Image description
জল্পনার অবসান

জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উঠতে যাচ্ছে ‘পদ্মা ব্যারাজ’ প্রকল্প। এর আগে গত জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও একবার এটি উপস্থাপনের কথা ছিল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়নি। এবার সব ঠিক থাকলে বুধবার একনেকে উঠবে বহুল আলোচিত প্রকল্পটি।

আজ রবিবার পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা আগামীর সময়কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বললেন, ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে দোটানায় ছিল নতুন সরকার। এখন সেটি কেটে গেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার কোটি টাকা।’

এবার একনেকের বৈঠকে প্রকল্পটি উঠবেই, সে বিষয়ে পাকা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর কোনো বাধা নেই। তবে অনুমোদন পাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না

বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও ছিল এ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি। তারপরও কেন এটি এতদিন একনেকে ওঠেনি, তা নিয়েও রাজনীতি সচেতন মানুষের মনে এক ধরনের প্রশ্ন ছিল।

পরিকল্পনা কমিশনের ওই কর্মকর্তা আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘এবার একনেকের বৈঠকে প্রকল্পটি উঠবেই, সে বিষয়ে পাকা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর কোনো বাধা নেই। তবে অনুমোদন পাবে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’

ফারাক্কা বাঁধের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশ রক্ষায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। আবার ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিতেও এর গুরুত্ব অনেক বেশি। কেননা প্রতিবেশী দেশ ভারত প্রকল্পটিকে কীভাবে নেবে, তাও ভাবনার বিষয়।

বুধবারের একনেকে পদ্মা ব্যারাজসহ ১৬টি প্রকল্প উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। এবারও ঢাকার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বসবে না একনেক। সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার কক্ষেই প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে হবে এ বৈঠক।

পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পটি প্রস্তাব করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। অনুমোদন মিললে চলতি বছর থেকে শুরু করে ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানি সংরক্ষণ করে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি করা হবে। এর মাধ্যমে পদ্মানির্ভর এলাকার নদীর সিস্টেমকে পুনরুজ্জীবিত করাসহ লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ কমানো, সুন্দরবনের ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য পুনরুদ্ধার, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা কমানো এবং সেচ সুবিধা বাড়ানো হবে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটির ওপর গত ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। ওই সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব ( ডিপিপি) সংশোধন করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

শুরুতে ৫০ হাজার ৪৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে সম্পূর্ণ প্রকল্পটি এক ধাপে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের সংস্থান, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং তদারকি বা সমন্বয়ে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি ও ব্যয় বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

পাশাপাশি প্রকল্পে প্রস্তাবিত বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ-পরবর্তী সংশ্লিষ্ট নদী সিস্টেম জলাধার থেকে পাওয়া প্রবাহের সঙ্গে হাইড্রোলজিক্যাল ও মরফোলজিক্যালভাবে ধীরে ধীরে অভিযোজিত হওয়ার কথা। ফলে খননসহ সংশ্লিষ্ট কাজগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে। এসব চিন্তা করে প্রকল্পের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এক্ষেত্রে প্রকল্পটি দুটি পর্যায়ে বিভক্ত করে বাস্তবায়নের জন্য পিইসি সভায় সুপারিশ করা হয়। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ব্যারাজের মূল অবকাঠামো নির্মাণসহ হিসনা-মাথাভাঙ্গা নদী সিস্টেম ও গড়াই-মধুমতি নদী সিস্টেম পুনর্খনন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী বাস্তবায়নযোগ্য অতিরিক্ত বা সহায়ক অবকাঠামো এবং অবশিষ্ট নদী সিস্টেমগুলোর (চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতি নদী সিস্টেম) পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রথম পর্যায়ে মূল ব্যারাজ ও গড়াই অফটেক স্ট্রাকচারে দুটি হাইড্রো-পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের সংস্থান রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিনা জ্বালানিতে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।