Image description

বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং রপ্তানি আয় কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বন্দর পর্যন্ত পৌঁছানোর প্রক্রিয়া সহজ এবং সাশ্রয়ী করতে পারলে রপ্তানি আয় বর্তমানের তুলনায় বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব। গতকাল ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত বাণিজ্য নির্ভর বাংলাদেশের জন্য সমন্বিত ‘বন্দর এবং লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম. মাসরুর রিয়াজ। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহ, ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অতিরিক্তি সচিব মো. হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হক, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফেসিলিটেশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান, শাহরিয়ার স্টিল মিলস্ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস কে মাসাদুল আলম মাসুদ, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার হুমায়ুন কবির এবং বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের সিনিয়র ট্রান্সপোর্ট স্পেশালিস্ট নুসরাত নাহিদ বাবী প্রমুখ।

ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী বলেন, আমাদের লজিস্টিক খাতের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়হীনতার কারণে রপ্তানি সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। আমরা প্রতিনিয়ত প্রতিযোগী দেশগুলো থেকে পিছিয়ে পড়ছি। এ ছাড়াও বন্দরগুলোতে পণ্য খালাসে দীর্ঘসময়, সড়ক ও রেলপথে পণ্য পরিবহনে ধীরগতি এবং আধুনিক কোল্ড-চেইন লজিস্টিকসের সীমাবদ্ধতার কারণে আমাদের সামগ্রিক সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাকে ব্যয়বহুল ও মন্থর করতে তুলছে। বিআইএম-এর মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহ বলেন, সমন্বিত বন্দর ও লজিস্টিকস খাতে দক্ষ ব্যবস্থাপনায় আমরা বেশ পিছিয়ে রয়েছি, যা ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় ক্রমাগত বাড়াচ্ছে। এখাতের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করার ওপর তিনি জোরারোপ করেন। পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, আমাদের বিদ্যমান লজিস্টিকস খরচ ২৫ শতাংশ কমানো গেলে রপ্তানি ২০ শতাংশ এবং পণ্য পরিবহন ১ শতাংশ কমানো সম্ভব হলে রপ্তানি ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়বে। আমাদের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হলো সম্ভাবনাময় অন্যান্য খাতে আমাদের সক্ষমতা নেই। ব্যবসা ও বিনিয়োগের সার্বিক অবস্থা উত্তরণে একটি দক্ষ এবং সমন্বিত লজিস্টিকস ইকোস্টিস্টেম নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ট্রান্সপোর্ট স্পেশালিস্ট নুসরাত নাহিদ বলেন, দেশের কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া এখনো সহজীকরণ এবং আধুনিকায়ন করা হয়নি, বিশেষকরে স্থলবন্দরগুলোর কার্যক্রম ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা যায়নি, ফলে বিশেষকরে পণ্য খালাসের দীর্ঘসূত্রিতা আমাদের ব্যবসা পরিচালন ব্যয় ক্রমশ বৃদ্ধি করছে।