Image description

৪৭, ’৭১, ’২৪ প্রতিটি অধ্যায়ে বাংলাদেশের সন্তানেরা রক্ত দিয়েছেন উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সেই আত্মত্যাগের প্রতি আমাদের দায় একটাই—একটি দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ে তোলা। 

তিনি বলেন, ‘একটি দুর্নীতিমুক্ত, সুশাসনভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংসদের ভেতরে এবং বাইরে তাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।’

আজ সোমবার বিকেলে টোকিওর কামিনাকাযাতোস্থ তাকিনোগাওয়া হলে ইসলামিক মিশন জাপানের আয়োজনে  সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এসময়  জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্যোগে বিরোধী দলীয় নেতাকে বর্ণাঢ্য নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক মিশন জাপানের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ মাওলানা সাবের আহমদ।

শহীদদের স্মরণ করে তিনি জামায়াত আমির বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে যাঁরা আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের সবার অবদান সমানভাবে স্মরণ রাখতে হবে এবং জুলাই বিপ্লবের সময়ে হাসিনাসহ সকল অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে দুইটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথমত, জ্ঞান ও দক্ষতার ক্ষেত্রে নিজেদের উন্নত করে দেশের অগ্রগতিতে অবদান রাখা এবং দ্বিতীয়ত, রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা।

তিনি বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে দেশে ফিরে কিংবা প্রবাসে থেকেই বাংলাদেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।’

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের ৬৫% ভোটার জামায়াতকে ভোট প্রদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের আস্থা আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা সংসদে ও রাজপথে আপনাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাবো।’

একইসঙ্গে তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, জোট থেকে যে ৭৭ জন ব্যক্তিকে আপনারা নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছেন, আমরা সেই ৭৭ জন হলাম জনগণের দারোয়ান—আমরা দেশের আর দুর্নীতি হতে দেব না।

জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশীদের উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘জাপানের আইন-কানুন মেনে চলা এবং জাপানি জনগণের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রতিটি প্রবাসীর দায়িত্ব। দূর প্রবাসে এসে নিজেদের শিকড় ভুলে গেলে চলবে না। আমাদের সন্তানদের মাঝেও বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ জাগ্রত রাখতে হবে।’