এয়ারফোর্স ওয়ানে চড়ে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বার্তাসংস্থা ফক্সনিউজ।
প্রায় ৯ বছর পর কোনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এটিই প্রথম চীন সফর। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে ১৩ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সফরে থাকবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের উপ-প্রেস সচিব অ্যানা কেলি জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যায় বেইজিং পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা দেওয়া হবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। সফরের অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক টেম্পল অব হেভেন পরিদর্শন করবেন তিনি, অংশ নেবেন শি জিনপিংয়ের রাষ্ট্রীয় ভোজে। বৃহস্পতিবার দুই নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ বন্ধে চীনকে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা। বিশেষ করে ইরানের ওপর বেইজিংয়ের প্রভাব ব্যবহার করে একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে হতে পারে আলোচনা।
তাদের ধারণা, যদি ইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক সহযোগিতা কমিয়ে দেয় চীন, তাহলে তেহরানের ওপর বাড়বে চাপ। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি উদ্যোগে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে বাধ্য হবে দেশটি।
সফরে থাকছেন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শীর্ষ করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরাও। ইলন মাস্ক, টিম কুক, বোয়িংয়ের কেলি অর্টবার্গ এবং জিই অ্যারোস্পেসের ল্যারি কাল্পসহ আরও অনেকে। এছাড়াও রয়েছেন মেটা, ব্ল্যাকরক, মাইক্রন টেকনোলোজি, মাস্টারকার্ড ও ভিসা’র শীর্ষ কর্মকর্তারাও।
সফরটি প্রতীকী ও কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মাধ্যমে বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে তৈরি হবে নতুন পথ, এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের। বিশেষ করে সমাধান হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, ইরান ইস্যু, তাইওয়ান সংকট, দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েনের।