Image description

উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে গিয়ে মুহূর্তেই নিভে গেল জীবনের আলো। তুচ্ছ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে খুন হলেন মেধাবী শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। খণ্ডিত মরদেহ গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে নিয়ে আসলে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন ও পাড়াপ্রতিবেশী। পরে জানাজা শেষে দাদা-দাদির কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলো বৃষ্টি। এমন হত্যাকাণ্ড কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না কেউ। খুনির কঠোর বিচার দাবি তাদের। পাশাপাশি সরকারকে নিহতের পরিবারের পাশে থাকতে অনুরোধ করেছেন স্বজনরা।

জুলাই মাসে দেশে ফেরার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে যাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির। কিন্তু তার আগেই ঠিকই ফিরলো, তবে লাশ হয়ে। পরিবারে শোকের মাতম। শনিবার সকালে রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বৃষ্টির খণ্ডিত মরদেহ। দুপুর সোয়া একটার দিকে লাশটি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বৃষ্টিকে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে ভিড় করেন আত্মীয়স্বজন ও পাড়াপ্রতিবেশী। ছুটে আসেন বৃষ্টির ছোটবেলার খেলার সাথীরাও।

সেখানে তৈরি হয় এক শোকাবহ পরিবেশ। স্বজনরা জানায়, ৭ মাস আগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য পাড়ি জমান আমেরিকায়। ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটিতে সুযোগ পাওয়ার সুবাদে সু-সম্পর্ক গড়ে ওঠে সহপাঠী জামিল আহম্মেদ লিমনের সঙ্গে। সেখানে লিমনের সঙ্গে এক মার্কিন নাগরিক রুমমেটের দ্বন্দ্বের জেরে গত ১৬ই এপ্রিল লিমন ও বৃষ্টিকে ভার্সিটি ক্যাম্পাস থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়। এর ৮ দিন পর লিমনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ। পরে ৩০শে এপ্রিল উদ্ধার হয় বৃষ্টিরও খণ্ডিত লাশ।

উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে গিয়ে খুন হওয়া বৃষ্টির স্বপ্ন শেষ হলো নিমিষেই। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হিশাম নামে যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিক আটক করে দেশটির পুলিশ। ঘটনার বিচার দাবি করেন নিহতের পরিবার ও স্বজনরা। বৃষ্টির ফুফাতো বোন জাবিন মরিয়ম বলেন, সারাক্ষণ হাসি খুশিতে থাকা মেয়েটি এভাবে খুন হবে, তাও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে, এটা মেনে নেয়া কঠিন। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। নিহত বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন জানান, এ শোক কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।

যেখানে আনন্দঘন পরিবেশের দেশে ফেরার কথা বৃষ্টির, সেখানে লাশ হয়ে ফিরলো। মনকে সান্ত্বনা দিতে পারছি না। আমেরিকার মতো দেশে এভাবে খুন হবে সেটা কল্পনাও করতে পারিনি। এমন হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত। মাদারীপুর সদর উপজেলার চর গোবিন্দপুর গ্রামে জহির উদ্দিন আকনের একমাত্র মেয়ে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। বাদ আসর জানাজার নামাজ শেষে দাদা-দাদির কবরের পাশে দাফন করা হয় বৃষ্টির মরদেহ।