ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার ক্ষমতায় আসায় জট খুলছে অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের। রাজ্য ও কেন্দ্র মিলে ‘ডবল ইঞ্জিনের’ শক্তি নিয়ে এগোবে সদ্য শপথ নেওয়া শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। এরই মধ্যে এ সরকারকে সহায়তায় প্রস্তুতি শুরু করেছেন কেন্দ্রের কর্তারা। এতে তিস্তা চুক্তির জটিলতাও দূর হবে বলে মিলেছে আশ্বাস।
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিগগির যেসব কেন্দ্রীয় প্রকল্পে টাকা বরাদ্দ রয়েছে, সেগুলো মেটানোর প্রক্রিয়া চলছে। জলজীবন মিশন নিয়ে এরই মধ্যে রাজ্যের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের। এর অংশ হিসেবে রাজ্যের বকেয়া ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে আটকে থাকা তিস্তা চুক্তি এবং গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে ফারাক্কা চুক্তি পুনর্নবীকরণ করতে আর কোনো বাধা থাকবে না বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তারা।
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্য, জলজীবন মিশন নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে একটি চুক্তি করবে কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যের তরফে বকেয়ার হিসাব তুলে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রণালয়কে। কেন্দ্রের জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাজ্যের পূর্ত দপ্তরের সচিব। উভয়ের বৈঠকে রাজ্যের বকেয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে শুধু জলশক্তি মন্ত্রণালয় নয়, অন্য মন্ত্রণালয়ের বকেয়া টাকাও মেটানোর প্রক্রিয়াও শুরু হচ্ছে।
গ্রামোন্নয়ন, পঞ্চায়েতি রাজ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় কেন্দ্রের প্রকল্পগুলো এতদিন কোনোটা অর্থ না পাওয়ায় অথবা রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে বন্ধ ছিল। সেগুলো এবার দ্রুত চালু হচ্ছে। এতদিন পর্যন্ত রাজ্য সরকারের প্রতি বিশ্বাসে ঘাটতি ছিল। এবার সমাধান হয়েছে সেই সমস্যার। ফলে বকেয়া টাকা মেটাতে আর কোনো জটিলতা নেই। আয়ুষ্মান ভারত, ১০০ দিনের কাজ ছাড়াও গ্রামোন্নয়ন সম্পর্কিত অন্যান্য কাজে কয়েক মাসের মধ্যেই টাকা দেওয়া হবে এবং কাজে গতি আসবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মকর্তারা।
কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত মন্ত্রণালয় বলছে, এতদিন রাজ্য সরকার ভয় পেত যে, রাজ্যের তথ্য পরিসংখ্যান ব্যবহার করে অবিজেপি দলশাসিত রাজ্য বাংলাকে নেতিবাচক হিসেবে তুলে ধরা হবে। পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে প্রধান বাধাই ছিল সেই রাজনৈতিক ইস্যু। তথ্য, পরিসংখ্যানের অভাবে হয়নি রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন।