ডে দারিদ্র্য বিমোচন পদ্ধতি প্রয়োগের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ১৬ দেশের সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা। পল্লী উন্নয়নের জনক ড. আকতার হামিদ খানের ‘কুমিল্লা মডেল’-এর ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে এসব দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করছেন তারা।
বার্ড কর্তৃপক্ষ জানান, কুমিল্লা মডেল আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সফলতা পেয়েছে। আপাতত ১৬টি দেশের গ্রামীণ জনপদে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। এতে কুমিল্লা বার্ড দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ হাব হয়ে উঠেছে। সংস্থাটি দেশ বিদেশের হাজার হাজার শিক্ষার্থী, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এদিকে যুদ্ধের কারণে ইরান ও সিরিয়ার কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারছেন না।
জানা গেছে, কুমিল্লা বার্ড ১৯৫৯ সালের ২৭ মে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি সমাজবিজ্ঞানী ড. আখতার হামিদ খানের নেতৃত্বে পল্লী উন্নয়নে বৈপ্লবিক ‘কুমিল্লা মডেল’ প্রবর্তন করেছে। এটি সমবায়, প্রশিক্ষণ, ভৌত অবকাঠামো (রাস্তা, সেচ) ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে পল্লি অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করছে।
বার্ড সূত্র জানায়, গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় ‘কুমিল্লা মডেল পদ্ধতি’ প্রয়োগের ক্ষেত্রে বার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ হাব হিসাবে কাজ করছে। বার্ডের সমাজব্যবস্থা প্রবর্তনের মূল উপাদানসমূহ : স্থানীয় জনসম্পৃক্ততা, প্রশিক্ষণ ও সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন।
কুমিল্লা মডেলের উপাদান : ক্ষুদ্র কৃষকদের নিয়ে সমবায় সমিতি গঠন। আধুনিক কৃষি ও উৎপাদন কৌশল শেখানো। রাস্তাঘাট, বাঁধ ও সেচব্যবস্থার উন্নয়ন। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, থানা পর্যায়ে প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি। এসব পদ্ধতিটি বাংলাদেশে পল্লী উন্নয়নের একটি দর্শন হিসাবে কাজ করে ও গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
কুমিল্লা বার্ড মূলত পল্লি উন্নয়নে গবেষণালব্ধ ‘কুমিল্লা মডেল’ (দ্বিস্তর সমবায়, থানা প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন কেন্দ্র) বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। এটি এশিয়ান-আফ্রিকান রুরাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের সঙ্গে যৌথভাবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও গ্রামীণ রূপান্তরবিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা নিয়মিত আয়োজন করছে।
আফ্রিকান-এশিয়ান রুরাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে বার্ডের উদ্ভাবিত গ্রামীণ উন্নয়নের মডেল ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করা হয়। পল্লি উন্নয়নবিষয়ক বিভিন্ন গবেষণা, সেমিনার ও বিদেশি প্রতিনিধিদের জন্য ভিজিট প্রোগ্রাম বা শিক্ষা সফরের আয়োজন করা হয়।
বার্ড জানায়, সম্প্রতি একটি কর্মশালায় শ্রীলংকা, মিসর, ভারত, ঘানা, জাম্বিয়া, নামিবিয়া, গাম্বিয়া, পাকিস্তান, ওমান, মালয়েশিয়া, কেনিয়া, মরিশাস ও বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের ২১ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অংশ নেন।
বার্ডের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বার্ড নিয়মিত টেকসই উন্নয়নবিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করছে। এতে বর্তমানে ১৬টি দেশের সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লি উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
কুমিল্লা বার্ডের মহাপরিচালক সাইফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, কুমিল্লা মডেল আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সফলতা পেয়েছে। বার্ড গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকল্পে ষাটের দশক থেকেই সমবায়ের মাধ্যমে কাজ করছে ও অব্যাহত রেখেছে। পল্লি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন পদ্ধতি প্রয়োগে আমাদের প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসা অর্জন করছে।