ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামের জন্য অস্থায়ী হাসপাতালের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বিরোধিতার কথা সামনে আসার পর এ নিয়ে চলছে আলোচনা। তবে ঢাবি ভিসি অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা করে ঢাবিতে হামের অস্থায়ী ক্যাম্প না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে প্রায় ৩০০'র বেশি শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিদিন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থার পরিকল্পনা নিয়েছে, যার অংশ হিসেবে ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অস্থায়ী এই চিকিৎসা কেন্দ্রের জন্য চাওয়া হয় ঢাবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠকে। তবে ঢাবির পক্ষ থেকে মাঠ নয়, বরং মেডিকেল সেন্টারের তৃতীয় তলায় জায়গা দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেলের অডিটোরিয়াম চত্বরে ২০ শয্যা বিশিষ্ট এই অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেলে জায়গা না হওয়ায় হামে আক্রান্ত শিশুদের সেখানে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন দ্যা ঢাকা ডায়েরিকে জানান, “গতকাল পৌনে ছয়টার দিকে প্রো-ভিসি এবং স্পোর্টস বোর্ডের সভাপতির সাথে একটি মিটিং ছিল। সেখানে একটি চিঠি পড়ে শোনানো হলো যে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে ২০ শয্যা বিশিষ্ট একটি সেনাবাহিনী পরিচালিত হাম চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের আবেদন এসেছে। প্রথমে আমরা আলোচনা করলাম এটি কেন এখানে দেওয়া হলো। এরপর প্রো-ভিসি ম্যামকে ভিসি স্যারের অফিস থেকে ডাকা হলে তিনি চলে যান। কিছুক্ষণ পর আমাদেরও সেখানে ডাকা হয়। সেখানে ভিসি স্যার এবং প্রো-ভিসি (শিক্ষা) উপস্থিত ছিলেন। ভিসি স্যার জানালেন যে, খেলার মাঠে এই ধরণের কিছু করা সম্ভব না এবং তিনি এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে করার পরামর্শ দেন, কারণ বর্তমানে মাঠে নিয়মিত খেলাধুলা চলছে। আমি বলি এখন সব ধরণের খেলাধুলা চলছে এবং ভূমিকম্পের সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তা আমাদের মাথায় রাখতে হবে। এখন যদি এখানে হামের চিকিৎসা কেন্দ্র হয়, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সেখানে যেতে পারবে না এবং একটি নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বৈঠকে উপস্থিত শিক্ষকরাও এই বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন। শিক্ষকরাই মূলত কনসার্ন জানিয়েছেন যে, হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ, শিক্ষার্থীদের অনেকগুলো ইভেন্ট চলছে এবং শিক্ষার্থীরা এটি নেতিবাচকভাবে নিতে পারে। এমনকি ২০০৭ সালে সেনাবাহিনী নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছিল, সেই প্রসঙ্গটিও শিক্ষকদের পক্ষ থেকেই এসেছিল। ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে আমার মূল কনসার্ন ছিল যে, এই খবরের পর শিক্ষার্থীরা ভয়ে মাঠে আসবে না এবং তাদের মধ্যে একটি আতঙ্ক সৃষ্টি হবে। আমি মনে করি সরকারের এই উদ্যোগটি জরুরি, তবে সেটি খেলার মাঠে না হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা অন্য কোনো জায়গায় হতে পারে। বিকল্প হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে দেওয়ার যে প্রস্তাব এসেছে, সেটিকেও একটি সাময়িক সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রশাসনই নিবে, আমি শুধু আমার এবং শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের জায়গাটি জানিয়েছি।”
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “প্রোভিসি একাডেমিক যেহেতু স্পোর্টস বোর্ডের চেয়ারম্যান, আমি তাকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম যে কী হয়, আমাকে পরে জানাবেন। তিনি জানিয়েছেন যে মাঠে এখন অনেক ইভেন্ট চলছে এবং মাঠ সংস্কারে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে, মাটি ভরাট করতে হবে, সেখানে ২ কোটি টাকা বাজেট। এটা নিয়ে ছাত্রদের ভেতরে নেগেটিভ পরিস্থিতি তৈরি হবে। এদিকে হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ। তাই আমি জানিয়েছি যে বিকল্প হিসেবে ঢাকা ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের তিনতলা অথবা সামনের গাড়ির গ্যারেজের খোলা মাঠে তারা কাজ করতে পারে, কিন্তু তারা সেটা নেয়নি। ব্যক্তিগতভাবে খেলার মাঠে আমার কোনো আপত্তি ছিল না, তবে বিভিন্ন পক্ষের কনসার্ন ও আপত্তির কারণে আমাকে আগের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসতে হয়েছে। আমি এখানে জায়গা দিতেই চেয়েছি, কিন্তু স্টেকহোল্ডারদের আপত্তিতে আমার এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।”